সম্প্রতি কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা একটি খবর প্রকাশ করেছে। প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত হওয়ার চার মাস পরে শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগ প্রবল উদ্যোমে দেশজুড়ে প্রতিবাদকে তুঙ্গ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটা বড় অংশের মতে দিন দিন আওয়ামী লীগের মিছিলের দৈর্ঘ্য যেভাবে বাড়ছে তাতে দলের নেতা উৎসাহিত হতে পারেন। আগামী দিনে আরও বড় আন্দোলনে চিন্তাভাবনা করছেন আওয়াম লীগ নেতৃত্ব।
দলীয় সূত্রে খবর, মহম্মদ ইউনূস জমানায় রীতিমতো স্টিম রোলার চালানো হচ্ছে। কিন্তু এত কিছুর পরেও নেতা-কর্মীদের দলের প্রতি আনুগত্য কিছু কমেনি। তার মূল কারণ সাধারণ মানুষের সমর্থন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের এক নেতা জানিয়েছেন, ‘আগে আওয়ামী লীগের নাম শুনলেই লোকে গালিগালাজ করত। সেই পরিস্থিতি পুরোটাই পালটে গিয়েছে। মব সন্ত্রাস থেকে, তোলাবাজির রাজত্ব কায়েম হয়েছে। মানুষ দিশেহারা। আর আমরা সেই সুযোগটা কাজে লাগাচ্ছি। ’
দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গির কবীর নানক বলেন, ‘‘মিছিল আরও বাড়বে। প্রতিদিন বিক্ষোভ মিছিল হবে। যে অনাচার বাংলাদেশে চলছে তার অবসান গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে হবে। ’’আওয়ামী লীদ সূত্রের খবর, আগামী দিন মার্চ টু যমুনার ডাক দেওয়া হবে কি না, সে ব্যাপারেও চিন্তাভাবনা করছেন দলীয় নেতৃত্ব। দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিমের কথায়, সত্যকে কোনওভাবেই ধামা-চাপা দেওয়া যাবে না। প্রতিদিনের অভিজ্ঞতা থেকে মানুষ বুঝতে পারছেন, শেখ হাসিনার জমানা কতটা ভাল ছিল। তাই, আগামীদিনের মিছিলের সংখ্যা বাড়ছে, বাড়বে তার বহরও।
আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের দাবি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আকাশছোঁয়া। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কার্যত ভেঙে পড়েছে, শিক্ষাক্ষেত্রে নৈরাজ্য – সব মিলিয়ে মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। তাঁর বহিঃপ্রকাশ দেখা যাচ্ছে মিছিলগুলিতে। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম সর্বত্রই আওয়ামী লীগের মিছিলগুলির আকার বাড়ছে। দলের নেতাদের দাবি, ২৪ সেপ্টেম্বর ঢাকায় যে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে তার বহরে রীতিমতো অবাক হতে হয়।
পত্রিকা আরও লিখেছে, দেশের মাটিতে যেমন ইউনূস বিরোধী বিক্ষোভ চলছে বিদেশের মাটিতেও তা অব্যাহত রেখেছে আওয়ামী লীগ। ইউরোপিয়া আওয়ামী লীগের সভাপত নজরুল ইসলামের কথায় ‘ইউনূসের দেড় বছরের শাসনে দেশ বন্দিশালায় পরিণত হয়েছে। সেই সময় খুব দূরে নয়, আওমী লীগের মিছিলে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত নেমে আসবেন। গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ইউনূসের পতন ঘটাবে সাধারণ মানুষ। ’
এটাই হবে। এটা হওয়ারই কথা ছিল। কারণ, বাংলাদেশ মানুষ ইউনূস সরকারের অত্যাচারে বিদীর্ণ। বেশি কিছু নিয়ে লেখার দরকার নেই। সামান্য একটা লাউয়ের দাম ৮০ টাকা। তাহলে ধরে নেওয়া যেতে পারে, বাকি শাকসবজি, মাছ, এক কথায় নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম কোথায় গিয়ে পৌঁছেছে। ডলারের তুলনায় টাকার দাম পড়ছে। মুদ্রাস্ফীতি লাগামছাড়া। চালের দর ১০০ টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে। মজুতদারদের অত্যাচারে দেশের মানুষের পাগল পাগল দশা। গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশবাসী যে সরকারকে ক্ষমতায় বসিয়েছিল, সেই সরকারের থেকে তারা অনেককিছু আশা করেছিল। কিন্তু তদারকি সরকার ন্যূনতম তাদের দিতে পারেনি। উলটে দেশকে কাদের কিনারায় নিয়ে গিয়েছে। আর যেটা করছে সেটা হল ভারত বিরোধিতা। ভারত বিরোধিতা করতে গিয়ে তারা উলটে গালে চড় খেয়েছে। মানুষ এখন চাইছে তদারকি সরকারের বিদায়। বিদায় আসন্ন। সেটা আজ হোক বা কাল।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post