বাঙালির সেরা উৎসব দুর্গাপূজা, তবে তার আগে মহালয়ায় কলকাতায় আসবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, মহালয়ার পরদিন তিনি দুটি পূজোর উদ্বোধন করবেন ।গত বছর দুর্গোৎসবের সময় বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা কলকাতা ও হাওড়ার দুটি পুজো উদ্বোধন করেছিলেন।
আমিত শাহের কলকাতা আসার বিষয়টিকে কেন্দ্র করে নড়েচড়ে বসেছে বঙ্গ বিজেপি। অন্দরমহলের খবর, আমিত শাহ রাজ্যে আসার আগেই প্রকাশ্যে আসতে চলেছে বঙ্গ বিজেপির নতুন রাজ্য কমিটি।
ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখেই বাংলার দুর্গোৎসবকে রাজনৈতিক কৌশলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চলেছে বিজেপি।
পাশাপাশি, নতুন রাজ্য কমিটি গঠনের পর অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনাও করছে বঙ্গ বিজেপি। শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতিতে দলের সাংগঠনিক দিক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিতে চান শমীক ভট্টাচার্য।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বঙ্গে তিনবার সভা করে গিয়েছেন। তিনি ফের একবার পুজোর মুখেই আসতে পারেন বলে জানা গিয়েছে, তবে তা নিয়ে এখনো স্পষ্ট করে কিছু জানা যায়নি।
আগস্ট মাসেই বঙ্গে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নারেন্দ্র মোদি। বিকেল ৪ টে বেজে ৫ মিনিট নাগাদ দমদম বিমানবন্দরে নামেন । তারপর কলকাতায় মোট তিনটি মেট্রো রুটের উদ্বোধন করেন তিনি এবং দমদমে একটি রাজনৈতিক সভা করেন নরেন্দ্র মোদি।
নরেন্দ্র মোদির বঙ্গ শহরের বক্তৃতাতে বারে বারে মা দুর্গা, মা কালী শোনা গেছিলো।এবারের দুর্গোৎসবও কার্যত রাজনীতির এক বড় সংঘাতের মঞ্চ হয়ে উঠতে চলেছে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
২০২৩ সালে লোকসভা ভোটের আগে অমিত শাহ শেষবার কলকাতায় দুর্গাপুজোর উদ্বোধনে এসেছিলেন।
একদিকে অমিত শাহ ও বিজেপি সাংস্কৃতিক আবেগকে আঁকড়ে ধরতে চাইছে, অন্যদিকে তৃণমূল তাদের প্রভাবশালী সাংস্কৃতিক শক্তিকে আরও মজবুত করতে চাইছে। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই সাংস্কৃতিক লড়াইয়ের প্রভাব সরাসরি রাজনীতির ময়দানেও পড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এবারের দুর্গোৎসব শুধুমাত্র আনন্দ-উৎসব নয়, বরং বাংলার রাজনীতির ভবিষ্যৎ সমীকরণের দিক থেকেও তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে চলেছে। অমিত শাহের সফর তাই স্বাভাবিকভাবেই নজরে রাখবে গোটা রাজ্য।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজেপি দীর্ঘদিন ধরেই পশ্চিমবঙ্গে শক্ত ঘাঁটি গড়তে চাইছে। যদিও তৃণমূলের সাংস্কৃতিক রাজনীতির সামনে তারা বহুবার ব্যর্থ হয়েছে।
গত বিধানসভা নির্বাচনে ৭৭ টি আসন জিতেছিল বিজেপি। এর পরবর্তীতে একাধিক বিধায়কের দলবদল করার জন্য বাংলায় আসন সংখ্যা কমেছে পদ্মশিবিরের। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে আসন বাড়াতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বিজেপি। বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক এবং রাজ্য নেতৃত্ব সূত্রের খবর যে, ২০২৫ সালে প্রত্যেক সাংগঠনিক বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর একটি করে জনসভা হবে। ইতিমধ্যেই তিনটি সভা করেছেন মোদি। পুজোর পর থেকেই জোরকদমে চলবে প্রচার। জানা গিয়েছে মোদি ও শাহ একাধিক বৈঠক করবেন বাংলায়। যদিও সফরের দিনক্ষণ এখনও নিশ্চিত ভাবে ঘোষণা করেনি বিজেপি।












Discussion about this post