এই কিছুদিন আগেও পাকিস্তানের সঙ্গে চিনের সম্পর্ক ছিল একেবারে হরিহর আত্মার সমান। সম্পর্ক এতটাই বন্ধুত্বপূর্ণ ছিল যে পাকিস্তান সে দেশের বন্দরকে বাণিজ্যিক স্বার্থে চিনকে উপঢৌকন হিসেবে তুলে দিয়েছিল। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এই দুইয়ের সম্পর্ককে বলা হত অল ওয়েদার ফ্রেন্ডস। মধুচন্দ্রিমা শেষ। এখন ইসলামাবাদের সঙ্গে বেজিংয়ের সম্পর্ক সাপে নেউলে। অনেকেই প্রশ্ন করতে পারেন, কোথায়, তেমন কিছু তো দেখা যাচ্ছে না। এই তো কিছুদিন আগে তিয়ানজিনে সাংহাই কোঅপারেশনের বৈঠকে গিয়েছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। তিনি চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিংপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। তাহলে গোলমাল কোথায়?
এই দৃশ্যটা সকলেই দেখেছেন, চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন একে অপরের হাত ধরে দাঁড়িয়ে আছেন। সেই সময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে দেখা গেল বেজার মুখে এক কোণায় দাঁড়িয়ে থাকতে। ক্যামেরা মিথ্যে বলে না। এই হিসেব নিকেশ পালটে দিয়েছে আন্তর্জাতিক সমীকরণ। এখন ইউনিপোলার রাজনীতির পরিবর্তে দেখা দিয়েছে মাল্টি পোলার রাজনীতি। এই মাল্টিপোলার রাজনীতির প্রভাব যেমন পাকিস্তানের ওপর পড়ছে, প্রভাব পড়ছে ভারত ও বাংলাদেশের ওপর।
পাকিস্তানের বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগ থেকে চিন মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। বেজিং ইসলামাবাদকে জানিয়ে দিয়েছে, তারা আর নতুন করে এই প্রকল্পে বিনিয়োগ করবে না। পাকিস্তান পড়েছে মহা ফ্যাসাদে। এমনকী সাংহাই কো-অপারেশনের বৈঠকে শাহবাজকে সেভাবে পাত্তা দেয়নি বেজিং। ফলে, ইসলামাবাদ জুড়ে একটি চিন বিরোধী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। ঝড় না হলেও হাওয়ার গতিবেগ বেশ ভালোই।
সুযোগ বুঝে আমেরিকা পাকিস্তানের দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকও পাকিস্তানের দিকে টাকার ঝুলি এগিয়ে দিয়েছে। চিন-ভারত-রাশিয়া এই ত্রিশক্তির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে পাকিস্তানে। বেজিং-ইসলামাবাদ ইকোনমিক করিডোর এখন বন্ধ হওয়ার মুখে। চিনের অর্থনীতি বর্তমানে যে খুব ভালো, তা কোনওভাবেই বলা যাবে না। সে দেশের জিডিপি ক্রমেই পড়ছে। ২০২১ থেকে পাকিস্তানে কর্মরত চিনা নাগরিকদের ওপর প্রাণঘাতী হামলা হয়েছে। ঘটনায় বেজিং রীতিমতো অসন্তুষ্ট। সে দেশে কর্মরত চিনা নাগরিকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে বেজিং। তার সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়ছে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে। তারই অঙ্গ হিসেব সাংহাই কো-অপারেশনের বৈঠকে শাহবাজ শরিফ যোগ দিতে গেলেও তার খুব একটা খাতির যত্ন করেনি বেজিং। চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিংপিং পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে কথা বলেছেন ঠিকই। তবে সাংহাই কো-অপারেশনের বৈঠকে নয়। দুইয়ের মধ্যে কথাবার্তা হয়েছে বেজিংয়ে, সাংহাই কো-অপারেশনের বৈঠক শেষ হওয়ার পর। যা পাকিস্তানের পক্ষে বেশ অস্বস্তির কারণ। পাশাপাশি এই বৈঠক থেকে ইসলামাবাদকে ঘুরিয়ে একটা বার্তাও দিয়ে রাখল বেজিং। এর পিছনে বড় কারণ, সিপিইসি প্রজেক্ট। এই প্রজেক্টের একটা বড় অংশ বালোচিস্তান প্রদেশে। এই বালোচিস্তান প্রদেশের বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে স্বাধীনতার দাবি জানিয়ে এসেছে। সেখানে চিন বিরোধী একটি মনোভাব তৈরি হয়েছে। বালোচিস্তান লিবারেশন আর্মি নিয়মিত চিনের বিভিন্ন প্রকল্পে নিয়মিত হামলা চালাচ্ছে। চিনের নাগরিকদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। তারা বিশ্বাস করে, চিন বালোচ নাগরিকদের শোষণ করে তাদের সম্পদ লুঠ করে নিচ্ছে। বালোচ জাতীয়বাদী গোষ্ঠীগুলি মনে করে চিনা বিনিয়োগ আসলে পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের একটা সম্প্রসারণ। তারা পাকিস্তানের দূর্বল অবস্থার সুযোগ নিতে শুরু করেছে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post