বাংলাদেশের পালাবদল প্রায় নিশ্চিত। আগামী বছর ফেব্রুয়ারিতে সে দেশে ভোট হওয়ার কথা। তদারকি সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূস এই নিয়ে বেশ চাপে আছেন। ভারতের পাশাপাশি ডিপ স্টেট তাকে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করার জন্য লাগাতার চাপ দিয়ে চলেছে। এই আবহে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের একটি বিবৃতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। সম্প্রতি একাত্তর টিভিকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, উপদেষ্টাদের মধ্যে অনেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে লিয়াজোঁ তৈরি করেছেন। কেউ কেউ নিজেদের সেফ এগজিট নিয়ে ভাবছেন। একাত্তর টেলিভিশন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নাহিদ জানিয়েছেন, ‘উপদেষ্টাদের মধ্যে অনেকেই আছেন, যাদের বিশ্বাস করে ভুল করেছি। আমাদের উচিত ছাত্র সংগঠনের দিকে নজর দেওয়া। সরকারের শরিক হওয়া। যে বিশ্বাস সুশীল সমাজ বা রাজনৈতিক দলের প্রতি যে বিশ্বাস আমরা রেখেছিলাম সেটা আমাদের কাছে বিশ্বাসঘাতকতার সামিল।’
তদারকি সরকারের প্রাক্তন তথ্যমন্ত্রী নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘উপদেষ্টাদের অনেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে গোপনে সমঝোতা করেছে। আসলে তারা চাইছে সেফ এগজিট। এটা আমাদের কাছে অত্যন্ত পীড়াদায়ক। যদি একটি দায়িত্বশীল সরকার বাংলাদেশে ক্ষমতা দখল করত – তাহলে গণঅভ্যুত্থানে যে সব মানুষ অংশ নিয়েছিল, তাদের মধ্যে অনেকের মৃত্যু হয়েছে। অনেকে আহত হয়েছেন। গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া সেই সব মানুষদের সঙ্গে বর্তমান তদারকি সরকারের আজ দূরত্ব তৈরি হত না।’ নাহিদ এও বলেন, কারা কারা সেফ এগজিট খুঁজছেন উল্লেখ করা যেতে পারে, নাহিদ ইসলামের সঙ্গে তদারকি সরকারের মতপার্থক্য তীব্র হওয়ায় নাহিদ তাঁর পদ থেকে ইস্তফা দেন।
নাহিদের এই বক্তব্যের কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন তদারকি সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, তিনি কখনও দায়িত্ব থেকে পালিয়ে যাননি। ভবিষ্যতেও পালাবেন না। তিনি কোনও সেফ এগজিট খুঁজছেন না। কিন্তু নাহিদকে জানাতে হবে কারা সেফ এগজিট চাইছে। দায়িত্বশীল হতে হলে প্রমাণসহ বলতে হয় কারা সেফ এগজিট চাইছে। নাহিদ ইসলামের বক্তব্য তাঁকে খণ্ডাতে হবে। এটা উপদেষ্টার খণ্ডানোর বিষয় নয়। তদারকি সরকারের হয়ে সওয়াল করতে গিয়ে রিজওয়ানা বলেন, এই সরকার গণমানুষের স্বার্থে কাজ করছে। কেউ যদি ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য বা রাজনৈতিক লবিং করে থাকেন, সেটা তাঁর নিজস্ব দায়। আমি আমার অবস্থানে স্বচ্ছা ও দায়িত্বশীল আছি, থাকব।’
রিজওয়ানা হাসান মুখে যাই বলুক না কেন, নাহিদ-হাসনাত-সারজিস কিন্তু বাংলাদেশের রাজনীতির আগামীদিনের মুখ হয়ে উঠতে চলেছে। তার প্রধান কারণ, তাদের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি। এই তিন জন এখনও পর্যন্ত তদারকি সরকার প্রসঙ্গে যখন যে বক্তব্য রেখেছে, সেটা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই হোক বা সাংবাদিক সম্মেলনে, তাদের বক্তব্য মানুষের হৃদয় স্পর্শ করে গিয়েছে। এমনকী নিজের দলের অনেকই প্রকাশ্যে না হলেও আড়াল থেকে তাদের বক্তব্য সমর্থন করেছেন। একটা বিষয় নিশ্চিত যে তদারকি সরকারের দিন ঘনিয়ে এসেছে। এই সরকারের থেকে যারা সেফ এগজিট খোঁজার চেষ্টা করছেন, তাদের এখন উপায় কি? কে দেবে তাদের সেফ এগজিট? তারা এখন দেশের উদ্বৃত্ত সম্পদ, যে সম্পদ না দেশের কাজে লাগবে, না দশের কাজে। ইউনূস এবং তাঁর সঙ্গীসাথীরা যে এদের সরল বিশ্বাসের সুযোগ নিয়েছিলেন তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post