নিজে পাকা একজন ব্যবসায়ী। অথচ শুল্ক নীতি যে ব্যুমেরাং হতে পারে, সেটা একবারের জন্য বুঝতে পারেননি ডোনাল্ড ট্রাম্প। এখন গুন গুন করে গাইছেন – ‘দোষ কারও নয় গো মা, আমি স্বখাত সলিলে ডুবে মরি শ্যামা….’
এক শুল্ক নীতি কাছাকাছি এনে দিয়েছে ভারত-চিন-রাশিয়াকে। গত শুক্রবার সোশ্যাল মিডিয়ায় খেদের সঙ্গে লিখেছেন আমেরিকা ভারত ও রাশিয়াকে হারিয়ে ফেলেছে। হোয়াইট হাউসে পরে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের তিনি বলেন, ‘আমি রীতিমতো হতাশ এটা শুনে যে রাশিয়ার থেকে ভারত তেল কিনবে। আমি প্রধানমন্ত্রী মোদির বন্ধু। মোদি একজন যোগ্য প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু উনি এখন যেটা করছেন, সেটা আমার একেবারেই পছন্দ নয়। কারণ, আমেরিকার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক অত্যন্ত হার্দিক। তারপরেও বলব, এটা হয়তো সাময়িক। আশা রাখি সমস্যা মিটে যাবে।’ ট্রাম্পের এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে দিল্লিতে ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালের কাছে প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে তিনি কিছু বলতে অস্বীকার করেন।
তবে মার্কিন বাণিজ্য সচিব হোয়ার্ড লুটনিক জোরের সঙ্গে বলেন, ‘এক মাস বাদে বা দুই মাস বাদে ভারত সমঝোতায় আসতে বাধ্য হবে। বলতে হবে যা করেছে অন্যায় করেছে। ট্রাম্পের সঙ্গে ভারত সমঝোতায় যাবে। এখন ট্রাম্প কী করেন সেটাই দেখার। ’ তবে মার্কিন বাণিজ্য সচিব মুখে যাই বলুক না কেন, চিন-রাশিয়া-ভারত এক ছাতার তলায় আসায় ডনের হৃদকম্পন শুরু হয়ে গিয়েছে। আর মোদি এবং ট্রাম্পের মধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে বাকযুদ্ধ।
ট্রাম্প এবং মোদির সম্পর্ক এখন আর আগের মতো নেই। দুইজনের সামাজিক মাধ্যমে নানা রকম প্রতিক্রিয়া দিতে শুরু করেছেন। চিন-রাশিয়া-ভারত – এই তিন এক ছাতার তলায় আসায় শুধু মাত্র দিল্লি-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলেনি। প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের ওপরেও।
প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল এম শহীদুলের মতে, ‘আসলে ট্রাম্প মোদিকে চিনের দিকে ঠেলে দিয়েছে। অপর দিকে চিনও চাইছে যুক্তরাষ্ট্রকে ভারসাম্যে আনতে। পুতিন বিশ্বরাজনীতির কারণে তাঁর অবস্থান নিচ্ছেন। সেই সঙ্গে ট্রাম্পকে দিচ্ছেন কড়া বার্তা। ট্রাম্প একসময় যেটা পুশ করেছিলেন, সেটা এখন পুশব্যাক হয়ে ফিরতে শুরু করেছে। ’
অধ্যাক ড. ইমতিয়াজ আহমেদের মতে, ‘বাংলাদেশ ট্রাম্পের এই শুল্কে সুবিধেজনক অবস্থানে থাকলেও নতুন যে মাল্টিপোলার বিশ্বব্যবস্থার আওয়াজ উঠেছে, তাতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ জরুরী। সেটা নির্ভর করছে বাংলাদেশের সক্ষমতার ওপর। এর জন্য প্রয়োজন স্থিতিশীলতা। যেটার বড় অভাব রয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা চিন সফর করে এলেও বেজিং কিন্তু বাংলাদেশে এখনও বিনিয়োগের আশ্বাস দেয়নি। ’ বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ এম শহীদূল হক মনে করেন, ‘নতুন এই বিশ্বব্যবস্থার সঙ্গে বাংলাদেশের থাকার দরকার আছে। এটা এক ধরনের কূটনৈতিক দক্ষতা। পাকিস্তান এসসিও-তে আছে। তারাও যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র। আমাদের কূটনৈতিক দক্ষতার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক রেখেই নতুন ব্যবস্থায় যুক্ত হতে হবে। কারণ, বাংলাদেশের জন্য ওই সব বাজার ভীষণ প্রয়োজন। ’
বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাট্রেজিক স্টাডিজ এর অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবীর বলেন, ‘ট্রাম্পের শুল্ক নীতির কারণে বাংলাদেশ এখন সুবিধেজনক জায়গায় রয়েছে। ভারত ও চিনের তৈরি পোশাকের অর্ডার বাংলাদেশে আসতে শুরু করেছে। এর জন্য নতু করে কিছু করার দরকার নেই। আগে পোশাক তৈরির কারখানাগুলি তাদের সক্ষমতার ৬০ শতাংশ উৎপাদন করত। এখন পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারবে। ’
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post