দুর্গাপুজোর মুখে কলকাতায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর সঙ্গে থাকবেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল, চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ অনিল চৌহান, প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ সিং। এই পাঁচ হেভিওটের সফর ঘিরে তৈরি হয়েছে প্রবল কৌতুহল। আর আসছেন এমন সময় যখন ভারতের দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশ এবং নেপালে চলছে চূড়ান্ত অস্থিরতা। জানা গিয়েছে, ফোর্ট উইলিয়ামে সেনাবাহিনীর একটি অনুষ্ঠান রয়েছে। সেই অনুষ্ঠানে যো দিতেই প্রধানমন্ত্রী মোদি, তাঁর প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাকে নিয়ে কলকাতায় আসতে চলেছেন। কেউ মনে করতে পারছে না, প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বভার গ্রহণের পর নরেন্দ্র মোদি ফোর্ট উইলিয়ামে সেনাবাহিনীর কোনও অনুষ্ঠানে এসেছিলেন কি না। স্বাভাবিকভাবেই এই সফর ঘিরে কৌতুহলের পারদ ক্রমেই চড়তে শুরু করেছে।
জানা গিয়েছে, ১৫ সেপ্টেম্বর ফোর্ট উইলিয়ামে শুরু হচ্ছে সেনাবাহিনীর অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠান তিন দিনের, চলবে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। সেনাবাহিনীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদির বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে। এখন প্রশ্ন হল, সেনাবাহিনী অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্য নিয়েই কী মোদি কলকাতায় আসছেন। আপাত দৃষ্টিতে তেমন মনে হলেও কারণ কিন্তু অন্য। আর মোদির এই সফরের খবর শুনে শুকিয়ে কাঠ হয়ে গিয়েছেন বাংলাদেশের তদারকি সরকার প্রধান মহম্মদ ইউনূস। একটা বিষয় কিন্তু স্পষ্ট। শুধুমাত্র সেনার অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে মোদি কলকাতায় আসছেন না। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সফরের বাড়িত গুরুত্ব রয়েছে। দেশের পূর্ব সীমান্ত, বিশেষ করে বাংলাদেশ এবং উত্তরপূর্ব রাজ্যগুলির পরিস্থিতি এই মুহূর্তে বেশ উত্তাল। বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন অব্যাহত। এর আগে তাইল্যান্ডে ইউনূসের সঙ্গে নমোর বৈঠক হয়েছিল। সেই বৈঠকেও কিন্তু সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের ইস্যুটি ওঠে। হিন্দুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপন করেন মোদি। তারপর গঙ্গা ও পদ্মা দিয়ে অনেক জল গড়িয়েছে। ক্ষমতা থেকে সরে যেতে হয়েছে হাসিনাকে। তদারকি সরকার জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে ভোট হচ্ছেই। তবে হাসিনার দল ক্ষমতায় ফের বহাল হতে পারে কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। অপরদিকে হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে প্রস্তুতি শুরু করেছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। এই অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী মোদি, তাঁর প্রতিরক্ষামন্ত্রী, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা, চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ এবং প্রতিরক্ষা সচিবকে নিয়ে কলকাতার ফোর্ট উইলিয়ামে আসতে চলেছেন। বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় উত্তর-পূর্বের সীমান্ত সুরক্ষা। দিল্লি থেকে ইতিমধ্যে রাজ্য প্রশাসনকে মোদির সফরের ব্যাপারে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহকেও অস্বীকার করা যাচ্ছে না। কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা বেশ কয়েকটি ইস্যুতে বিভিন্ন ইস্যুতে তল্লাশি চালিয়েছে। অনেকে মনে করছেন, আগামীদিনে দুর্নীতি ইস্যুতে রাঘব বোয়ালরা এখনও ধরা পড়েনি। তাহলে কী রাঘব বোয়ালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বার্তা দিতেই প্রধানমন্ত্রী মোদি তাঁর ক্যাবিনেটের এক হেভিওয়েট নেতাকে নিয়ে ফোর্ট উইলিয়ামে আসতে চলেছেন? তবে এসব কিছুর ওপরে রয়েছে বাংলাদেশ। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছে, দিল্লির কাছে এখন প্রথম প্রাধান্য বাংলাদেশ, দ্বিতীয় নেপাল।
গত মে মাসে দিল্লিতে বাহিনীর পদস্থকর্তাদের সঙ্গে এক দফা বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং ছাড়াও ছিলেন তিন বাহিনীর প্রধান এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল। সেই বৈঠকের চার মাসের মাথায় এবার বাহিনীকে নিয়ে হাইভোল্টেজ বৈঠকে বসতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। এই বৈঠকের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন স্বয়ং ইউনূস।












Discussion about this post