নেপালের অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৃহস্পতিবার টেলিফোনে কথা বললেন সুশীলা কার্কি। প্রধানমন্ত্রী মোদি তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে এদিন লিখেছেন, ‘ নেপালের অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান সুশীলা কার্কির সঙ্গে উষ্ণ আলোচনা হয়েছে। নেপালের সাম্প্রতিক ঘটনায় যাদের মৃত্যু হয়েছে, তাদের প্রতি আমি আমার শোক প্রকাশ করেছি। সুশীলা কার্কিকে জানিয়েছি, নেপালে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে ভারতের তরফ থেকে সব ধরনের সাহায্য করা হবে। আগামীকাল নেপালে জাতীয় দিবস। সে উপলক্ষ্যে ওনাকে এবং সমগ্র নেপালবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছি।’
ভারতের প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশ অনেকদিন ধরেই অশান্ত। পরিস্থিতির কবে বদল ঘটবে, তা কেউ বলতে পারছে না। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা দিল্লিতে আশ্রয় নিয়েছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নিয়েছেন মহম্মদ ইউনূস। তা নিয়ে কম ডামাডোল সেখানে হচ্ছে না। এই অবস্থায় নেপাল অশান্ত হয়ে ওঠে। ভোটে নির্বাচিত একটি সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরে যেতে হয়। অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন বাংলাদেশ এবং নেপালকে অস্থির করার পিছনে কয়েকটি রাষ্ট্রশক্তি কাজ করেছে। ফলে, ভারত কিছুটা হলেও উদ্বেগের মধ্যে ছিল। দিল্লির চিন্তা ছিল কাঠমাণ্ডুতে যদি এমন কেউ বসে, যিনি সে দেশের মাটি থেকে ভারত-বিরোধী পরোক্ষে মদত দেবে, তাহলে সেটা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলত।
তবে নেপালের অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব সুশীলা কার্কি নেওয়ায় দিল্লি অনেটাই স্বস্তি পায়। তাঁর কারণ, শত হলেও সুশীলার সঙ্গে ভারতের নাড়ির যোগ রয়েছে। বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা। পরে সে দেশের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পান। তাই, সুশীলা কার্কি যে কোনওভাবেই ভারত-বিরোধী কার্যকলাপে মদত দেবে না, সেট ব্যাপারে সাউথব্লক নিশ্চিত হয়ে যায়। তারপরেই কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে তাকে অভিনন্দন জানানো হয়। যদিও সুশীলা কার্কি অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর মোদির সঙ্গে টেলিফোনে কথা হয়নি। ফলে, এই নিয়ে একটা কৌতুহল তৈরি হয়। সেটা হল নিছক কূটনৈতিক কারণে কী সুশীলা কার্কিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মোদি। মানে ব্যাপারটা খানিকটা এরকম অভিনন্দন না জানালে ব্যাপারটা কেমন লাগবে। তাই সৌজন্যের খাতিরেই সুশীলাকে প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে অভিনন্দন জ্ঞাপন করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর নাম কার্যকর হওয়ার পর প্রথম গত ১০ সেপ্টেম্বর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন সুশীলা কার্কি। নরেন্দ্র মোদিকে তিনি অভিনন্দন জানান। বলেন, ‘মোদিকে আমার নমস্কার। আমি তাঁকে সম্মান করি। ভারতের প্রতি আমার অপরিসীম শ্রদ্ধা এবং স্নেহ রয়েছে। কারণ, তারা সব সময় নেপালের পাশে ছিল।’ তিনি আরও বলেন, ‘ নেপালে অনেক আগে থেকেই সমস্যা ছিল। এখন পরিস্থিতি আরও কঠিন। দেশের উন্নয়নের জন্য এক সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে যেতে হবে। নেপালের নতূন সূচনা স্থাপনের চেষ্টা করব। ’
হবু প্রধানমন্ত্রী সেই বার্তার পর তোড়জোড় শুরু হয়ে গিয়েছিল। অবশেষে শুক্রবার নেপালের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে শপথ নেন সুশীলা কার্কি। প্রসঙ্গত, নেপালের পাঁচ হাজার যুব আন্দোলনকারী একটি ভার্চুয়াল বৈঠক করে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে কার্কির নাম প্রস্তাব করে। তরুণ প্রজন্ম কার্কির কাছে প্রস্তাব নিয়ে গেলে তিনি সমর্থনের জন্য কমপক্ষে এক হাজার জনের লিখিত স্বাক্ষর চেয়েছিলেন। যদিও তাঁকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে সমর্থন করেন আ়ড়াই হাজারের বেশি স্বাক্ষর সংগৃহীত হয়।












Discussion about this post