বাংলাদেশের বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে কিছু লিখতে বা বলতে হলে বাংলার এই প্রবাদটা বেশ যুৎসই খাচ্ছিল তাঁতি তাঁত বুনে, কাল হল তাঁর এড়ে বাঁছুর কিনে।
ইউনূস দিব্যি প্যারিসে আরামে ছিলেন। ভালো খাওয়া –দাওয়া, সুখের ঘুম, স্বচ্ছন্দের ঘোরাফেরা। সে সব লাটে তুলে বাংলাদেশ সামাল দিতে প্যারিস থেকে ছুটে এলেন। আর এখন বুঝতে পারছেন বাংলাদেশ তার হাতের বাইরে চলে গিয়েছে। সে দেশে আর তার পক্ষে নিরাপদ নয়। এখন প্রাণ বাঁচাতে অন্য কোন দেশে আশ্রয় নেওয়া যায় তার জন্য হাতের সামনে গ্লোব নিয়ে আঙুল দিয়ে ঘোরাচ্ছে। ঠিক যেভাবে ঘোরাতে দেখা গিয়েছিল চার্লি চ্যাপলিনকে দ্য গ্রেট ডিক্টেটর সিনেমায়।
নিজে ডুবেছেন। দেশটাকেও পদ্মার জলে ডুবিয়ে ছেড়েছেন। বিশ্লেষকেরা বলেছেন, ইউনূসের নতুন বাংলাদেশ কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে। ব্যাঙ্ক থেকে শুরু করে ঋণ প্রদানকারী সংস্থাগুলি জোর ধাক্কা খেয়েছে। ঋণখেলাপির মাত্রা চড়চড়িয়ে বেড়েছে যেভাবে গরমকালে পারদ চড় চড়িয়ে ওঠে। বিদেশি লগ্নিতে ভাঁটা পড়েছে। সব মিলিয়ে ইউনূস বাংলাদেশের অর্থনীতিকে খাঁদের কিনারে নিয়ে গিয়েছেন।
এশীয় উন্নয়ন ব্যাঙ্ক একটি মূল্যায়ন প্রকাশ করেছেন। সেই মূল্যায়নে দেখা গিয়েছে, বাংলাদেশের অর্থনীতি সে দেশের সাম্প্রতিক সময়ে সব চেয়ে সংকটের মুখে। মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার দেশে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করলেও তিনটি স্তম্ভ ব্যাঙ্কিং, ক্ষুদ্র ঋণ প্রদানকারী সংস্থা এবং শেয়ারবাজার এখনও অস্থিতিশীল। দুর্নীতির জালে আটকে পড়েছেন ইউনূস এবং তাঁর তদারকি সরকার। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আগামী নির্বাচনের আগে পরিস্থিতি আরও সংকট থেকে সংকটতর পর্যায়ে পৌঁছে যাবে। এর মধ্যে এক লক্ষ ৭৮ হাজার কোটি টাকা আদালতের স্থগিতাদেশ রয়েছে। ঋণের নামে বহু টাকা নয়ছয় করা হয়েছে।
চলতি বছরের জুন মাসের শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছয় লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এছাড়াও আরও তিন লক্ষ ১৮ হাজার কোটি টাকার কোনও খোঁজ নেই। এশিয়ার দেশগুলির মধ্যে বাংলাদেশে এখন খেলাপি ঋণের পরিমাণ সব থেকে বেশি। ২০২৪ সালে দেশের মোট বিতরণ করা ঋণের মধ্যে ২০.২ শতাংশ এখনও মেটানো হয়নি। এটা আগের বছরের তুলনায় ২৮ শতাংশ বেশি।
বৈদেশিক ঋণের সুদ ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬২ শতাংশে। ঋণ পরিশোধ ব্যয়, বড় অংকের ঋণ ও দেশি-বিদেশি ঋণের উচ্চমাত্রায় সুদ নিয়ে তদারকি সরকার উপদেষ্টাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। সুদ পরিশোধ ব্যয় কমাতে ইতোমধ্যে চীনের রাষ্ট্রদূতকে আহ্বান জানিয়েছেন অর্থ ও বাণিজ্য উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন।
প্রতি তিন মাস অন্তর অর্থ বিভাগ দেশের মোট ঋণ পরিস্থিতির ওপর বুলেটিন প্রকাশ করে। সর্বশেষ বুলেটিনের হিসাবে মোট ঋণের অঙ্ক ১৬ লাখ ৯৭ হাজার ৪১৫ কোটি টাকা, যার মধ্যে বৈদেশিক ঋণ ৭ লাখ ১৪ হাজার ৬৭২ কোটি টাকা। সাধারণত বাজেট ঘাটতি পূরণে দেশি এবং বৈদেশিক উৎস থেকে ঋণ করা হয়ে থাকে। তবে এখানে ঋণের হিসাবটি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জুলাই-থেকে মার্চ পর্যন্ত।
২০২৩-২৪ অর্থবর্ষের মার্চ পর্যন্ত বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ বেঁড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৮ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা। এই ঋণ নিয়ে মূল টাকা পরিশোধে ব্যয় হয় ১৬ হাজার ৬৭৯ কোটি টাকা। ফলে, এ খাতে নিট ঋণের অঙ্ক দাঁড়ায় ৪১ হাজার ৬৯৪ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের শেষে সেটা আরও বেড়ে যাবে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।












Discussion about this post