মার্কিন শুল্ক নীতি এখন ট্রাম্পের কাছে বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ডন এখন বুঝতে পারছেন, তিনি ভারতের মতো একটা বড় দেশের বাজার হারাতে চলেছেন। প্রাক্তন মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বল্টন জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সম্পর্ক এখন অতীত। ভারতের একটি জাতীয় দৈনিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রাক্তন মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বলেন, ‘ট্রাম্পের সঙ্গে মোদির ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভালোই। তবে সেটা এখন অতীত। আর এটা সকলের কাছে একটা শিক্ষার। ’
ট্রাম্পের নজর গিয়ে পড়েছে এখন বাংলাদেশের ওপর। ইউনুস জানিয়েছেন তাঁর সরকার ফেব্রুয়ারিতে ভোট করাতে বদ্ধপরিকর। ভোট যাতে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, তার দায়িত্ব তাঁর সরকার নেবে। এদিকে, ট্রাম্প-মোদির তিক্ততার সুযোগে ইউনুসের পালাবার পথ প্রশস্ত হয়েছে। অন্যদিকে, হাসিনার সে দেশে ফেরার দিন ক্রমশ এগিয়ে আসছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠকের পর সাংবাদিক বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, বাংলাদেশের বিষয়টি তিনি প্রধানমন্ত্রী মোদির ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। গত কয়েক মাসে ট্রাম্প অন্যরমক ভাবনা চিন্তা করেছেন। মোদি চাইছেন, বাংলাদেশে ইউনুস শাসনের অবসান। নির্বাচন হোক সুষ্ঠু ও অবাধ। ট্রাম্প চাইছেন, আওয়ামী লীগকে বাদ রেখে নির্বাচন। এখন মোদি এবং ট্রাম্পের সম্পর্ক তিক্ততা অনেকটাই কমতে চলেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের রাজনীতিতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে না। ভারতকে এই অঞ্চলের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ করে দেবে। প্রধানমন্ত্রী মোদি বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে রীতিমতো উদ্বিগ্ন। অন্যদিকে, ভারত-মার্কিন সম্পর্ক এখন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়েছে। এই অবস্থায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান বেশ চমকপ্রদ।
বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে মোদি এবং ট্রাম্প দুজনেই ভিন্ন মেরুতে অবস্থান করছেন। দিল্লি জানিয়ে দিয়েছে, ঢাকার সঙ্গে তখনই আলোচনার টেবিলে বসবে যখন সে দেশে জণগনের ভোটে নির্বাচিত একটি সরকার ক্ষমতায় আসীন হবে। এপ্রিলে ইউনুসের সঙ্গে বৈঠকে মোদি কাটা কাটা কথায় জানিয়ে দেন, এমন কোনও বক্তব্য রাখবেন না যা বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারে একাধিকবার দেখা গিয়েছে ইউনুসের বিপক্ষে সুর চড়াতে। বাংলাদেশে অরজাকতা, সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার, মব সন্ত্রাসকে একেবারেই ভালো চোখে দেখছেন না। তবুও ট্রাম্পের ইচ্ছা বাংলাদেশে ভোট হোক আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে। ট্রাম্পকে এও বলতে শোনা যায়, যে তিনি ক্ষমতায় থাকলে অবশ্যই কোনও পদক্ষেপ করতেন। আওয়ামী লীগ নেতারা আশা করেছিলেন, ট্রাম্পের জয় তাদের ক্ষমতায় ফেরার পথ প্রশস্ত করবে। ট্রাম্পের জয়ের পর হাসিনা তাঁকে একটি অভিনন্দন বার্তা পাঠান। পালটা বার্তা পাঠান ট্রাম্পও। কিন্তু পরিস্থিতি এখন বদলেছে। ইউনুসের কাঁধে ভর দিয়ে চলতে গিয়ে দিল্লিকে চটিয়েছেন হোয়াইট হাউজের ডন। আমেরিকার চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স জ্যাকবসন হঠাৎ সক্রিয় হয়ে ওঠেন। ভারত চায় ইউনুসের অবৈধ সরকারের অবসান। দেশে ক্ষমতায় আসীন হোক জণগনের ভোটে নির্বাচিত একটি সরকার। এটা শুধু ভারতের একক চাওয়া নয়। চিন ও রাশিয়াও এই বিষয়ে ভারতের পাশে রয়েছে। এর ফলস্বরূপ ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদির দূরত্ব বাড়ছে। চাপে পড়ে গিয়েছ বাংলাদেশ। ভারত কূটনৈতিকভাবে বাংলাদেশের ওপর চাপ তৈরি করছে। এই প্রসঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের ভূমিকাও রয়েছে। আমেরিকা এমন একজনকে ঢাকায় রাষ্ট্রদূত করে পাঠিয়েছেন, যার বাংলাদেশের বিষয়ে অভিজ্ঞতা রয়েছে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post