সদিচ্ছা থাকলে যে রাস্তা একটা বেরিয়ে আসবে, সেটা দেখিয়ে দিল নেপাল। যারা অস্থির নেপালকে শান্ত করার জন্য সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি সুশীলা কার্কির হাতে দায়িত্ব তুলে দিয়েছেন। তাঁর সঙ্গে মহম্মদ ইউনূসের মিল রয়েছে বহু ক্ষেত্রে। শিক্ষাগত যোগ্যতা কারও কম নেই। সুশীলা কার্কির পড়াশোনা ভারতে। বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের এই প্রাক্তনী পরবর্তীকালে নেপালের ত্রিভূবন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনশাস্ত্রে ডিগ্রি নিয়েছেন। বর্তমানে তিনি নেপালের তদারকি সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এমন একজনকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে, যার আইন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারনা রয়েছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করার সুবাদে নেপালের রাজনীতি সম্পর্কেও তার একটা ধারণা রয়েছে।
অপর ড. মহম্মদ ইউনূসের দিকে তাকিয়ে দেখা যায়। তাঁরও শিক্ষাগত যোগ্যতা খুব কম নয়। অর্থনীতি নিয়ে পড়াশোনা। অর্থনীতি নিয়ে শিক্ষকতা করেছেন। কিন্তু পরবর্তীকালে সেই অর্থনীতি নিয়ে পড়াশোনা একজন লোক ধোঁকাবাজি করেছেন। এনজিও খুলে টাকা তছরূপ করেছেন। এনজিও মানুষের জীবন মানের উন্নতি করতে পারে না মানুষকে ধোঁকা দেয়, তা নিয়ে গবেষণা হতে পারে, সেটা দেখিয়ে দিয়েছেন মহম্মদ ইউনূস। আবার দেশের সঙ্গে কোনও সংযোগ নেই, এমন একজন পেয়েছেন সাময়িকভাবে দেশ চালানোর দায়িত্ব। এনজিওর মাধ্যমে টাকা কামিয়ে বিদেশে পাচার করেছেন।
থাকেন কোথায়? না প্যারিসে। সেখান থেকে তাঁকে ডেকে নিয়ে এসে অস্থির বাংলাদেশ শাসনের ভার তুলে দেওয়া হয়েছে। বাংলায় একটা প্রবাদ আছে কোথায় শিবের বাড়ি আর কোথায় টিক্কার হাঁড়ি। ইউনূসের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা তেমনই হয়েছে। যার সঙ্গে দেশের নাড়ির যোগ নেই, যার দেশ শাসনের বিন্দুমাত্র অভিজ্ঞতা নেই, তার হাতে দেশ চালাতে দেওয়া আর হনুমানকে বিমানের ককপিটে বসিয়ে প্লেন চালাতে দেওয়া এক ব্যাপার। আর সরকারে যাদের নেওয়া হয়েছে, তারা সেই বিমানের যাত্রী। সুশীলা কার্কি যেদিন দেশ শাসনের দায়িত্ব তুলে নিয়েছেন, সেই দিন তিনি নির্বাচনের দিন তারিখ ঘোষণা করে দিয়েছেন। আগামী ৫ মার্চ নেপালের ভোট। আর মহম্মদ ইউনূস?
তাঁকে অনেক কষ্ট করে বলতে হয়েছে যে বাংলাদেশে ভোট হবে। কষ্টটা কেমন সেটাও একবার উল্লেখ করতে হয়। আমাশা হলে মানুষ যেমন কষ্ট পায়, ইউনূসের সেটাই হয়েছে। ভোটে যাওয়ার ইচ্ছা একেবারেই ছিল না। কিন্তু নানা প্রান্ত থেকে যখন তার ওপর লাগাতার চাপ বাড়ছিল, তখন বুঝতে পারলেন ভোটের ঘোষণা না করলে কোনও উপায় নেই। এখন আবার ভোটের ঘোষণা করে ইউনূস এখন বলতে শুরু করেছে, কোনও একটি স্বার্থাণ্বেষি গোষ্ঠী নির্বাচন বানচাল করার চেষ্টা চালাচ্ছে। নেপালে অন্তর্বর্তী সরকারে এমন একজনকেও খুঁজে পাওয়া যাবে না যে অশান্ত নেপালে অংশগ্রহণ করেছিল। তারা কিন্তু নেপালের সহিংসতার ঘটনায় এখন অনুতপ্ত। তারা কিন্তু স্কুল-কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে গিয়েছে। হিংসার বাংলাদেশে যারা অংশ নিয়েছিল, তাদের অনেকে কিন্তু তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফিরে গিয়েছেন। অনেকে আবার বিভিন্ন বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যকলাপে লিপ্ত হয়েছেন। তারা এখনও কিন্তু এখনও সেই কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। নেপালে কিন্তু শোনা যায়নি যে সে দেশের সেনা ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের ক্ষমতা নিয়ে রাস্তায় নেমেছে। বাংলাদেশে সেটাই হয়েছে। দেশজুড়ে এমন অরাজকতা শেষ কবে হয়েছিল, সে দেশের মানুষ মনে করতে পারছে না। কথা আছে, দিন কেমন যাবে, সেটা দিন শুরু হলে বোঝা যায়।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post