ড. ফখরুদ্দীন আহমেদের কথা নিশ্চই আপনাদের মনে আছে। তিনি একজন বাংলাদেশী অর্থনীতিবিদ, সাবেক আমলা এবং বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের সাবেক গভর্ণর ছিলেন। মুহাম্মদ ইউনূসের মতোই তিনি ২০০৭ সালের ১২ জানুয়ারি তিনি বাংলাদেশের এক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। এবং ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে সংসদ নির্বাচনের আগে পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সেবারও বাংলাদেশ সেনা সমর্থিত ওই তত্ত্বাবধায়ক সরকার পরিচালনা করার পর ফখরুদ্দীন আহমেদ সেই যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান, আজ পর্যন্ত তিনি দেশের মুখ দেখেননি। জানা যায়, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার তাঁদের ‘সেফ এক্সিট’ দিয়েছিল। তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হয়নি কিংবা তাঁরা দুর্নীতি হতে দিয়েছেন এ নিয়েও কোনও আলোচনা বা সমালোচনা হয়নি। এবারও বাংলাদেশে এক অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় আছে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে। এক বছর হতে চলল তাঁরা নির্বাচনের নামগন্ধ করছিল না। এখন চাপে পড়ে বলছেন, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে ভোট হবে। তা নিয়েও রয়েছে হাজারো সন্দেহ। এই পরিস্থিতিতে উপদেষ্টা পরিষদের মধ্যেই “সেফ এক্সিট” নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে। এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলাম প্রকাশ্যেই এই দাবি করে বসেছেন। যা নিয়ে গত দুই–তিন দিন ধরে একটি বিষয় সবার মুখে মুখে ঘুরছে, তা হল ‘সেফ এক্সিট’।
কে বা কারা সম্মানজনক বিদায় বা নিরাপদ প্রস্থান চাইছেন, সে বিষয়ে খোলসা করে কিছু জানাননি ছাত্রনেতা নাহিদ ইসলাম। কেন চাইছেন, সেটাও পরিস্কার করে বলেননি তিনি। তবে সেফ এক্সিট নিয়ে বাংলাদেশের সোশ্যাল মিডিয়ায় যা যা চর্চা চলছে, তাতে অনেক লোভনীয় আলোচনা হচ্ছে। শোনা যাচ্ছে, উপদেষ্টাদের পাশাপাশি বাংলাদেশের সেনাপ্রধানও সেফ এক্সিট চাইছেন। নাহিদ ইসলাম মন্তব্য করেছেন, “উপদেষ্টাদের অনেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে লিয়াজোঁ করে ফেলেছেন। তাঁরা এখন নিজেদের সেফ এক্সিট বা নিরাপদ প্রস্থান নিয়ে ভাবছেন। এ মন্তব্যে মুহূর্তেই বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। রাজনৈতিক দলগুলো যেমন নিজেদের মধ্যে নাহিদের মন্তব্য নিয়ে কথা বলছে। তেমনই নানান আলোচনা হচ্ছে সরকারের ভিতরেও। কেউ কেউ আবার এটাকে নির্বাচন পিছোনোর পায়তারা হিসেবে দেখছেন। তবে ওয়াকিবহাল মহলের একটা বড় অংশ মনে করছেন, নাহিদ খুব একটা ভুল বলেননি। যে ভাবে চুরি, দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে নানা মহলে, তাতে ইউনূস-সহ কয়েকজন উপদেষ্টার পালানো ছাড়া উপায় নেই।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা দাবি করছেন, মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার একেবারেই ব্যর্থ। ফলে এই মুহূর্তে রাজনৈতিকভাবে তাঁরা প্রবল চাপে রয়েছেন। দেশে বিনিয়োগ নেই, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করতেও তাঁরা ব্যর্থ হয়েছেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেনি অন্তর্বর্তী সরকার। বাংলাদেশে সেভাবে বিদেশী বিনিয়োগ আসেনি। গত এক বছরে প্রায় ২০০ পোশাক কারখানা বন্ধ হয়েছে, লাখ লাখ মানুষ বেকার হয়েছেন। বাংলাদেশের প্রশাসনকেও যেমন নিয়ন্ত্রিণ করতে পারেনি ইউনূস সরকার, তেমনই মব নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি তাঁরা। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পাশাপাশি নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা রোধেও ব্যর্থ মুহাম্মদ ইউনূস। তার কাছে আন্তর্জাতিক সমর্থনও প্রায় নেই বললে চলে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পাহাড় প্রমান দুর্নীতির অভিযোগ। সবমিলিয়ে পরবর্তী নির্বাচিত সরকার এলে এই উপদেষ্টাদের কেউ ছাড়বে না। একইভাবে বাংলাদেশের সেনাপ্রধানও প্রবল চাপে আছেন। কারণ, গত বছর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর তিনি দাবি করেছিলেন বাংলাদেশের জনগণকে সবদিক থেকে রক্ষা করবেন। তা তিনি পুরণ করতে পারেননি। এক সময় বাংলাদেশের জনগণ তাঁকে রক্ষাকর্তা ভাবতেন, আজ তাঁর নাম শুনলেই বিরক্ত হন বাংলাদেশের মানুষ। জানা যাচ্ছে, তিনিও সেফ এক্সিট চাইছেন, তাঁর ভয় আওয়ামী লীগ ও নেত্রী শেখ হাসিনা।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post