বাংলাদেশে বিএনপির যে কোনও ক্ষমতা নেই, সেটা ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে, ছাত্র শিবিরের এই বিপুল জয়ের নেপথ্য কারিগর আওয়ামী লীগ নয়তো? তাদের হাত থাকার সম্ভাবনা একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ছাত্র লীগ কি হাতে হাত গুটিয়ে বসেছিল? এই ভোটের ফলাফল থেকে একটা বিষয় স্পষ্ট হতে শুরু করেছে, বাংলাদেশে ফিরতে চলেছে হাসিনা রাজ। আওয়ামী লীগ কিন্তু ছাত্র শিবিরের ফলাফল নিয়ে কিন্তু তেমন কোনও গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেনি। ছাত্র শিবিরের জয় কিন্তু নতুন একটি পথের হদিশ দিয়েছে। এর পর আগামীদিনে আরও বড় কোনও অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
যারা ভেবেছিলেন বিএনপি সমর্থিত ছাত্র সংগঠন বিপুল ভোটে জয়লাভ করবে, তাদের মুখে ঝামা ঘসে দিয়েছে ছাত্র শিবির। তারেক রহমান, খালেদা জিয়া বিস্মিত। অনেকে মনে করছে, ক্রস ভোটিং হয়েছে। বিএনপি সমর্থক অনেকেই ছাত্র শিবিরকে ভোট দিয়েছে। এই নিয়ে কোনও দ্বিমত নেই। জাতীয় পার্টির বৈষম্য বিরোধী ছাত্রদের সব হিসেব উলটে গিয়েছে। তারা একবারের জন্য অনুমান করতে পারেনি, যে এরকম একটা অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হবে।
এদিকে, আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর কলকাতার ফোর্ট উইলিয়ামে হাই ভোল্টেজ বৈঠকে বসতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী। ইতিমধ্যে বাতাসে ভাসেত শুরু করেছে, বাংলাদেশের বিষয়ে একটা বড় কোনও সিদ্ধান্ত গৃহীত হতে চলেছে এই বৈঠকে। সেনাবাহিনী কিন্তু মানসিকভাবে প্রস্তত। তারাও মনে করছে, ১৫ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে তাদের ওপর নতুন করে কোনও দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া হবে।
এদিকে, সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ্জামান এখন বেসুরে গান গাইছেন। বলছেন, তিনি মুক্তিযু্দ্ধের পক্ষে, মুক্তি যোদ্ধাদের পক্ষে। ভারত কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষেই থাকবে। এর কারণ বিশ্লেষণ করতে গেলে দেখা যাবে, ১৯৭১-য়ে ভারতের প্রায় সাড়ে তিন হাজার সেনা মুক্তিযুদ্ধে জীবন বলিদান দিয়েছেন। সুতরাং, ভারত যে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে থাকবে, তা বলাই বাহুল্য। কোনওরকমভাবে ভারতের পক্ষে তাদের অমার্যাদা বা অসম্মান সম্ভব নয়। ভারত মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে গেলে ওই সাড়ে তিন হাজার সেনার আত্মবলিদানের প্রতি অসম্মান প্রদর্শনের সামিল হবে।
ইউনুস কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে। নানা সময়ে সেটা তিনি তাঁর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন। অস্থির বাংলাদেশ থেকে তাঁর পালিয়ে যাওয়া ছাড়া দ্বিতীয় কোনও রাস্তা নেই। ইউনূসও মনে মনে সেটাই চাইছেন। সূত্রের খবর, এই নিয়ে দিল্লির সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। কথা হয়েছে তারেক রহমানের সঙ্গে লন্ডনে। একটা বিষয় কিন্তু স্পষ্ট, চলতি বছর নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যে ইউনূসের বিদায় প্রায় নিশ্চিত।
এদিকে, ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় তাঁর মা হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর কথা বলেছেন। হাসিনাকে ফেরাতে দিল্লিও প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। বঙ্গবন্ধু কন্যা কবে দেশে ফিরবেন, সে ব্যাপারে সুষ্পষ্ট কিছু জানা না গেলেও কোনও কোনও মহল থেকে বলা হচ্ছে, খুব বেশি দেরি হলে ডিসেম্বর। হাসিনা চাইবেন, তাঁর দল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুক। তবে সেটা কীভাবে সম্ভব, তা নিয়ে দলের নেতা-কর্মীরা ইতিমধ্যে নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করতে শুরু করেছেন। গণ অভ্যুত্থানের প্রেক্ষিতে দলের যে সব নেতা আত্মগোপন করেছন, যারা দেশের বাইরে চলে গিয়েছেন, তাদের ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে দলে আলোচনা শুরু হয়েছে। যা থেকে স্পষ্ট ইউনূস জমানা শেষ হতে আর বেশি বাকি নয়। বাংলাদেশ এক নতুন ভোরের অপেক্ষায় রয়েছে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post