ব্যাপক বিক্ষোভ এবং হিংসাশ্রয়ী ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি বাধ্য হয়ে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। বর্তমানে দেশের নিরাপত্তা দায়িত্ব নিয়েছেন সেনাবাহিনী। তবে ওলি কোথায় গিয়েছেন, তা স্পষ্ট নয়। কোথায় গিয়েছেন, সেটাও জানা যাচ্ছে না। তবে সেনা প্রধানের সঙ্গে ওলির একটি বৈঠক হয়েছে। তিনি পদত্যাগ করতে রাজি আছেন। তবে তাকে সেফ প্যাসেজ দিতে হবে। তিনি দুবাই চলে যেতে চাইছেন। সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, নেপালের হিমালয়ান এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তাদের বিমানে করেই দেশ ছেড়ে পালাতে চাইছেন ওলি।
এএফপির একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীরা চারবারের প্রধানমন্ত্রী ও কমিউনিস্ট পার্টির নেতা কেপি শর্মা ওলির বাড়িতে হামলা চালায়। জ্বালিয়ে দেয় তাঁর বাড়ি। হামলার হাত থেকে রক্ষা পায়নি প্রধানমন্ত্রীর দফতর। পরে ওলি পদত্যাগ করলেও নেপাল এখনও শান্ত হয়নি। কাঠমাণ্ডুতে এখনও ধোঁয়ার কুন্ডুলি দেখা যাচ্ছে। রাস্তায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে পুড়ে যাওয়া টায়ার, গাড়ির অবশিষ্টাংশ।
বাংলাদেশের অস্থির পরিস্থিতির সঙ্গে নেপালের অস্থির পরিস্থিতির বেশ মিল রয়েছে। নেপাল সরকারের সিদ্ধান্ত সে দেশের ছাত্র-যুবদের মাঠে নামতে বাধ্য করে। তবে বিষয়টা এতটা সহজভাবে ভাবার দরকার নেই। প্রশ্ন হল, আরও একটা পালাবদলের সাক্ষী থাকতে চলেছে হিমালয়ের কোলে থাকা এই পার্বত্য দেশটি। যেভাবে ডিপ স্টেট সিআই এবং পাকিস্তানের সাহায্যে বাংলাদেশকে নরকে পরিণত করেছিল, ঠিক সে ভাবেই কি নেপালকে নরকে পরিণত করতে চাইছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরকার। পাকিস্তান এবং সিআইয়ের এজেন্টদের টার্গেট হয়ে উঠেছে নেপাল?
নেপাল কিন্তু আইএসআইয়ের কাছে একটা স্বর্গরাজ্য। সাম্প্রতিক অতীতে একাধিক রিপোর্ট এসেছে, যেখানে বলা হচ্ছে কাঠমাণ্ডুকে খুব সহজেই হাতের কাছে পাওয়া যায়। নেপাল থেকে নানা ধরনের বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যকলাপ সংঘটিত করার কথা ভাবছে একাধিক জঙ্গি সংগঠন। প্রধানমন্ত্রী পদে ওলির ইস্তফা শুধুমাত্র কি তরুণ প্রজন্মের আন্দোলনের জেরে, নাকি এর পিছনে বড় কোনও খেলা রয়েছে?
ভারত সরকারের তরফ থেকে একটি বিবৃতি জারি করা হয়েছে। সাউথব্লক জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতির দিকে নজর রেখেছে। নেপাল সীমান্তকে সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা করছে। বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করার জন্য গত ছ থেকে আট মাস ধরে চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছে। সরকার কিন্তু অনেক আগেই দেশ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।
অশান্ত নেপাল কিন্তু মহম্মদ ইউনূসের কাছেও একটি বার্তা। ভারতের জন্য এটি একটি অশনি সংকেত। কিন্তু এত আন্দোলন কীসের জন্য? শুধুমাত্র কয়েকটি সামাজিক মাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য একটা দেশে ক্ষমতার পালাবদল ঘটে গেল? ঘটনার পিছনে অনেকই আমেরিকার হাত দেখতে পাচ্ছেন। সেটা কেমন, একটু সবিস্তারেই বলা যাক।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে লড়াই করে জাপানের প্রধানমন্ত্রী বাণিজ্যচুক্তি করেছিলেন। জাপান কথা দিয়েছিল আমেরিকাতে তারা ৫৫০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে। সেই বাণিজ্যচুক্তিতে ট্রাম্প এমন কিছু জোর করে চাপিয়ে দিয়েছিলেন, যা জাপানের পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব ছিল না। দেশবাসী মনে করে, জাপানের প্রধানমন্ত্রীর লড়াই করার ক্ষমতা নেই। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী লড়াই করার চেষ্টা চালিয়ে যান।একসময় তাঁকে ইস্তফা দিতে হয়।
আসলে ক্ষমতায় পালাবদল ঘটানো আমেরিকার পুরনো একটা কৌশল। তারা ভেনেজুয়েলাকে টার্গেট করেছে। অনেকের মতে, নেপালের এই পালাবদল সিআইয়ের চক্রান্তের ফল। প্রশ্ন উঠছে, দক্ষিণ এশিয়ার কোন দেশ আগামীদিনে আমেরিকার লক্ষ্য হয়ে উঠতে চলেছে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post