বাংলাদেশ বিমান বাহিনীকে আরও আধুনিক এবং সে দেশের আকাশ প্রতিরক্ষাকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকার চিনে তৈরি ২০টি জে-১০ সিই মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান কেনার উদ্যোগ নিয়েছে। যা এখন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে তুমুল চর্চার বিষয়। পাশাপাশি কূটনৈতিক স্তরেও এটা নিয়ে জোরদার আলোচনা শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমগুলির দাবি, ২০টি ফাইটার জেট কেনার জন্য প্রায় ২.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের চুক্তি করতে চলেছে বাংলাদেশের মুহাম্মদ ইউনূস সরকার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ২৭,০৬০ কোটি টাকা। এখন প্রশ্ন হল, এই এই যুদ্ধবিমান গুলি সরাসরি চিনের সংস্থা থেকে কেনা হবে, নাকি পাকিস্তান মারফত কেনা হবে সে বিষয়ে খোলসা করে কিছু বলা হয়নি। কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য চুক্তি হওয়ার আগে একটি অপপ্রকাশযোগ্য চুক্তি হয়েছিল। তাতে তাতে কয়েকটি শর্তের মধ্যে অন্যতম ছিল বাংলাদেশ তিন বা রাশিয়া থেকে কোন প্রতিরক্ষা সামগ্রী কিনতে পারবে না। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন বাংলাদেশ যে যুদ্ধবিমান কিনতে চাইছে চিনের তৈরি সেই যুদ্ধবিমানগুলি মূলত পাকিস্তান ব্যবহার করে। আবার একটি মহলের দাবি মোঃ ইউনুস চলতি বছরের মার্চ মাসে তিন সফর করেছিলেন সেই সময় চিনা সংস্থার সঙ্গে এই চুক্তি হয়েছিল। সেই মোতাবেক যুদ্ধবিমান গুলি কিনতে চলেছে বাংলাদেশ সরকার। বিষয়টা যাই হোক না কেন প্রশ্ন উঠছে চিনের তৈরি এই যুদ্ধবিমান গুলি কতটা কার্যকরী ভূমিকা নেবে। বিশেষজ্ঞদের দাবি, অপারেশন সিঁদুর চলার সময় চারদিনের মিনিযুদ্ধে ভারতীয় সেনাবাহিনী পাকিস্তানের বেশ কয়েকটি যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল। এর মধ্যে কিছু আকাশেই আর কয়েকটি হ্যাঙ্গারে থাকাকালীন। দাবি মোতাবেক পাকিস্তানের ওই যুদ্ধবিমান গুলির মধ্যে কয়েকটি ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি অত্যাধুনিক এফ-১৬ এবং কয়েকটি চিনের জে-১০সিই। অর্থাৎ, গত মে মাসে অপারেশন সিঁদুর চলাকালীন ভারতের হাতে মার খেয়ে এই চিনা যুদ্ধবিমান জে-১০সিই মুখ থুবড়ে পড়েছিল। ফলে স্বভাবতই চিনের এই যুদ্ধবিমানের কার্যকারিতা কতটা তা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ রয়েছে। ভারতের রাফাল জেট বা সু-৫৭ যুদ্ধবিমানের কাছে চিনের জে-১০সিই আদৌ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারবে কিনা। পাশাপাশি এই প্রশ্নও উঠছে যে যুদ্ধ বিমান কিনতে যে ২৭,০৬০ কোটি টাকা ব্যায় করতে চলেছে বাংলাদেশের তদারকি সরকার, তা কে দেবে?
বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, প্রতিটি ফাইটার জেটের মূল্য ৬ কোটি ডলার। ২০টি বিমানের মোট মূল্য দাঁড়ায় ১২০ কোটি ডলার বা প্রায় ১৪,৭৬০ কোটি টাকা। অন্যদিকে স্থানীয় ও বৈদেশিক প্রশিক্ষণ, যন্ত্রপাতি কেনা এবং পরিবহন খরচ বাবদ আরও ৮২ কোটি ডলার বা ১০ হাজার ৮৬ কোটি টাকা যোগ হবে। চুক্তি অনুযায়ী এই যুদ্ধবিমানগুলির মূল্য ২০৩৫-২০৩৬ অর্থবছর পর্যন্ত ১০ বছরে পরিশোধ করতে হবে। অর্থাৎ, মুহাম্মদ ইউনূস সরকার চুক্তিতে স্বাক্ষর করে লক্ষ লক্ষ ডলার কাটমানি নিজেদের পকেটে ঢুকিয়ে নেবে। আর পরিধোধের যাবতীয় বোঝা গিয়ে পড়বে পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের ঘাড়ে।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা দাবি করছেন, বিশ্বব্যাপী ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্সের রিপোর্ট বলছে, পাকিস্তান বিমানবাহিনীর জে-১০সিই অপারেশন সিঁদুরে ভালো রকম মার খেয়েছিল।কয়েকটি আবার ভেঙেও পড়েছিল। অথচ চিনের দাবি, তাঁদের জে-১০সিই ফাইটার জেট আকাশ থেকে আকাশপথে এবং আকাশ থেকে ভূমিতে অব্যর্থ নিশানাভেদে সক্ষম। পাক সরকার ও সেনাবাহিনীও দাবি করেছিল তাঁরা ভারতের বিরুদ্ধে মিনিযুদ্ধে অভূতপূর্ব সাফল্য পেয়েছিল। কিন্তু ওপেন সোর্স ইন্টালিজেন্স রিপোর্ট দাবি করছে, অপারেশন সিঁদুরের সময় চিনের এই যুদ্ধবিমানগুলি পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছিল। এটা পাকিস্তানী পাইলটদের ব্যর্থতা ও কমান্ড সেন্টারের দুর্বলতার কারণেও হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এই অপারেশন চিনের যুদ্ধাস্ত্রর মান ও প্রযুক্তি কৌশল অনেক প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। চিনের রাডার, চিনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও যুদ্ধবিমান কোনও কিছুই ভারতের আক্রমণ প্রতিহত করতে পারেনি। এই অবহে বাংলাদেশ চিনের জে-১০সিই কিনে ওদের যুদ্ধভাণ্ডার মজবুত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, কেন তড়িঘড়ি এই সিদ্ধান্ত? প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মুহূর্তে অপারেশন সিঁদুরের প্রিয় পর্যায়ে নিয়ে আলাপ-আলোচনা চলছে। ভারত যেকোনো সময় অপারেশন সিঁদুর ২. ০ শুরু করে দিতে পারে। পাকিস্তান এর আগে কয়েকবার বলেছে প্রয়োজনে তারা ভারতের বিরুদ্ধে পূর্ব ফ্রন্ট ওপেন করবে। অর্থাৎ বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করে ভারতকে আক্রমণের পরিকল্পনা রয়েছে ইসলামাবাদের। সেই কারণেই কি চিনা যুদ্ধবিমান কেনার তোড়জোড় নিল বাংলাদেশ? ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি বাংলাদেশের ওপর কড়া নজরদারি রাখছে। এই মুহূর্তে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর চার উচ্চ পদস্থ কর্তা বাংলাদেশ সফরে রয়েছেন। সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে পাক সেনা কর্তারা বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর সদর দপ্তর থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিমান ঘাঁটি পরিদর্শন করছেন। ঠিক এই আবহে কুড়িটি চিনা যুদ্ধবিমান কেনার খবর সামনে এল। যা যথেষ্টই তাৎপর্যপূর্ণ।












Discussion about this post