বাংলাদেশে ভোট হবে কি না, তা নিয়েই ঘোর সন্দহে। এবার ভোটের ফলাফল নিয়ে তুমুল তরজায় জড়িয়ে গেল বিএনপি এবং এনসিপি।
শনিবার রাজধানীর কাকরাইল ইন্সটিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলয়াতনে অর্পণ আলোক আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে বিএনপি নেতা তথা দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলে, সরকারি দল হওয়ার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী হলে নির্বাচনে আসতে এত বাহানা কেন। তিনি বলেন, ‘আপনারা যখন এত আত্মবিশ্বাসী যে সরকারি দল হবেন তাহলে নির্বাচনে আসেন না কেন? নির্বাচনে জনগণ ভোট দিয়ে কারা সরকারে যাবে, আর কারা বিরোধী দলে যাবে সেটা ঠিক করবে। আজকে এক বাহানা কালকে আরেক বাহানা- এসব অজুহাত দেখিয়ে কেন আপনারা নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে চান। ’
এদিনের একটি পত্রিকার শিরোনাম ভাষণে উল্লেখ করেন সালাহউদ্দিন। বলেন,‘আজকে শিরোনাম দেখলাম কোথাও জামায়াতে ইসলামি সরকার গঠন করবে, বিএনপি বিরোধীদলে যাবে। তো ভাইসাব বিএনপি বিরোধীদলে যাবে নাকি জনগণ ঠিক করবে। যারা জনগণের ভোটে বিশ্বাস করে না, তারাই এই সব কথা বলে। ’
তার এই বক্তব্যের লক্ষ্য জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ‘আগামী জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী সরকার গঠনের মতো আসনে বিজয়ী হবে। জামায়াতে ইসলামী সরকারি দল হবে। বিএনপিকে বিরোধী দলে যেতে হবে। ’ এদিন ওই বক্তব্যের জবাব দিলেন বিএনপি নেতা তথা দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি এও বলেন, ‘সরকার সবসময় চায় বিরোধীদল যেন মাঠে না থাকে। অথচ গণতন্ত্রে সরকার ও বিরোধীদল দুটোই জনগণের। বিরোধীদল মানে শত্রু নয়, রাষ্ট্রের অংশ। একই সময়ে একটি দল সরকারে থাকবে আবার সেই দল বিরোধী শিবিরে থাকবে, তা হতে পারে না। দরজা হয় খোলা থাকবে, না হলে বন্ধ থাকবে। যারা এখনও ছাত্র প্রতিনিধি হয়ে সরকারে বসে আছেন, প্রতিদিন তাদের দায়ভার বহন করতে হচ্ছে। জনগণের সঙ্গে দ্বিমুখী আচরণ করে কোনও দল সংগঠন বেশিদিন টিকে থাকতে পারে না।’
জুলাই সনদ প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের মতামত নেওয়াই উত্তম। কারণ, সংবিধান অনুযায়ী বিচারবিভাগের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত। বিচারবিভাগের রায় মানা না হলে রাষ্ট্রে নৈরাজ্য তৈরি হবে। আদালতের রায়ের বাইরে গিয়ে কোনও রাজনৈতিক সমাধান টেকসই হয় না।’
এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত বক্তাদের মধ্যে ছিলেন জাতীয় পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। হাসনাত তাঁর ভাষণে বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতি এখন মিডিয়া, ব্যবসায়ী ও মাফিয়ার হাতে বন্দী হয়ে গিয়েছে। জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব হারিয়ে গিয়েছে। রাজনৈতিকদলগুলি দেশবাসীর কাছে জবাবদিহি না করে কিছু গোষ্ঠীর কাছে জবাবদিহি করছে। এভাবে চলতে থাকলে গণতন্ত্র কখনই শক্তিশালী হবে না।’
ভুল স্বীকার করার সাহস আছে উল্লেখ করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমরা তরুণ প্রজন্ম ভিন্ন। আমরা স্বীকার করি, আমাদেরও ভুল থাকতে পারে। কিন্তু ভুল স্বীকার করার সাহস আমাদের রয়েছে। আগের প্রজন্মের অনেক রাজনীতিবিদ ভুল করেও স্বীকার না করে চলে গিয়েছেন। যার ফুল ভুগছে পুরো জাতি। তাই নতুন প্রজন্মই পারে রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন আনতে। অথচ এই তরুণ প্রজন্মকে রাজনীতির বাইরে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু তারাই দেশের ভবিষ্যৎ। তরুণ প্রজন্ম রাজনীতিতে সম্পৃক্ত না হলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে যাবে।’
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post