ত্রিমুখী সংকটে পড়েছেন ড. মহম্মদ ইউনূস। এই তিনটি সংকট এতটাই জটিল যে তাঁর রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। তিনটি সংকটের চরিত্র এবং বৈশিষ্ট্য একেবারে আলাদা। প্রশ্নাতীত সংকট কিংস পার্টি এনসিপিকে নিয়ে। অধ্যাপক ইউনূসের প্ররোচনায় দল গঠন করে এখন তারা বিপাকে পড়েছে। তাদের জুলাই আন্দোলনের নেতারা সমান বিপাকে পড়েছেন। দলের একাংশ এখন ইউনূসকে তাদের ভরাডুবির জন্য কাঠগড়ায় তুলেছে। দ্বিতীয় সংকট বিএনপি এবং জামাতের মুখোমুখি অবস্থান। গত মাসে একাধিকবার দুই পক্ষকে নিয়ে বৈঠকে বসেও তাদের কাছাকাছি আনতে পারেননি। তারা এখন ইউনূসকে সন্দেহের চোখে দেখছে। সব থেকে বড় সংগঠক আওয়ামী লীগ। তাদের সাংগঠনিক তৎপরতা ক্রমে বাড়ছে। জনপ্রিয়তা তাদের বাড়ছে। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে তাদের মিছিলের বহর। পুলিশ ও প্রশাসন কার্যত হাত গুটিয়ে বসে আছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এমনিতে দেশ ক্ষোভের আগুন ধিকধিক করে জ্বলছে। এই অবস্থায় আওয়ামী লীগের মিছিল আটকালে দেশে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলবে। ইতিমধ্যে গোয়েন্দা দফতর থেকে ইউনূসের দফতরে একটি রিপোর্ট পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই রিপোর্ট দেখে তদারকি সরকার প্রধানের চোখ চড়কগাছে উঠেছে। গোয়েন্দা রিপোর্টে বলা হয়েছে, চলতি মাসেই বড় ধরনের শো ডাউন করতে পারে আওয়ামী লীগ। ঝটিকা মিছিল রূপ নিতে পারে, চলো চলো যমুনা চলো। এই তিন সংকট ঘিরে ইউনূসের থিংক ট্যাংক খেই হারিয়ে ফেলেছে। তারা মনে করেছিল ইউনূস কোনও না কোনও ভাবে সেফ প্যাসেজ তৈরি হয়ে যাবে। এখন সেফ তো পরের কথা, কোনও প্যাসেজ তৈরি রাস্তা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। পরিস্থিতি এমন ঘোলাটে হচ্ছে যে কোনও সময় অঘটন কিছু ঘটতে পারে।
নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের মিছিল যে বাড়ছে সেটা নতুন নয়। ইউনূস সরকার পুলিশকে কড়া হাতে এই সব মিছিলের মোকাবিলা করতে বলেছিল। পুলিশ প্রথম দিকে কিছুটা সক্রিয় ছিল। কিন্তু পরে পুলিশও হাত গুটিয়ে নেয়। কার্যত আওয়ামী লিগকে তারা ফাঁকা মাঠ ছেড়ে দিয়েছে। এর জেরে তিন পুলিশ কমিশনারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।
শুক্রবার পুলিশ বিশেষ অভিযানে নামে। কিন্তু তাতেও কাজের কাজ কিছু হয়নি। ওই দিন রাজধানীর ২৬টি জায়গায় আওয়ামী লীগ মিছিল করেছে। আর এই সব খবর পাচ্ছেন ইউনূস। আর তাঁর বুকের ধুকপুকানি ক্রমেই বাড়ছে। বাড়ছে রক্তচাপ, মানসিক উদ্বেগ। সমান উদ্বিগ্ন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার দফতরও। গোয়েন্দা দফতর থেকে ইউনূসকে পাঠানো রিপোর্টে বলা হয়েছে, কলকাতায় বসে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা তাদের প্রতিদিনের কর্মসূচির নীল নকসা তৈরি করে বাংলাদেশে তাদের নেতাকর্মীদের কাছে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। একই সময়ে হাসিনা দিল্লি থেকে কর্মসূচির নীল নকশা তৈরি করে বাংলাদেশে দলের নেতা-কর্মীদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন। ফলে, সাঁড়াশি চাপে ইউনূস। ১৯ ডিসেম্বর রাতে রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের একটি গোপন বৈঠক হয়েছে। সেই বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ঝটিকা মিছিলের সংখ্যা আগামীদিনে আরও বাড়ানো হবে। সরকারের জন্য যেটা চিন্তার তা হল, অতি দ্রুত এই ঝটিকা মিছিল বড় শো ডাউনে রূপ নিতে পারে। গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, এই কর্মসূচির নাম হতে পারে, ‘চলো চলো যমুনা চলো’। গোয়েন্দা রিপোর্টে বলা হয়েছে ময়মনসিংহ, গাজীপুর, ঢাকাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে লোক জড়ো করে বড় ধরনের মিছিল আয়োজন করতে চলেছে আওয়ামী লীগ।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post