সবাইকে চমকে দিয়ে বড় ধরনের পদক্ষেপ করল ভারত। রাশিয়ায় পৌঁছে গেল ভারতীয় সেনা। ৬৫ জনের একটি বাহিনী মস্কো পৌঁছেছে। তারা রাশিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে সেনা মহড়ায় অংশ নেবে। দিল্লি-মস্কো যৌথ বিবৃতি দিয়ে এই ঘোষণা করেছে। রাশিয়ার তরফ থেকে ভারতকে যৌথ সেনা মহড়ায় অংশ নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। প্রস্তাব সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করে দিল্লি।
কিছুদিন আগে আমরা দেখেছি চিন সেনা মহড়া চালায়। সেই মহড়া দেখে চমকে উঠেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দিয়েছিলেন একের পর এক অসংলগ্ন বিবৃতি। এই ঘটনার এক সপ্তাহের মধ্যে দিল্লি জানিয়ে দিল তারা রাশিয়ার জাপার্ট ২০২৫-য়ে অংশগ্রহণ করবে। রাশিয়া ইতিমধ্যে বেলারুশের সঙ্গে সেনা মহড়া চালিয়ে যাচ্ছে। এবার রাশিয়ার সঙ্গে যোগ দিচ্ছে ভারত।
এই জাপার্ট কিন্তু নিউক্লিয়ার প্ল্যানিং এক্সারসাইজ। এখানে রাশিয়া তাদের পারমাণিবক অস্ত্রের প্রদর্শনী করবে। যে তথ্য আরও বেশি ভয়ঙ্কর তা হল রাশিয়া এই মহড়ায় তাদের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করবে। রাশিয়া বিশ্বকে দেখাতে চাইছে যে পারমাণবিক অস্ত্র তাদের কাছে কিছু কম নেই।
ভারতের তরফ থেকে জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাহিনীর ৬৫ জনের মধ্যে ৫৭ জন স্থলসেনার, সাত জন বিমানবাহিনীর সদস্য, একজন নৌবাহিনীর সদস্য। রাশিয়ার তরফ থেকে বলা হয়েছে, মহড়া চলাকালীন ভারতের সঙ্গে আলোচনা হবে যুদ্ধের কৌশল নিয়ে। যুদ্ধের প্রকৃতি বদলের নিরিখে কী ভূমিকা নেওয়া উচিত, তা নিয়েও আলোচনা হবে। কাউন্টার টেররিজম নিয়ে আলোচনা হবে।
রাশিয়ার সঙ্গে সেনামহড়ায় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে ভারত ইউক্রেন এবং বিশ্বকে একটা বার্তা দিতে চাইছে। জেলেনস্কি সম্প্রতি ভারত-বিরোধী বক্তব্য রাখতে শুরু করেছেন। অথচ, এই জেলেনস্কির পাশে ভারত দিনের পর দিন দাঁড়িয়েছে। দেশটিকে সমর্থন করে গিয়েছে। বিশ্বের দরবারে ইউক্রেনের হয়ে সওয়াল করেছে। প্রধানমন্ত্রী মোদি নিজে তাঁর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বার্তা বলেছেন। অথচ সেই জেলেনস্কির গলার সুর বদলে গিয়েছে। সেই সব ঘটনার নিরিখে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সেনা মহড়া আসলে কৌশলগত অংশীদারিত্ব। এর মধ্যে দিয়ে ন্যাটো বাহিনীকে জোরাল বার্তা দিতে চাইছে দিল্লি। আর যেটা লক্ষ্য করার বিষয় তা হল এই মহড়া হবে পোল্যান্ড এবং লিথুয়ানিয়ার সীমান্তে। জায়গাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। রাশিয়া ওই জায়গা কোনওভাবে দখল নিতে পারলে আমেরিকা এবং তার মিত্রদের কাছে সেটা পরমাণু বোমা বিস্ফোরণের সামিল হবে। আমেরিকা থেকে শুরু করে চিন, জেলেনস্কি সবার নজর থাকবে আসন্ন মহড়ার দিকে। মুখে সামরিক মহড়ার কথা বলা হলেও এটা পারমাণবিক অস্ত্রের মহড়া হতে চলেছে।
অন্যদিকে, গিরগিটির মতো রঙ বদল করছেন ট্রাম্প, জেলেনস্কি। সম্প্রতি জেলেনস্কি একটি সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন যে ট্রাম্পের শুল্ক নীতিকে তিনি সমর্থন করছেন। তিনি মনে করেন, দরকার হলে আরও বেশি করে মার্কিন শুল্ক আরোপ করা যেতে পারে। সেটা হলে রাশিয়ার ওপর আরও চাপ বাড়বে। জেলেনস্কির এই মন্তব্যে দিল্লি রীতিমতো অসন্তুষ্ট।
অথচ কিছুদিন আগে জেলেনস্কি একটি টুইট করেন। টুইটে তিনি ভারতে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে বৈঠক করতে চান।
রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সেনা মহড়ায় অংশগ্রহণের অন্য কারণ, তারা ইউরোপীয় ইউনিয়নকে একটা কড়া বার্তা দিতে চাইছে। বার্তা দিতে চাইছে ন্যাটোকে। যারা নিজেদের সর্বশক্তিমান বলে মনে করে। দিল আমেরিকাকে। বুঝিয়ে দিল রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ সেনা মহড়ায় অংশ নেওয়ার সাহস তাদের রয়েছে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post