মাত্র একটি বছর পার করতেই হিমসিম খাচ্ছেন মহম্মদ ইউনূস। তিনি শুধু তার প্রিয় ছাত্রদের কাছেই অপ্রিয় হয়ে উঠেছেন তাই নয়। তাকে যারা ক্ষমতায় আনার জন্য বিদেশ থেকে ক্রমাগত চেষ্টা চালিয়ে গেছেন সেই পিনাকী ইলিয়াসরাও তার বিরুদ্ধে ক্ষেপে উঠেছেন, এতো গেল দেশের মানুষের কথা। কিছু দিন আগেও জাতিসংঘ যার নামের মোহেই অন্ধ হয়ে উঠেছিল, সেই জাতিসংঘও চাইছে দ্রুত ভোট করিয়ে ইউনূসের বিদায়। কিন্তু তার বিদায়ের পর কারা আসবে ক্ষমতায়। দেশে এবং বিদেশে কারা নির্ভরযোগ্য বলে গন্য হয়ে উঠবেন। বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশগুলির কাছে কারা গ্রহণযোগ্যতা পাবে, তাই নিয়ে নানা আলোচনার মধ্যে, যে দলটির আলোচনায় থাকার কথাই নয়, সেই আওয়ামীলীগই এখন আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে। বেশ কিছু মাস আগেই নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দিয়েছিল যে নির্বাচনী ব্যালটে নৌকা মার্কা থাকবে না। তার মানে এই নির্বাচনে আওয়ামীলীগ নিয়ে কোন আলোচনা হওয়ারই কথা নয়। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে উল্টো ঘটনা। ইউনূস সাহেব দেশকে এমন জায়গায় নিয়ে গেছেন যে, দেশের মানুষ এখন হাড়ে হাড়ে বুঝতে পারছেন হাসিনা না থাকা মানে তাদের না খেয়ে মারা যাওয়া। যদিও কিছু মানুষ এখনও হাসিনার বিচার চায়, হাসিনার ফাঁসিও চায়। কারণ তারাই দেশটিকে লুটে পুটে খাচ্ছে আর সাধারণ মানুষের জীবন অতিষ্ট হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ যে সব দিক থেকে খাদের নিচে পৌঁছে গেছে তার দায় শুধু ইউনূস সাহেবের একার নয়। অন্তত বাংলাদেশের মানুষ তো তাই মনে করে। কারণ একদিকে ইউনূসের সঙ্গে ছাত্রদের নতুন দল, জামাত বিএনপি আর অন্য দিকে বিরোধী বলতে শুধু আওয়ামীলীগ। তাই দেশের এই দুর্দশার দায় যেমন ইউনূস সহ সব দলগুলিকে নিতে হবে, বিশেষ করে যারা হাসিনার বিরোধীতা করেছে। তেমন হাসিনা আমলে কি গতিতে উন্নতি হয়েছে বা কি কি উন্নতি হয়েছে তার সঙ্গে ইউনূসের আমলে যে উন্নতির জায়গায় অবনতি হয়েছে তারও তুলনা হবে। আর জুলাই আন্দোলোনের মাস্টার মাইন্ড মাহফুজ আলম তো বলেই দিয়েছে সব দলগুলি কিভাবে ক্ষমতা ভাগাভাগি করে দেশকে লুটে খাচ্ছে। কিন্তু এই ভাগাভাগিতে দেশের মানুষের কোন লাভ তো হচ্ছেই না উল্টে দেশ এক বিরাট জঙ্গী মতাদর্শের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে যা শুধু বাংলাদেশের ক্ষতিই করছে না, গোট এশিয়া মহাদেশে বিপদ ঘনিয়ে আসছে। আর এই বক্তব্য কোন অনুমানের উপর ভর করে বলা হচ্ছে না। জঙ্গীবাদকে কিভাবে দেশের মধ্যে বিস্তার করা যায় তার প্রশিক্ষন নেওয়া হচ্ছে আফগানিস্তান থেকে এবং পাকিস্তানের আইএসআই এর থেকে। আর যারা এই প্রশিক্ষন নিতে দেশের বাইরে যাচ্ছে তাদেরকে দেশের মানুষ খুব ভালো করেই চিনেন। আর এই প্রেক্ষাপটেই মার্কিন বিশ্লেষক মাইকেল রুবিনের লেখায় উঠে এসেছে এক ভয়ঙ্কর তথ্যের বিশ্লেষন । যেখানে মাইকেল রুবিন সারা বিশ্বকে দেখিয়েছেন বাংলাদেশের আসল পরিস্থিতি কি। তিনি কোন সাংবাদিক নন। তিনি বিভিন্ন দেশের অভ্যন্তরিন বিষয়গুলির পর্যালোচনা করার পাশাপাশি পেন্টাগনের নীতি বিশ্লেষক হিসাবে কাজ করছেন। তিনি স্পষ্ট ভাবে বলেছেন ইউনূস বাংলাদেশের জন্য আঞ্চলিক স্থিতিশিলতার জন্য এমনকি বিশ্ব শান্তির জন্য ভয়ঙ্কর এক ক্ষতিকারক ব্যক্তি। ২৪এর জুলাই আন্দোলোনে দেশের মানুষের অংশ গ্রহণ যতটা না সতঃস্ফূর্ত ছিল, তার থেকে অনেক বেশী ছিল বিদেশী ষড়যন্ত্র। আর এই ষড়যন্ত্রের মূল চাবি ছিল ইউনূসের হাতে। বিশেষ করে পাকিস্তানের আইএসআই, কাতার,তুরস্কের অর্থায়ন। সব মিলিয়ে তিনি এমন এক প্রকল্পের মুখপাত্র যিনি বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষ গনতান্ত্রিক অবস্থাকে ধ্বংস করতে চান।এবং বাংলাদেশকে পরিচিত করতে চান একটি জঙ্গী রাষ্ট্র হিসাবে। এই সরকার মানবাধিকার নয়, প্রতিশোধের রাজনীতি উস্কে দিয়ে দেশকে বিভেদের পথে ঠেলে দিয়েছে। সাংবাদিক শিক্ষক সংখ্যালঘু এমনকি সাবেক মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা দিয়ে তাদের বিনা বিচারে মাসের পর মাস জেলে আটকে রেখেছে। এই পরিস্থিতিতে রুবিন সরাসরি মার্কিন প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছে যে জামায়েতকে নিষিদ্ধ করতে । এবং শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে বৈধ বলে স্বিকৃতি দিতে । একই পথে এখন হাঁটছে জাতিসংঘ। যারা আগে বলত অন্তভূর্তি মুলক নির্বাচন মানে জনগনের অংশগ্রহণ। কিন্তু তারাও এখন বলছে ইনক্লুসিভ নির্বাচন মানে সব দলের অংশ গ্রহণ। অর্থাৎ আওয়ামীলীগ ছাড়া নির্বাচন হলে তাকে ভারত যেমন স্বিকৃতি দেবে না তেমন জাতিসংঘও মানবে না। কিন্তু আওয়ামীলীগ স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে তারা ইউনূসের নেতৃত্বে কোন নির্বাচনে যাবে না। আর তাদের দেশের রাজনীতিতে ফেরাতে কোন বিদেশী শক্তির প্রয়োজন নেই। তারা রাজপথে থেকেই তাদের দাবী আদায় করে নেবে। শুধু তাই নয় তারা রাজ পথে থেকেই আবার দেশের মানুষের আশীর্বাদে ক্ষমতায় ফিরে, দেশকে উন্নতির পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে।












Discussion about this post