গত অগাস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশ চালাচ্ছে একটি তদারকি সরকার। দায়িত্ব নিয়েছেন নানা দুর্নীতিতে জড়িত মহম্মদ ইউনূস। তিনি দেশবাসীকে জানিয়েছেন, তিনি বাংলাদেশে নির্বাচন করতে বদ্ধপরিকর। নির্বাচন সংক্রান্ত একটি নির্দেশিকা খুব শীঘ্রই প্রকাশিত হবে। নির্বাচন হবে সুষ্ঠু ও অবাধ।
তার এই ঘোষণা নিয়ে নানা প্রান্ত থেকে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। প্রথমত, যে মানুষ নিজেই নানা দুর্নীতিতে জড়িত, তিনি বলছেন অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা। এটা বিশ্বাস করা খুব মুশকিল। এটা অনেকটা বিড়ালে মাছ না খাওয়া, আঁশ না ছোয়া, কাশী যাওয়ার মতো শুনতে লাগছে। তাছাড়া বাংলাদেশে এখন যা চলছে, সেই সব ঘটনার নিরিখে ভোট কতটা অবাধ হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। আওয়ামী লীগ যাতে কোনওভাবই ভোটে দাঁড়াতে না পারে, তার জন্য কমিশন এবং তদারকি সরকারের প্রধান চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে. ভোট বানচাল করতে একটি শিবির নাকি এখন থেকেই নীল নকসা তৈরি করতে শুরু করেছে। এই অবস্থায় ভোট সুষ্ঠ এবং অবাধ হবে সেটা বিশ্বাস করতে বেশ অসুবিধে হচ্ছে। প্রশ্ন এখন সরকার পরিবর্তন না কি সরকার থাকছে?
বাংলাদেশের ৫৪ বছরের ইতিহাসে এমন দূর্বল সরকার দেখা যায়নি। সেটা সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রকাশ পাচ্ছে। পাওয়ারই কথা। কারণ, যে লোকটার দেশ শাসনের কোনও অভিজ্ঞতা নেই, সেই সরকারের মাথায় বসে আছে। যার হাতে খড়ি হয়নি, সে গেল স্কুলে পড়তে। কিন্তু দূর্বল সরকারকে ঝাঁকি দিয়ে ফেলে দেওয়ার মতো কিছু অনুভব করেনি। যে কারণে ইউনূস থাকছে। থাকছে আরও জোরালো ভাবে।
ইতিমধ্যে উপদেষ্টা পরিষদে বড় ধরনের রদবদল ঘটতে চলেছে। এমন খবর দিয়েছে বাংলাদেশের একটি দৈনিক। ছাত্রদের প্রতিনিধি সহ বেশ কয়েকজনকে উপদেষ্টা পরিষদ থেকে সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আবার কয়েকটি দফতরে নতুন কয়েকটি মুখ দেখা যাবে। আগামী এক মাসের মধ্যে উপদেষ্টা পরিষদ ঢেলে সাজানো হবে বলে তদারকি সরকারের একটি সূত্র এই খবর দিয়েছে।
এই রদবদলের পিছনে রয়েছে তিনটি কারণ। প্রথম কারণ, ভোটের আগে সব মন্ত্রকের কাজের গতি বাড়িয়ে তোলা। পরিষদে যাদের নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তাদের সরিয়ে ফেলে সরকার নিজের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে চায়। আবার কয়েকজন উপদেষ্টার কাজের চাপ কমাতে চাইছে তদারকি সরকার। জাতীয় নির্বাচনের আগে স্বচ্ছ ভাবমূর্তি ফেরাতে বদ্ধপরিকর তদারকি সরকার। অক্টোবর মাসের মধ্যে এই পরিবর্তন হবে বলে জানিয়েছে সেই সূত্র। কারা থাকবেন, আর কারা আসবেন, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পদমর্যাদার বিশেষ সহকারী ও বিশেষ দূত ও হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ রয়েছেন তিনজন। এই সংখ্যাটাও বাড়তে চলেছে। প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার সংখ্যা না বাড়লেও তাঁদের দফতর বদল হতে চলেছে বলে জানিয়েছে ওই সূত্র। ছোট ছোট মন্ত্রকের দায়িত্বে থাকা উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীরা পেতে চলেছেন বড় দায়িত্ব। চমক হিসেবে থাকছে নতুন কয়েকটি মুখ। এদের মধ্যে কেউ কেউ বর্তমান সরকারের সঙ্গে কাজ করছেন। আবার কাউকে আনা হচ্ছে বাইরে থেকে।
তদারকি সরকার বেশ কয়েকটি কমিশন গঠন করে। সেই সব কমিশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে। কমিশনের মাথায় যাঁরা ছিলেন, তাদেরকে এবার উপদেষ্টা পরিষদে নিয়ে আসার চিন্তাভাবনা করছে তদারকি সরকার। মানে, ইউনূস সরকারের যাওয়ার সময় এখনও হয়নি। তার বড় কারণ, সরকারের পিছনে সমর্থন রয়েছে সেনার। সেনার ম্যাজেস্টেরিয়াল পাওয়ারের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। ইউনূস সরকার আরও নতুন নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করবে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post