পাকিস্তানকে দেওয়া স্থলসেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীর হুঁশিয়ারি বোধহয় ঠিকঠাক শুনতে পায়নি বাংলাদেশ। শুনলে সীমান্তে তারা তুরস্কের তৈরি ড্রোন বসানোর সাহস পেত না। সম্প্রতি ঢাকা বেশ কিছু পদক্ষেপ করেছে, যা ভারতের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে বাংলাদেশ মায়ানমারের আরাকান আর্মির সঙ্গে টক্কর দিতে পারছিল না, সেই বাংলাদেশ সেনা সীমান্তে তুরস্কের তৈরি ড্রোন বসিয়েছে। এখানেই শেষ নয়, সেগুলি তারা উড়িয়েও দেখাচ্ছে। চাঞ্চল্যকর তথ্য আরও আছে। তুরস্ক বাংলাদেশে অস্ত্র কারখানা নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেটা ভারতের দরজার খুব কাছে, রংপুর ডিভিশনে। তাই, ভারত রংপুরের দিকে নজর দিয়েছে। দিল্লি বিষয়টিকে একেবারেই হালকা করে দেখছে না। রংপুর ডিভিশন ভারতের নিয়ন্ত্রণে নিলে ভারতের সব থেকে বড় দূর্বলতা চিকেন নেক চিরকালের জন্য। চিকেন নেক হল বিখ্যাত সেই জায়গায় যে জায়গা ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করেছে।
বাংলাদেশ কিন্তু একাধিকবার এই জায়গা নিয়ে ভারতকে বিব্রত করেছে। চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে। রংপুরের ওপর ভারত পুরোপুরি দখল নিয়ে চিকেন নেক নিয়ে দিল্লিকে উদ্বেগের মধ্যে থাকতে হবে না। উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে ভারতের উপস্থিতি আরও জোরাল হবে। সে কারণে ভারতীয় সেনা সক্রিয়। উত্তর-পূর্ব রাজ্যের একাধিক মুখ্যমন্ত্রী ভারতের এই প্রস্তাবে সায় দিয়েছে।
প্রশ্ন একটাই – ভারত কি অতীত ইতিহাস বদলে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে? ভারত কি মানচিত্রে বদল ঘটাতে চাইছে? চিকেন নেক ভারতের কৌশলগত দূর্বলতার একটি। মাত্র ২০ থেকে ২২ কিলোমিটার চওড়া এই করিডোর প্রায় ৪৫ মিলিয়ন মানুষের বাসভূমি উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলির সঙ্গে যুক্ত করে রেখেছে। এটাকে ভারতের লাইফলাইন অব নর্থ ইস্ট বলা হয়। সমস্যা এই করিডোর অত্যন্ত স্পর্শকাতর। সেটা এতটাই যে সামরিক বা গোয়েন্দাদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এর গুরুত্ব পুরো ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার থেকেও বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, শত্রু যদি এই চিকেন নেকে কোনওভাবে আঘাত করতে সক্ষম হয়, তাহলে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলির সঙ্গে ভারতের মূল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।
আসল আতঙ্কের জায়গা হল চিকেন নেকে দিকে নজর পডে়ছে বাংলাদেশ এবং চিনের। বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে স্পাই ড্রোন উড়িয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে। সেই তথ্য সরাসরি চিনের কাছে চলে যাচ্ছে। সীমান্তের কাছেই বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ বায়ুসেনা ছাউনি রয়েছে। ওই এয়ারবেস নিয়ে চিনের সঙ্গে বাংলাদেশের কথা চলছে। আগামীদিনে এই বায়ুসেনা ছাউনিতে চিন তাদের সামরিক বিমান রাখলে, ভারতের কাছে বিষয়টি উদ্বেগের হয়ে উঠবে। কারণ, হিসেব বলছে, পাঁচ থেকে সাত মিনিটের ফ্লাইট টাইমে তারা ভারত ভূখণ্ডে ঢুকে পড়তে পারবে। ফলে, ভারতের উত্তপূর্ব রাজ্যগুলি ঝুঁকির মুখে পড়বে না। এমনকী কলকাতা থেকে অসম – গোটা পূর্বাঞ্চল হুমকির মুখে পড়ে যাবে।
চিকেন নেকের দক্ষিণে বাংলাদেশ, উত্তরে নেপাল ও ভুটান, পশ্চিমে চিন ও তিব্বত। চিকেন নেককে একাধিক দিক থেকে ঘিরে রেখেছে একাধিক ভৌগলিক চাপ। তাই, এই সরু করিডোর নিয়ে ভারত কোনওভাবেই গা ঢিলেমি করছে না। ভারত তাই তিন বাহিনীকে সক্রিয় করে দিয়েছে। সীমান্তবর্তী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও কিন্তু একাধিকবার দিল্লিকে বলেছে, সময় এসেছে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার।
বাংলাদেশের রংপুর ডিভিশন আলাদা করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। কারণ, চিকেন নেকের খুব কাছেই এই ডিভিশন। রংপুরে বিদেশি সামরিক উপস্থিতি তৈরি হলে ভারতের জন্য হুমকি বহুগুন বেড়ে যাবে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post