তফাৎ বহু। পতাকার মিল নেই। স্লোগানের মিল নেই। বাকিটা শুধু মিলে মিশে একাকার। জনতার স্বতস্ফূর্ত বিক্ষোভ। শাসক প্রথমে অনড় ছিল। কিন্তু জনতার আন্দোলনের চাপে পড়ে সরকার ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হয়। পরে পালিয়ে প্রাণ বাঁচায়। ভারতের প্রতিবেশী নেপালে গণ অভ্যুত্থানের জেরে হল ক্ষমতাবদল। প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি ইস্তফা দিয়েছেন। তারপরে পরেই সেনাবাহিনী ক্ষমতা হাতে নিয়েছে। প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পাওদেল বিক্ষোভকারীদের আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে প্রেসিডেন্ট এক বিবৃতিতে বলেন, একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নাগরিকদের উত্থাপিত বিষয়গুলি আলোচনা ও কথাবার্তার মধ্য দিয়ে সমাধান করা যায়। যেখানে জেন-জি প্রতিনিধিরাও থাকতে পারেন। একই বার্তা দিয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল অশোক রাজ সিগদেল। সেনাপ্রধান বলেন, জাতীয় ঐক্য এবং ভৌগলিক অখণ্ডতা রক্ষায় সেনাবাহিনী প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিক্ষোভে ব্যাপক প্রাণহানি হয়েছে। ক্ষতি হয়েছে জাতীয় সম্পদের। যদিও প্রেসিডেন্ট পাওদেল এবং সেনাপ্রধান অশোকের আহ্বানে সাড়া দিতে নারাজ জেন জি। আর এই সুযোগে নেপাল জুড়ে চলছে লুঠতরাজ।
প্রধানমন্ত্রী আগে বলেছিলেন যে সব সোশ্যাল মিডিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, সেই সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে না। পরে অবশ্য সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। তবে কার্ফু এখনও রয়েছে। নেপালের প্রধানমন্ত্রীর ইস্তফা ও দেশ ছাড়ার ঘটনা মনে করিয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হাসিনার কথা। গণ অভ্যুত্থানের জেরে দেশ ছেড়ে পালান বঙ্গবন্ধু কন্যা। বিশেষ বিমানে বোন রেহানাকে নিয়ে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন। অন্যদিকে নেপাল সেনা জানিয়েছে, লুঠপাট চালালে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। বুধবার সে দেশের পাবলিক রিলেশনস অ্যান্ড ইনফরমেশন ডিরেক্টরেটের একটি বিবৃতিতে নেপাল সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বর্তমানে জারি করা নিষেধাজ্ঞা বুধবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত জারি থাকবে। বৃহস্পতিবার ১১ সেপ্টেম্বর সকাল ৬টা থেকে কার্যকর হবে কার্ফু। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে। গতকাল রাতে তিনি সেনাপ্রধান জেনারেল অশোক রাজ সিগদেল জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন। তিনি বলেন, ‘নেপালের ইতিহাসের শুরু থেকেই সেনাবাহিনী কঠিন পরিস্থিতিতে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, ভৌগলিক অখণ্ডতা, জাতীয় একতা এবং জনগণের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থেকেছে।’
এখনও পর্যন্ত পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয়েছে ১৯জনের। যার জেরে বিক্ষোভ বড় ধরনের আন্দোলনে বদলে যায়। নেপাল সেনাবাহিনী জানিয়েছে, কিছু গোষ্ঠী বর্তমান কঠিন পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছে। তারা সাধারণ মানুষ এবং জনসম্পত্তির বড় ধরনের ক্ষতি করছে। প্রতিবাদের নামে যে কোনও বিক্ষোভ, ভাঙচুর, লুঠপাট, অগ্নিসংযোগ, ব্যক্তি বা সম্পদের ওপর হামলা বরদাস্ত করা হবে না। প্রয়োজনে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে। নাগরিক, সাংবাদিক সহ সবাইকে কেবল সরকার তথ্যে আস্থা রাখতে বলা হচ্ছে।
যদিও বাহিনীর এই বার্তায় পিছু হঠতে নারাজ বিক্ষোভকারীরা। হিংসার তাণ্ডব থেকে বাঁচেনি পশুপতিনাথ মন্দির। সেখানেও অবাধে লুঠপাটের চেষ্টা চলে। কিন্তু সেনাবাহিনীর সক্রিয়তায় সেটা সম্ভব হয়নি। মঙ্গলবার বিক্ষোভকারীরা পু়ড়িয়ে দেয় সংসদ ভবন। জ্বালিয়ে দেয় প্রধানমন্ত্রীর দফতর, তাঁর বাসভবন। একাধিক মন্ত্রীর বাড়ি। মঙ্গলবার রাতে বিক্ষোভকারীরা কমপ্লেক্সের ভেতরে আগুন লাগানোর চেষ্টা করে। পশুপতিনাথ মন্দিরের গেটে ভাঙচুর চালায়। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী সেখানে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। মন্দিরের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেয়। মন্দির সংলগ্ন গোশালা চকেও সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। নেপালের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র লুম্বিনীর গৌতম বুদ্ধ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও হামলা চলে।












Discussion about this post