বছর ঘুরলে বাংলাদেশে নির্বাচন। অন্তত তদারকি সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূস তেমনটাই জানিয়েছেন। হাসিনার দল আওয়ামী লীগ যাতে আসন্ন ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে না পারে, তার জন্য আদাজল খেয়ে মাঠে নেমেছেন। অন্যদিকে হাসিনার দল কৌশল বদলে ফেলেছেন। তারা এনসিপির ছাত্রনেতাদের সামনে রেখে ভোটে লড়বেন হাসিনা। সূত্রের খবর তেমনই। কিন্তু কেন হাসিনা এই সিদ্ধান্ত নিলেন, তা নিয়ে সব মহলেই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে পড়ুয়ারা আগাগোডাই বিশেষ ভূমিকা পালন করে এসেছে। বর্তমানে সে দেশের রাজনীতিতে এনসিপির ভূমিকা নিয়ে কোনও প্রান্ত থেকে এখনও প্রশ্ন ওঠেনি। বিএনপি এবং তার সহযোগী দলের ভূমিকা নিয়ে বাংলাদেশের একাংশ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অনেকে মনে করছে, বিএনপি ক্ষমতায় আসা মানে, আমেরিকার স্বার্থ রক্ষা। বাংলাদেশের লাভের লাভ কিছুই হবে না। এই অবস্থায় এনসিপি জনমানসে একটি পৃথক জায়গা করে নিতে পেরেছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যে সেটা স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, এনসিপি হল ইনসাফের পক্ষে। ইনসাফের পক্ষে যে আছে, জাতীয় নাগরিক পার্টি তাঁর পাশে থাকবে। সত্যের পক্ষে সবাইকে এক হতে হবে। প্রতিটি গ্রাম মহল্লা ইউনিয়নভিত্তিক সবাইকে এক হয়ে অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে।
জামাত, এনসিপির শর্তে চাপে বিএনপি। দুটি দলই জানিয়েছে, জুলাই সনদ কার্যকর করতে হবে। বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করছেন, ভোটের রাজনীতিতে যেহেতু ভালো অবস্থান বা সেভাবে সম্ভাবনা তৈরি করা যায়নি, সে জন্য আসন সমঝোতা নিয়ে বিএনপির ওপর চাপ তৈরির কৌশল নিতে পারে এনসিপি।
হাসিনার দল আওয়ামী লীগ বুঝতে পেরেছে, এনসিপি দেশবাসীর মনে একটা স্বচ্ছ ভাবমূর্তি তৈরি করতে পেরেছে। তারা বিএনপিকে নিয়ে যেমন বাংলাদেশ আড়াআড়িভাবে বিভক্ত, তেমন আওয়ামী লীগকে নিয়ে দেশবাসীর মধ্যে একটা মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। তবে সে দিক থেকে এনসিপি বেশ মজবুত অবস্থানে রয়েছে। তাদের এই অবস্থানকে হাসিনার দল কাজে লাগাতে চাইছে। আসন্ন ভোটে তাদের মূলধন কিন্তু এনসিপির স্বচ্ছতা।
এনসিপি ইতিমধ্যে একটি সমীক্ষা চালিয়েছে। সমীক্ষায় তারা দেশবাসীর কাছে জানতে চেয়েছে কী ধরনের রাজনীতি মানুষ তাদের থেকে আসা করে? কোন কোন বিষয়ে তারা প্রাধান্য দেবে? দলের প্রথম সারির নেতা আখতার হোসেন জানিয়েছেন, আমাদের লক্ষ্য সব মানুষের সমানাধিকার। একটি দুর্নীতিমুক্ত দেশ গঠন। দেশবাসীকে একটি স্বচ্ছ প্রশাসন উপহার দেওয়া। মানুষের সার্বিক উন্নতি আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।
হাসিনা এবং তাঁর দল জানেন, তদারকি সরকার এবং নির্বাচন কমিশন কোনওভাবে তাঁকে এবং তাঁর দলের প্রার্থীদের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে দেবে না। সুতরাং, ভোটে লড়াই করতে গেলে একমাত্র উপায় কমিশনকে ঘুরিয়ে নাক দেখানো। এই ক্ষেত্রে তারা পাশে পেতে পারে এনসিপিকে। এনসিপি আগে দাবি করেছিল তারা পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন চায়। যদিও এখন তারা সেই দাবি থেকে সরে এসেছে। তারা বলছে, মানুষ যদি চায় তাহলেই তারা কমিশনকে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের জন্য চাপ দেবে। এনসিপির এক নেতার কথায়, নতুন সংবিধান, সংস্কার ও বিচারের বিষয়ে পাশ কাটিয়ে সরকার এখন নির্বাচনকে একমাত্র অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছে। সে কারণে কিছুটা হলেও সমস্যা তৈরি হয়েছে। তবে বিএনপির সঙ্গে এনসিপির ক্রমেই দূরত্ব তৈরি হচ্ছে। সেটাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে চাইছেন হাসিনা এবং তাঁর দল আওয়ামী লীগ।












Discussion about this post