ডাকসুতে ভোটের যে ফলাফল, তাই নিয়ে নানা জনে নানা রকম বিশ্লেষন করলেও, এই ভোটে না থেকে তারা যে কতটা প্রাসঙ্গিক তা প্রমান করে দিল আওয়ামীলীগ। এখন অনেকেই তো বলবেন এখানে আওয়ামীলীগ কোথায়। তারা না ভোটে দাঁড়াতে পেরেছে আর না তারা ভোট দিতে পেরেছে। কিন্তু তারা যে ভোটের ফলাফল ঘুরিয়ে দিয়েছে তা আমি আপনি বলছি না, বলছে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাই। এবং এই ভোটের আগে বিএনপি মানে ছাত্রদলের ভাবটা এরকম ছিল যে বাংলাদেশে যে কোন নির্বাচন হলেই বিএনপি জিতবে, যেহেতু আওয়ামীলীগ নিষিদ্ধ এবং এখন বাংলাদেশে বিএনপিই সবচেয়ে বড় দল এবং তাদের সংগঠনের ধারে কাছে আর কেউ নেই। কিন্তু ভোটের ফল ঘোষনার পর তারা বুঝতে পারল তাদের ভুলটা কোথায়। তাদের সঙ্গে জামাত যে বড় ধরনের রাজনৈতিক খেলা খেলে দিয়েছে তা নিজ মুখে স্বীকারও করে নিলেন। আওয়ামীলীগ ভোটে না থেকেও কিভাবে বিএনপি এবং জামাতকে নিয়ে ছেলে খেলা করল তা বলার আগে বলে নিই, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেছিলেন এই ডাকসু নির্বাচন নাকি মডেল নির্বাচন হবে। কিন্তু স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার আশা মত মডেল নির্বাচন হল কি। কি বলছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রার্থী এবং ছাত্রছাত্রীরা। তারা তো বলছে হাসিনার আমলকেও ছাপিয়ে গেছে এই নির্বাচনের কারচুপির ঘটনা। একটি ডাকসু নির্বাচনকে যারা সুষ্ঠ ভাবে পরিচালনা করেতে ব্যর্থ, তারা কি করে জাতীয় নির্বাচন করবে। এবার আসি আসল খবরে যে জাকসু নির্বাচনে আওয়ামীলীগ কিভাবে বিএনপি এবং জামাতের সঙ্গে ছেলেখেলা করল।
ছাত্র শিবির যেমন আশা করতে পারেনি তারা এত ভোটে জিতে ক্ষমতায় আসবে তেমন বিএনপিও আশা করতে পারেনি যে তারা কোথাও তিনভাগের এক ভাগ আবার কোথাও অর্ধেকের থেকেও কম ভোট পাবে শিবিরের তুলনায়।জামাত এবং এনসিপি যখন আওয়ামীলীগ নিষিদ্ধের দাবী তুলেছিল তখন বিএনপি চুপ করেছিল।আওয়ামীলীগ আশা করেছিল যে বিএনপি তাদের নিষিদ্ধের বিষয়ে আপত্তি জানাবে।কিন্তু বিএনপি ভেবেছিল আওয়ামীলীগ নিষিদ্ধ থাকলে সেই ভোট কখনই জামাতের ঘরে যাবে ফলে তারাই সেই ভোটটা পাবে,এবং তাদের ক্ষমতায় ফেরা নিশ্চিৎ। কিন্তু আওয়ামীলীগ তাদের এটা বুঝিয়ে দিল যে বাংলাদেশের রাজনীতিতে তারাই শেষ কথা। সে যতই তাদের উপর নীপীড়ন এবং নির্যাতন হোক না কেন। আর এই ঘটনাটি জামাতের জন্যও ভয়ের যে তাদের দিকে থেকে আওয়ামীলীগ সরে গেলে তারাও জিততে পারবে না। ডাকসু নির্বাচনের আগে একটি সমিক্ষায় দেখা গেছে, মাত্র ১০ শতাংশ মানুষ জামাতকে ভোট দেবে বলে জানিয়ছে।আর বিএনপিকে ভোট দেবে জানিয়েছে ১২ শতাংশ। আর এনসিপিকে ভোট দেওয়ার কথা বলেছন ২ শতাংশ।আর আওয়ামীলীগের এই দুঃসময়েও ৭ শতাংশ মানুষ আওয়ামীলীগকে ভোট দেওয়ার কথা বলেছেন। আর ১৪ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন তারা কাকে ভোট দেবেন সে বিষয়ে মুখ খুলবেন না। মানে তারা হলেন আওয়ামীলীগের ভোটার।
তারা জানেন মুখ খুললেই তাদের উপর মব সৃষ্টি হতে পারে। তাহলে ১৪ এবং ৭ শতাংশকে যোগ করলে সেটা একটা বিশাল অঙ্ক। আর ৪৮ শতাংশ মানুষ বলেছেন যে তারা এখনও ভেবে দেখেন নি বা সিদ্ধান্ত নেননি। মানে তারাও আওয়ামীলীগের ভোটার। অর্থাৎ যদি আওয়ামীলীগকে বাদ দিয়ে ভোট হয় তাহলে ভোট করানোই অসম্ভব। যদি হয়ও তবে সেই সরকার টিকবে না। আর যদি সব দলের অংশ গ্রহনের অধিকার থাকে তবে সেই ভোটে আওয়ামীলীগই জিতবে, তা নিশ্চিত। আওয়ামীলীগের অনেক ভুল থকালেও বর্তমানের সরকারের বিশাল ব্যর্থতার কাছে তা নগন্য। হাসিনার আমলে সবাই খেয়ে পরে বাঁচতে পেরেছে, যা এই সরকারের আমলে প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাছাড়া বিএনপির সীমাহীন অত্যাচার মানুষকে আওয়ামীলীগের দিকেই ঠেলে দিচ্ছে। আর এনসিপি তো খাতাই খুলতে পারে নি। তাই তারা নিবন্ধন পেলেও জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত দেশে থাকতে পারবে কিনা তাই নিয়েই প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।












Discussion about this post