বাংলাদেশে কি সুষ্ঠ, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে? সেই সঙ্গে এই প্রশ্নটাও ঘোরাঘুরি করছে – ভারত কী বাংলাদেশে দ্রুত নির্বাচন দেখতে চায়? তদারকি সরকারের প্রধানমন্ত্রী মহম্মদ ইউনুস ঘোষণা করেছেন, আগামী ফেব্রুয়ারিতে তিনি নির্বাচন করতে বদ্ধপরিকর। নির্বাচন হবে সু্ষ্ঠু ও অবাধ। সেনাবাহিনীর তরফ থেকেও নাকি তাঁকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, নির্বাচনের ব্যাপারে তাদের দিক থেকে যা যা সাহায্য করা সম্ভব হবে, তারা সাহায্য করবে। বাংলাদেশের নির্বাচনে ভারতের ভূমিকাই বা কী?
ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ভোট হবে বলে তদারকি সরকারের তরফ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। মহম্মদ ইউনুস যখন লন্ডনে আসেন, সেই সময় তারেক রহমানের সঙ্গে তাঁর এই নিয়ে কথা হয়। বৈঠক হয়েছিল একটি হোটেলে। বৈঠকে তারেক আর মহম্মদ ইউনুস ছাড়া দ্বিতীয় কেউ ছিলেন না। সেই বৈঠকের পর ইউনুস জানিয়েছিলেন, ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ভোট হবে। নির্বাচন সংক্রান্ত রোড ম্যাপ প্রকাশ করা হয়েছে। ফেব্রুয়ারির কত তারিখ বাংলাদেশে ভোট হবে, সেটাও কিছুদিনের মধ্যে জানিয়ে দেওয়া হবে। নির্বাচন কীভাবে পরিচালিত হবে, নির্বাচনে সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং বিডিআরের ভূমিকা কেমন হবে, সেটা জানা যাবে আরও কয়েকদিন বাদে। কিন্তু অতীতে বাংলাদেশে যে ভাবে মৌলবাদ, জঙ্গিবাদ মাথা চা়ড়া দিয়েছিল, যুদ্ধের সময় যেভাবে নির্যাতন চলেছিল, সেই সব ঘটনা আবার নতুন মোড়কে ফিরে এসেছে। বিএনপি এবং বড় বড় দলগুলি বলছে, এই সরকার মব নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা রাখে না। যে সরকারের মব কালচার নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা নেই, সেই সরকার কী করে ১৮ কোটি মানুষের দেশে একট সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন করাতে পারবে। এই প্রশ্নটার যথেষ্ঠ যুক্তি রয়েছে। যদি তর্কের খাতিরে ধরে নেওয়া যায়, এই সরকার নির্বাচন চাইছে, তাহলেও এর পিছনের কারণটাও দেখতে হবে। তদারকি সরকার এবং তার প্রধান পিঠ বাঁচাতে চাইছে। মানুষের সঙ্গে মানুষের বন্ধুত্ব যেমন থাকে, মানুষের সঙ্গে মানুষের শত্রুতাও থাকে। অতীতেও ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে। তাই বলে কবর থেকে দেহ তুলে জ্বালিয়ে দেওয়ার মত এক বর্বর, পাশবিক ঘটনা কোনওদিন দেখতে হবে, বাংলাদেশর অতি শত্রুও তা কল্পনা করতে পারছে না। জীবীত মানুষের যেমন অধিকার রয়েছে, একজন মৃত ব্যক্তিরও সমান অধিকার রয়েছে। সেই অধিকার হল শান্তিতে থাকা। কিন্তু এই সরকারের আমলে কবরে শায়িত মানুষও শান্তিতে থাকতে পারছে না।
এই অবস্থায় বাংলাদেশে নির্বাচন – বিষয়টা সোনার পিতলা কলসের মতো। সে নির্বাচন নাকি আবার অবাধ ও সুষ্ঠ হবে। এ কথা পাগলেও বিশ্বাস করবে না। সাধারণ মানুষ তো পরের কথা। দ্বিতীয় বিষয়টি হল এই নির্বাচনে ভারত কী চায়? ভারত যেহেতু একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, ভোটে যেহেতু সব রাজনৈতিক দলের (নিষিদ্ধ বাদ দিয়ে) প্রতিদ্বন্দ্বিতার অধিকার সংবিধান দিয়েছে, তাই দিল্লি চাইবে বাংলাদেশের ভোটে সব রাজনৈতিক দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুক। সব মানুষ অবাধে যাতে তাদের নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারে, তদারকি সরকারকে সেটা নিশ্চিত করতে হবে। একমাত্র সেটা হলেই মৌলবাদ, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ, নৈরাজ্যবাদকে সমূলে বিনাশ করা সম্ভব হবে। বাংলাদেশ কিন্তু বিশ্বসন্ত্রাসবাদের মুঠোয় রয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ কিন্তু বিএনপি এবং তার সহযোগী দলের সঙ্গে নেই। তারা কিন্তু এখনও হাসিনার পাশেই রয়েছে। এবং নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠ হলে মানুষ হাসিনার দলকে দুহাত ভরে ভোট দেবে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post