শেখ হাসিনা যে গত বছর ৫ আগস্ট পদত্যাগ করবেন বা দেশ ছাড়বেন সেটা ২৪ ঘণ্টা আগেই জেনে গিয়েছিলেন আন্দোলনকারী ছাত্র নেতারা। এই পরিস্থিতিতে ৪ আগস্টই ঠিক করে ফেলেছিলেন বাংলাদেশের পরবর্তী সরকার প্রধান কে হবেন। সম্প্রতি এমনই চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি দিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নেতা নাহিদ ইসলাম। বৃহস্পতিবার ঢাকায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলায় সাক্ষ্য দিলেন তিনি। বর্তমানে নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। কিন্তু গত বছর ৫ অগস্ট শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করার সময় নাহিদ ছিলেন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম আহ্বায়ক তিনি। ট্রাইবুনালে সাক্ষ্য দিতে গিয়েই তাঁর স্বীকারোক্তি গত বছর ৪ আগস্টই তাঁরা মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রস্তাব দিয়েছিলেন বাংলাদেশের অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে যোগ দেওয়ার জন্য।
এই অদ্ভুত দাবির পরই বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি হয়। যদিও অদ্ভুতভাবে বাংলাদেশের গণমাধ্যম এই বিষয়ে সেভাবে সরব হয়নি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বেশ কয়েকটি প্রশ্ন তুলছেন। ২৪ ঘণ্টা আগেই আন্দোলনরত ছাত্ররা কীভাবে জানল প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করবেন? কীভাবে শতভাগ নিশ্চিত হয়ে ছাত্ররা ইউনুসের সঙ্গে যোগাযোগ করল? ওয়াকিবহাল মহলের মতে, নাহিদের কথা সঠিক হলে বলতে হয় শেখ হাসিনার পদত্যাগের বিষয়ে ৫ আগস্টের অনেক আগেই আলোচনা শুরু হয়েছিল। সে ক্ষেত্রে এই আলোচনায় কারা কারা অংশ নিয়েছিলেন সেটা নিয়েও এখন চর্চা চলছে। আলোচনায় রয়েছে, নাহিদের স্বীকারোক্তির পর কারা কারা ফাঁসতে চলেছেন।
গত বছর জুন-জুলাই মাসে বাংলাদেশ জুড়ে শুরু হয়েছিল কোটা বিরোধী ছাত্র আন্দোলন। পরে সেটা হয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। সব শেষে হাসিনা হঠাও আন্দোলনের মাধ্যমে গণঅভ্যুত্থানের রূপ নেয়। দাবি করা হয়, শেষের দিকে সেনাবাহিনী হাত গুটিয়ে নিয়েছিল আন্দোলন দমন করার বিষয়ে। তাতেই সরকার পতন হয়েছে। এমনও জানা গিয়েছিল, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানের প্রতিনিধি প্রধানমন্ত্রীর কাছে গিয়ে জানিয়ে দেন তাঁকে পদত্যাগ করতে হবে। এর জন্য তাঁকে মাত্র ৪৫ মিনিট সময় দেওয়া হয়েছিল। ফলে একটা চক্রান্তের গন্ধ প্রথম থেকেই ছিল। পরবর্তী সময়, গত বছর নিউইয়র্কে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের বৈঠকে অংশ নিতে গিয়ে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনুস হাসিনা সরকারের পতনকে মেটিকুলাস ডিজাইন বলে বর্ণনা করেছিলেন। এবং মাস্টারমাইন্ড হিসেবে ছাত্রনেতা মাহফুজ আলমকে চিনিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। স্বভাবতই বৃহস্পতিবার নাহিদের বক্তব্যের পর আওয়ামী লিগ নেতারা ফের মেটিকুলাস ডিজাইন নিয়ে প্রধান উপদেষ্টাকে আক্রমণ করেছেন। আবার জামায়াতে ইসলামির এক নেতা দাবি করেন, হাসিনা সরকারকে উৎখাত করতে মহম্মদ ইউনুস লবিস্ট নিয়োগ করেছিলেন। সবমিলিয়ে হাসিনা সরকার উৎখাতের পিছনে ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের তত্ত্ব আরও প্রমানিত হতে শুরু করেছে। এই বিষয়ে একদিকে যেমন ফাঁসবেন এই ছাত্রনেতারা, তেমনই ফাঁসবেন জামাতের মাথারাও। তবে বেশি মাত্রায় ফাঁসতে চলেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। এমনটাই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।












Discussion about this post