সম্প্রতি তদারকি সরকার উপদেষ্টা পরিষদের রদবদল ঘটিয়েছেন। কয়েকজনকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। নতুন কয়েকজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকারের তরফে বলা হচ্ছে, নির্বাচন সামনেই। তাই এই পরিবর্তন প্রয়োজন ছিল। এটা তো সরকারি ভাষ্য। আদৌ কি উপদেষ্টা পরিষদে রদবদলের প্রয়োজন ছিল। এই রদবদল ঘটিয়ে এমন কী মহান কাজ করলেন ইউনূস সরকার যেখানে ঋণ নিয়ে শোধ করতে না পারার জন্য মানুষ আত্মহত্যা করতে বাধ্য হচ্ছে? আবার সেই দেহ কবর দেওয়ার জন্য নিতে হচ্ছে ঋণ।
গত এক বছরে এই সরকার বেশ কয়েকটি দিক থেকে সফল। মানে এই সরকারের তুলনা সরকার নিজেই। বাংলাদেশে বেড়েছে ধর্ষণ। বেড়েছে হত্যা। সেই সঙ্গে সরকার পরিচালনার নামে সন্ত্রাসী রাজত্ব কায়েম করা। আর মব কালচার। মব দিয়ে বিরোধী শক্তিকে নিঃশেষ করার চেষ্টা। শেষের বিষয়ে সরকার প্রথম দিকে কিছুটা সাফল্যের মুখ দেখলেও এখন আর সেটা তেমন কাজে আসছে না। আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণার পরেও তাদের দমিয়ে রাখা যাচ্ছে না। দিল্লি থেকে হাসিনা দল পরিচালনা করছেন। দলের কার্যক্রম ঠিক করে দিচ্ছেন। আর ইউনূস হালে পানি পাচ্ছেন না।
পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে বাংলাদেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগ নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা, অনিশ্চিত ব্যাবসায়িক পরিবেশ আর অবকাঠামোগত দুর্বলতার ঘূর্ণাবর্তে থমকে দাঁড়িয়েছে অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের স্বপ্ন। লাখো মানুষের কর্মসংস্থান আর শিল্পায়নের মহাপরিকল্পনা অনেকটাই ফিকে হয়ে আসছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যে উঠে এসেছে এক অপ্রত্যাশিত চিত্র—গেল মার্চ প্রান্তিকে অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) এসেছে মাত্র এক লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৯৩.৪৬ শতাংশ কম। বিনিয়োগ কমার পাশাপাশি বিনিয়োগ তুলে নেওয়ার প্রবণতাও বেড়েছে।
বিএনপির মতো দলও মনে করছে, এই উপদেষ্টা মণ্ডলী থাকলে বাংলাদেশে নির্বাচন অসম্ভব। বাংলাদেশের রাজনৈতিকমহল মনে করছেন, উপদেষ্টা পরিষদে রদবদল ঘটিয়ে ইউনূস তাঁর ভাবমূর্তি ফেরাতে সচেষ্ট হয়ে উঠেছেন। কিন্তু সেটা যে কোনওভাবেই সম্ভব হবে না, সেটা তাঁকে বোঝাবে কে?
অনেকে শেখ হাসিনা সরকারের সঙ্গে এই সরকারের তুলনা করছেন। বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষকে জিজ্ঞাসা করলে তারা বলবে, আগের সরকারের আমলে তারা অনেক ভালো ছিলেন। কারণ, হাসিনা সরকার হাজার হলেও মানুষের পাশাপাশি দেশের সার্বিক কল্যাণের কথা চিন্তা করতেন। আর এখন এই তদারকি সরকার নিজে কী করে ভালো থাকবে, নিজেকে আরও কতদিন ক্ষমতায় রাখা যায়, তা নিয়েই তার চিন্তা। দেশের কী হল, দেশের মানুষের কী হল, সে নিয়ে চিন্তা করতে তাঁর বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই। নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে। দেশে টিকার ব্যাপক ঘাটতি। বিভিন্ন জেলায় টিকাদান কর্মসূচি বিঘ্নিত। কর্মসংস্থানের অভাব। কয়েকদিন আগে প্রকাশিত একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, স্নাতক ডিগ্রিধারী ২৯ শতাংশ তরুণ বেকার। কাজের সন্ধানে অনেকে দেশ ছেড়ে চলে যেতে চাইছে। তারা বুঝে গিয়েছে, এই সরকারের জন্য দেশ ডুবেছে। বেশিদিন থাকলে তাদের ভবিষ্যতও ডুববে। তাই, তাঁরা আপনি বাঁচলে বাপের নাম নীতি নিয়েছে। সব থেকে বড় বিপদ সরকার দেশটিকে ঠেলে দিচ্ছে উগ্র ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর হাতে। ধর্মকে রাজনীতির অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে কিছু গোষ্ঠীর মানুষের লাভ হবে। কিন্তু সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশ ঘোর অনিশ্চয়তার দিকে চলে যাচ্ছে। বাংলাদেশ বাঁচাতে পারবেন একমাত্র হাসিনা। তাই, দ্রুত তাঁর দেশশাসনের ভার গ্রহণ করা উচিত।












Discussion about this post