ইউনূস,হাসিনা বা বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানকে এখন প্রতিদিনই খবরের বিষয়। তেমনই একটি খবরের বিষয় হয়ে উঠেছে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ। ছোট পত্রিকা তো বটেই, বড় বড় পত্রিকার প্রতিবেদনে এখন হামেশাই খবরের শিরোনাম হয়ে উঠছে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ। ভারতের যেমন চিকেন নেক স্পর্শকাতর, তেমনই দক্ষিণ এশিয়ার ক্ষেত্রে এই সেন্ট মার্টিন দ্বীপ অত্যন্ত স্পর্শকাতর। এখন প্রশ্ন উঠছে, সেন্ট মার্টিন দ্বীপ কী ছাড়তে হচ্ছে বাংলাদেশকে। এটা কি নিছক গুজব, নাকি আদতেই সেন্ট মার্টিন দ্বীপে কিছু একটা ঘটছে। দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতির প্রেক্ষাপট কিন্তু এই সেন্ট মার্টিন দ্বীপকে কেন্দ্র করে প্রতিনিয়ত বদলে যাচ্ছে। বাংলাদেশকে ব্যবহার করে একটি কৌশলগত ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।
হাসিনা ক্ষমতায় থাকাকালীন আমেরিকা এই দ্বীপ তাদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য একপ্রকার চাপ তৈরি করে। হাসিনা সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, তিনি নিশ্চিত যে এই দ্বীপ লিজ দিলে ক্ষমতায় দীর্ঘদিন ধরে টিকে থাকা একপ্রকার নিশ্চিত। কিন্তু তিনি সেটা কখনই করবেন না। কারণ, এই দ্বীপ অন্য কারও হাতে তুলে দেওয়ার অর্থ বাংলাদেশর স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিক্রি করে দেওয়া। শুধু তিনি নয়, মুক্তিযুদ্ধের সময় বঙ্গবন্ধুকেও একাধিকবার এই দ্বীপ নিয়ে চাপ দেওয়া হয়। চাপ দিয়েছিল আমেরিকা। যদিও বঙ্গবন্ধু সাফ জানিয়ে দেন, তিনি কোনও অবস্থাতেই সেন্ট মার্টিন দ্বীপ আমেরিকার হাতে তুলে দেবেন না। অনেকে মনে করছে, হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে উৎখাতের পিছনে বড় ভূমিকা নিয়েছে এই সেন্ট মার্টিন দ্বীপ। আমেরিকা কলকাঠি নেড়েছে।
গত অগাস্টে হাসিনা ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার পর ভারতীয় পত্রিকা এই সময় এই দ্বীপ নিয়ে একটি খবর প্রকাশ করে। হাসিনার বিবৃতি তুলে ধরে পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘যদি আমেরিকার দাবি মেনে সেন্ট মার্টিন দ্বীপের সার্বভৌমত্ব ওদের হাতে সমর্পণ করতাম, তবে হয়তো ক্ষমতাচ্যুত হতে হত না। ’ আর তদারকি সরকারের উদ্দেশ্য হচ্ছে এই ছোট্ট দ্বীপটিকে আমেরিকার হাতে তুলে দিয়ে আরও কিছুদিন ক্ষমতায় টিকে থাকা। পরিবর্তে বাংলাদেশের ভূখণ্ডকে ব্যবহারের সুযোগ করে দেওয়া।
আমেরিকার গোপন ফন্দি কী, সেটা নিয়ে আলোচনা করে যাক। যুক্তরাষ্ট্র চাইছে এই দ্বীপকে প্রথমে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা। পরবর্তীকালে এই দ্বীপকে সামরিক ঘাঁটিতে বদলে দেওয়া। এই কৌশল নেওয়ার উদ্দেশ্য একটাই যাতে এই দ্বীপ নিয়ে বেশি আলোচনা না হয়। সাময়িক ব্যবহার থেকে সামরিক উপস্থিতি এবং ধাপে ধাপে। বাংলাদেশ সে পথেই হাটছে। কিন্তু ঠিক কী কারণে আমেরিকার নজর এই দ্বীপের ওপর পড়েছে।
আসলে এই দ্বীপে সামরিক ঘাঁটি তৈরি করলে ভারত, মায়ানমার এবং এমনকী আন্দামান নিকোবর পর্যন্ত খুব সহজেই নজরদারি চালানো সম্ভব হবে। অপর দিকে, চিন যাতে দক্ষিণ এশিয়ার সাগর অঞ্চলে তাদের প্রভাব প্রতিপত্তির বিস্তার ঘটাতে না পারে, সেই উদ্দেশ্যে আমেরিকা এই দ্বীপ নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এদিকে, চিন আবার বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভে মায়ানমারে একটি গভীর সমুদ্র বন্দর তৈরি করেছে। ফলে, যুক্তরাষ্ট্র চাইছে বাংলাদেশের ওই অংশটুকুর দখল নিয়ে চিনের প্রভাব-প্রতিপত্তিতে আঘাত হানতে।
তদারকি সরকারের উদ্দেশ্য কী তা এখন স্পষ্ট। সরকারের উদ্দেশ্য আমেরিকা এবং তাদের মিত্র দেশগুলির পরিকল্পনাকে বাস্তবায়িত করা। ইউনিস তাদের প্রক্সি নেতা। বিনিময়ে তিনি আমেরিকা ও তার মিত্র দেশগুলির একের পর এক স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দেবেন।












Discussion about this post