বাংলাদেশকে ঘিরে এক ঘোর অনিশ্চিয়তা এবং একটা যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে শাসকগোষ্ঠী জুন্টা সেনাবাহিনী এবং সশস্ত্র রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের সম্মিলিত আক্রমণের মুখে পড়েছে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি। সাম্প্রতিক এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষ থেকেই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যাচ্ছে। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, গত ৪৮ ঘণ্টায় অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে আরাকান আর্মির সদস্য, জুন্টার সৈনিক এবং রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরাও রয়েছে। উল্লেখ্য, যখন বাংলাদেশের ভুখণ্ড ব্যবহার করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আরাকান আর্মির হাতে অস্ত্রশস্ত্র ও অন্যান্য রসদ তুলে দিচ্ছে, ঠিক তখনই মিয়ানমারের সামরিক শাসক জুন্টা বাহিনী পাল্টা প্রত্যাখাত করল। তাঁদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিও। ফলে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে নতুন করে যুদ্ধের আবহ তৈরি হল। এর থেকে বাংলাদেশ রেহাই পাবে না বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।
এই পরিস্থিতিতে চিনের “গবেষণা জাহাজ” ইউয়ান ওয়াং ৫ বঙ্গোপসাগরে প্রবেশ করেছে বলেই খবর। ইউয়ান ওয়াং ৫, মূলত একটি গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহকারী জাহাজ যাকে “গবেষণা জাহাজ” বলা হয়। চিনের জাহাজটি ইন্দোনেশিয়া ত্যাগ করার পর থেকেই তার গতিবিধির উপর নজর রাখতে শুরু করেন বাংলাদেশী নৌ কর্মকর্তারা। উল্লেখ্য ইউয়ান ওয়াং ৫ তিন বছরের মধ্যে দ্বিতীয়বার ভারতীয় জলসীমায় প্রবেশ করবে। শেষবার এটি ভারত মহাসাগরে প্রবেশ করেছিল যখন এটি ২০২২ সালের ১৬ আগস্ট শ্রীলঙ্কার হাম্বানটোটা বন্দরে নোঙ্গর করেছিল। সেই সময়, শ্রীলঙ্কার সরকার জাহাজের ক্যাপ্টেনকে অনুমতি দিয়েছিল এই শর্তে যে এটি শ্রীলঙ্কার জলসীমায় থাকাকালীন যে কোনও গবেষণা করতে পারবে। তবে এবার কেন চিনের গবেষণা জাহাজ ভারত মহাসাগরে প্রবেশ করছে, সেটা বোঝা যাচ্ছে না। তবে বিশেষজ্ঞরা দাবি করছেন, ভারত যে ২৪-২৫ সেপ্টেম্বর বঙ্গোপসাগরে কোনও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার জন্য একটি নোটাম জারি করেছে। সেটা নিয়েই চিনের এই তৎপরতা। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারত প্রায় ১,৪৩০ কিলোমিটার পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করতে চলেছে। নোটাম বিজ্ঞপ্তিতে মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার প্রস্তুতির ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এই পরীক্ষার সময় বঙ্গোপসাগরে প্রায় ১,৪৩০ কিলোমিটার এলাকার আকাশসীমা এবং সমুদ্র অঞ্চলে কোনও উড়োজাহাজ ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, মার্কিন বিমান বাহিনীর প্রায় ১২০ জন কর্মকর্তার একটি দল বাংলাদেশের চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজারে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং বিমান বাহিনীর সদস্যদের সাথে একটি যৌথ মহড়ায় অংশ নিয়েছিল। প্যাসিফিক অ্যাঞ্জেল-২০২৫ নামে ওই মহড়া ১৯ সেপ্টেম্বর শেষ হয়েছিল। তাৎপর্যপূর্ণভাবে মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা বাংলাদেশ ত্যাগ করার পরই চিনা জাহাজ বঙ্গোপসাগরে প্রবেশ করল। কিন্তু প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মিয়ানমারে ইতিমধ্যেই ভারতীয় সেনাবাহিনীর একটা দল প্রবেশ করেছে। জানা যাচ্ছে মিয়ানমার জুন্টা বাহিনী ও ভারতীয় সেনা একটা যৌথ মহড়ায় অংশ নিচ্ছে। যা নিয়ে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা নানা ভাবে ব্যাখ্যা করছেন। বাংলাদেশে মার্কিন সৈন্যের রহস্যময় উপস্থিতি এই পরিস্থিতিকে আরও ঘোরালো করে তুলেছে। এরপরই ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা, চিনের গবেষণা বা গুপ্তচর জাহাজের আনাগোনা এবং মিয়ানমারে আরাকান আর্মির ওপর হামলা। সবমিলিয়ে বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে একটা কিছু আবর্তিত হচ্ছে। এমনকি কোনও এক পক্ষ বাংলাদেশেও আক্রমণ শানাতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একটা অংশ।












Discussion about this post