‘আমার ভিতর ও বাহিরে অন্তরে অন্তরে, আছো তুমি, হৃদয় জুড়ে’
হাসিনা নিয়ে বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মনের অবস্থা বোঝাতে গেলে এই গানের বিকল্প কিছু হতে পারে বলে মনে হয় না। মহম্মদ ইউনূস চক্রান্ত করে একটি নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেশ শাসনের ভার হাতে নিয়েছেন। কিন্তু মানুষের মন তিনি জয় করতে পারেননি। কোনও দিন পারবেন, একথা ভূতেও বিশ্বাস করবে না। তদারকি সরকারের প্রধান বলেছেন, ফেব্রুয়ারিতে তিনি ভোট করাতে বদ্ধপরিকর। কিন্তু আওয়ামী লীগ যাতে ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে না পারে, তার জন্য চেষ্টার ত্রুটি রাখেননি। এত কিছু করেও দেশবাসীর মন থেকে হাসিনাকে মুছে দিতে পারেননি।
হাসিনা নামটা সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশবাসীর কাছে একটা আবেগ। মুজিবুরের জন্ম না হলে স্বাধীন বাংলাদেশের আত্মপ্রকাশ কোনওভাবেই সম্ভব ছিল না। দেশকে স্বাধীন করার জন্য মুজিবকে জীবন দান করতে হয়েছে। হাসিনাকে শেষ করতে পাকিস্তানের হার্মাদ বাহিনী কম চেষ্টা করেনি। কিন্তু কপাল জোরে বেঁচে যান হাসিনা। তাই, বঙ্গবন্ধুর যে স্বপ্ন পূরণ করতে পারেনি, তাঁর কন্যা সেই স্বপ্ন পূরণের আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। আর গণতন্ত্রবাদ তার মধ্যে অন্যতম। বাংলাদেশকে গণতন্ত্রের প্রথম স্বাদ পাইয়ে দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। সেটা বজায় রেখেছিলেন তাঁর কন্যা। কিন্তু ইউনুস এসে বাংলাদেশের বাতাবরণ বিষাক্ত করে তুলেছেন। গণতন্ত্র কবরে পাঠিয়েছেন। দেশবাসীকে তাঁর সরকারের উপহার মব সন্ত্রাস। কবর থেকে লাশ তুলে জ্বালিয়ে দেওয়ার মতো নক্ক্যারজনক ঘটনা সাক্ষী থেকেছে সোনার বাংলা।
সেনাবাহিনীর সঙ্গে একসময় ইউনূস এবং তাঁর সরকারের মাখো মাখো সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্ক ক্রমেই ফিকে হতে শুরু করেছে। ইউনূস বুঝতে পেরেছেন বিপদ এখন দোরগোড়ায়। মানে মানে কেটে পড়তে পারলে নিজের মঙ্গল। কিন্তু পালাবেন কীভাবে, তার পথ খুঁজে পাচ্ছেন না। তাই, ভারতের সাহায্য চেয়েছেন।
সূত্রের খবর, হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করছে ভারত। হাসিনার আমলে ঢাকার সঙ্গে দিল্লির সম্পর্ক ছিল হার্দিক। এখন তা তলানিতে ঠেকেছে। দিল্লি চাইছে ইউনূস সরকারের অবসান। বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হোক জনগণের ভোট নির্বাচিত একটি সরকার। চাইছে, ভোটে সব দলের অংশগ্রহণ। বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ চাইছে, এই নৈরাজ্যের অবসান হোক। দেশে ফিরুক বঙ্গবন্ধু কন্যা। সেটা কীভাবে সম্ভব, তা নিয়ে তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনায় ব্যস্ত।
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থাকে অনেকেই হীরক রাজার দেশের সঙ্গে তুলনা করছেন। যেখানে রাজাই শেষ কথা। রাজার নিজস্ব পারিষদবর্গ যাতে দুধে-ভাতে থাকতে পারে, সেটা নিশ্চিত করাই এখন ইউনুস সরকারের প্রধান কর্তব্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইনের শাসন নেই। ক্রমেই মাথা চাড়া দিচ্ছে উগ্রবাদ, ধর্মীয় মৌলবাদ। হাসিনার শাসনামলে যারা মাথা তোলার সাহস করত না, আজ তারা মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে। চলছে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন শোষণ। সে দেশ ছেড়ে মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। এই অবস্থায় বাংলাদেশে কান পাতলে শোনা যাবে হীরক রাজার দেশের সেই বিখ্যাত স্লোগান – দড়ি ধরে মারো টান, রাজা হবে খান খান। ছবির শেষ দৃশ্যের কথা নিশ্চই সকলের মনে আছে। শেষ দৃশ্যে দেখা যায় মাঠের ভিতর দিয়ে হীরক রাজা দৌড়াতে দৌড়তে হাঁপাতে হাঁপাতে বলছেন দড়ি ধরে মারো টান, রাজা হবে খান খান।












Discussion about this post