সেন্ট মার্টিন দ্বীপে ঘাঁটি গেড়ে বসেছে মার্কিন যুদ্ধ জাহাজ। বাংলাদেশ এমনিতেই অশান্ত। এই অবস্থায় সেন্ট মার্টিন দ্বীপে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের অবস্থান নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। মূল প্রশ্ন মার্কিন যুদ্ধ জাহাজের টার্গেট কে ভারত নাকি চিন?
বিশ্বজুড়ে এখন সংঘর্ষের বাতাবরণ। যুদ্ধ কোথাও হচ্ছে প্রকাশ্যে কোথাও কূটনৈতিকস্তরে। বিগত কয়েকবছর ধরে আমেরিকা দুটি কাজ খুব সুকৌশলে করে আসছে। একটি যুদ্ধের বাতাবরণ তৈরি করে অস্ত্র বিক্রির বাজার ধরা, দ্বিতীয়টি অর্থের মাধ্যমে তেল সমৃদ্ধ দেশগুলির দখল নেওয়ার। পরিসংখ্যান সে কথাই বলছে। একটি উদাহরণ তুলে ধরা যাক।
দক্ষিণ আমেরিকার তেলসমৃদ্ধ দেশের নাম ভেনিজুয়েলা। দেশটির মাটির তলায় রয়েছে ৩৩ বিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল। প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরাও আগাগোড়াই আমেরিকা বিরোধী। আর সেটা ডোনাল্ড ট্রাম্পের পছন্দ নয়। ভেনেজুয়েলা দখলের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেশটির উত্তর অংশে মার্কিন যুদ্ধবিমান ঘোরাঘুরি করতে দেখা যাচ্ছে। যে কোনও মুহূর্তে সরকার পড়ে যেতে পারে বা সরকারকে ফেলে দেওয়া হতে পারে। আমেরিকা চাইছে, দেশটি দখল করে সেই দেশের তেলের দখল নিয়ে গোটা বিশ্বে বিক্রি করা। আমেরিকা এই কাজে অত্যন্ত পারদর্শী। সাফল্যের সঙ্গেই তারা এই কাজ করে এসেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা অনেক আগে থেকেই তাদের খবরদারি শুরু করেছে। সেখানে তারা ডিফেন্স এয়ারবেস বানিয়ে বন্দুকের নল দেখিয়ে সেখানকার তেলের বাজার দখল করেছে। সস্তায় তেল কিনে বিশ্বের বাজারে বিক্রি করছে। এবার নজরটা একটু অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেখা যাক।
আমেরিকার কুনজর গিয়ে পড়েছে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার ওপর। সুনির্দিষ্টভাবে বললে বঙ্গোপসাগরের একেবারে কেন্দ্রবিন্দুতে। এই অঞ্চলে আমেরিকা তার সাম্রাজ্য বিস্তার করতে চাইছে ধীরে ধীরে। কিন্তু কীভাবে? গোয়েন্দা রিপোর্ট বলছে, তাদের এই পরিকল্পনা যারা বানচাল করবে বা যারা বাধা দেবে, সিআইএ তাদের খতম করে দেবে। এখন কেন বঙ্গোপসাগরে নজর পড়ছে আমেরিকার? তথ্য বলছে, সাগরে নীচে প্রচুর অশোধিত তেল রয়েছে। সেই তেলেলর দখল নিতে পারলে, সোনায় সোহাগা।
গায়ানার কথাই ধরা যাক। খুব ছোট্ট একটি দেশ। তারপরেও অশোধিত তেল বিক্রি করে দেশটি অর্থনৈতিকভাবে অনেকটাই স্বনির্ভর। তাদের জিডিপির হার বর্তমানে ৬২ শতাংশ। আর্থিক বিশেষজ্ঞরা তাদের গায়ানার এই সাফল্য দেখে রীতিমতো বিস্মিত। আমেরিকা বুঝে গিয়েছে গায়ানার থেকেও বেশি তেল মজুত রয়েছে বঙ্গোপসাগরে, সুনির্দিষ্টভাবে আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের কাছে। ফলে, যেভাবেই হোক আমেরিকা সেখানে পৌঁছাতে চাইছে। গোয়েন্দা রিপোর্ট আরও একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য দিচ্ছে। আমেরিকা এই ক্ষেত্রে দুবাই ফর্মূলা অনুসরণ করছে। তারা প্রয়োজন হলে ওই অঞ্চলে কৃত্রিম দ্বীপ তৈরি করবে। পর্যটন শিল্পকে অগ্রাধিকার দেবে। দুবাই ফর্মুলা কী? দুবাইতে তেলের অজস্র ভাণ্ডার রয়েছে। সেই তেল বিক্রি করে তারা মুনাফাও পাচ্ছিল। কিন্তু সে দেশের সেনাবাহিনী অত্যন্ত দূর্বল থাকায়, তারা আমেরিকার সাহায্য চেয়ে বসে। আর সেটাই দুবাইয়ের কাল হয়ে উঠল। সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে এক মুহূর্ত দেরি করেনি আমেরিকা। সাহায্য করার নাম করে কার্যত দুবাইয়ের প্রাকৃতিক তেল সম্পদের ওপর দখল করে বসে।
এদিকে বাংলাদেশ ভৌগলিকভাবে দক্ষিণ এশিয়ায় এক দারুণ অবস্থানে রয়েছে। ভারতের সেভেন সিস্টার্স (অসম, অরুণাচলপ্রদেশ, মণিপুর, মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড এবং ত্রিপুরা)। বাংলাদেশের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। সে দেশ থেকে পণ্য সংগ্রহ করা তাদের কাছে অনেক সহজ। এই বিশাল বাজার ধরতে পারলে আমেরিকা সুখের স্বর্গে বাস করবে।












Discussion about this post