অশান্ত বাংলাদেশে নতুন বিপদ মব সন্ত্রাস বা উচ্ছৃঙ্খল জনতা নিজেদের হাতে আইন তুলে নিচ্ছে। হিংস্রতা ক্রমেই বা়ড়ছে। অন্তর্বর্তী সরকার একাধিকবার জানিয়েছে, তারা কোনওভাবেই এই হিংসা বরদাস্ত করবে না। কিন্তু তাতে চিত্রের খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। সম্প্রতির রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নুরাল পাগলা নামে পরিচিত নুরূল হকের মাজারে হামলা এবং কবর থেকে লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার মতো ন্যক্করজনক ঘটনা ঘটেছে। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ সাড়ে তিন হাজার ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেছে। সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক শিক্ষার্থীর ওপর ছুরি নিয়ে হামলায় চালায় কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতী। এমনকী কোথাও কোথাও পুলিশের ওপরেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান মহম্মদ ইউনুস দেশ শাসনের নামে ফ্রাঙ্কেনস্টাইন তৈরি করেছেন। আর এখন সেই ফ্রাঙ্কেনস্টাইন সরকারের মাথা ব্যথার কারণ হয়ে উঠেছে।
গত শুক্রবার রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে কয়েকশো মানুষ একটি দরবার শরিফে হামলা চালায়। নুরাল পাগলের মরদেহ কবর থেকে তুলে আগুনে পুড়িয়ে দেয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে নুরাল পাগল গোষ্ঠী এবং ইমান আকিদা রক্ষা কমিটির মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ ঘটে। ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয়। সাংবাদিক সহ ২২ জন আহত হন।
এই প্রেক্ষাপটে একটাই প্রশ্ন ঘোরাঘুরি করছে বারবার হুঁশিয়ারির পরেও কেন মব সন্ত্রাস বন্ধ হচ্ছে না। যাঁরা এই হিংসাত্মক ঘটনায় জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে সরকার কেন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীই বা কী করছে? গত অগাষ্টে একটি সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব) মহম্মদ জাহাঙ্গির আলম বলেন, মব জাস্টিস আর অনুমোদনযোগ্য নয়। অনেক হয়েছে। কারও কিছু বলার থাকলে তাকে আইনের আশ্রয় নিতে হবে।
এটা একপ্রকার যে চরম হুঁশিয়ারি, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। তারপরেও কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার মব সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। মব ভাওলেন্সের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়েছেন সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান। তিনি বলেছেন, সংঘব্ধ জনতার নামে কোনও বিশৃঙ্খলা সহিংসতা আর বরদাস্ত করা হবে না। সেনাবাহিনী এখন আইন-শৃঙ্খলায় আরও কঠোর অবস্থান নিচ্ছে।
তবে বাংলাদেশের সুশীল সমাজ মনে করে, মব সন্ত্রাসের বাড়বাড়ন্তের জন্য পুলিশ কিছুটা হলেও দায়ী। মব সন্ত্রাস সর্বশক্তি দিয়ে রোখার দায়িত্ব পুলিশের। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। ফলে, মব সন্ত্রাসীরা নির্বিবাদে অত্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশে নতুন করে অস্থিরতার পরিবেশ তৈরি করতে চাইছে। অন্তর্বর্তী সরকার জানিয়েছে ফেব্রুয়ারিতে ভোট করাতে তারা বদ্ধপরিকর। ভোট যাতে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, তার জন্য সরকার চেষ্টার ত্রুটি রাখবে না। অনেকের মতে, ভোটের আগে বাংলাদেশে একটা ভয় ভীতির পরিবেশ তৈরি করতে চাইছে স্বার্থাণ্বেষী গোষ্ঠী।
মব সন্ত্রাস এক ধরনের সামাজিক মহামারী। যা রাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা, ন্যায়বিচার এবং মানবাধিকার মৌলিক ভিত্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে। এটি দমন করতে গেলে কেবল কথাবার্তা নয়, প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। রুখতে হবে গুজব। ভোটের আগে পরিস্থিতি শান্ত করতে সরকার পারে কি না সেটাই এখন দেখার। সুষ্ঠু ভোট যদিও সরকারের লিটমাস্ট টেস্ট হয়, তাহলে মব সন্ত্রাসের মোকাবিলা করা সরকারের কাছে একটা বড় চ্যালেঞ্জ।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post