গত মে মাসে ধানমন্ডিতে একজনের বাড়িতে মব করতে গিয়ে পুলিশ গ্রেফতার করেছিল সমন্বয়ক সাইফুল ইসলাম রাব্বিকে। থানায় গিয়ে মুচলেখা দিয়ে ছাড়িয়ে এনেছিল এনসিপি নেতা হান্নান মাসুদ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নানা সমালোচনা তৈরি হয়েছিল। যে সমন্বয়ককে ছাড়িয়ে নিয়ে আসা হয়েছিল, তার বিরুদ্ধে এবার চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠে। সেটা আবার হাসপাতালে অভিযোগ ওঠে। এমনকি সেনাবাহিনীর হাতে আটক হন। অর্থাৎ চাঁদাবাজির মিশন এখনও অব্যাহত রয়েছে বাংলাদেশে। ইউনূসের প্রিয় ছাত্র নেতাদের করুন অবস্থা সামনে আসছে। এবার কি কড়া হবে বাংলাদেশের প্রশাসন?
রবিবার রাতে ঢাকার মোহাম্মদপুরের বসিলা এলাকায় সমন্বয়ক পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেফতার করে সেনাবাহিনী ও পুলিশ। বসিলা হাউজিং সিটির সেফ হাসপাতাল নামের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে চাঁদা দাবি করার সময় তাদের আটক করা হয়। জাযারা যারা গ্রেফতার হয়েছেন তাদের নাম সাইফুল ইসলাম রাব্বি, হাসিবুর রহমান ফরহাদ, আবু সুফিয়ান, মো. শাহীন এবং আবদুর রহমান মানিক।
জানা গিয়েছে, রবিবার সন্ধের দিকে সমন্বয়ক পরিচয়ে একটি গ্রুপ হাসপাতালে এক নবজাতকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে প্রবল উত্তেজনা তৈরি করে। এমনকি জানা যায়, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে চাঁদা দাবি করে। উত্তেজক পরিস্থিতি তৈরি হলে, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এমনকি সেনাবাহিনী তাদের গ্রেফতার করে। জানা যায়, সাইফুল ইসলাম রাব্বির বিরুদ্ধে এর আগেও এখাধিক অভিযোগ উঠেছে। মব থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠে। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মোহাম্মদপুর থানা শাখার আহ্বায়ক ছিলেন। সংগঠনের নামে চাঁদাবাজিসহ একাধিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়।
প্রসঙ্গত, গত ১৯মে রাতে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর অভিযোগ তুলে হাক্কানী পাবলিশার্সের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফার বাসা ঘেরাও করেন বেশ কিছু বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরা। অর্থাৎ মব করে বলে অভিযোগ। এর জেরে জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা হান্নান মাসউদের মধ্যস্থতায় মুচলেকা দিয়ে আটক ব্যক্তিদের ছাড়িয়ে নিয়ে আসে। কয়েক মাসের মধ্যে ফের তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ।
বাংলাদেশের অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, শেখ হাসিনা সরকারকে অনেকে ফ্যাসিস্ট বলত। কিন্তু যারা সোনার বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখাল, তারাই এমন চাঁদাবাজির অভিযোগে অভিযুক্ত। তবে তারা সোনার বাংলাদেশ গড়বে কি করে? অনেকে বলছেন, বাংলাদেশের পরিস্থিতি খারাপ থেকে খারাপতর হচ্ছে। কারণ যারা দেশ গড়ার দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছিল, তারাই হয় মব করছে, না হয় তারা চাঁদাবাজি করছে। গ্রেফতার করা হলেও, তাদের ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু পরিস্থিতি একেবারে নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। এখন দেখার, এই ঘটনার পর টনক নড়ে কিনা প্রশাসনের।












Discussion about this post