আচমকাই গুলির শব্দে কেঁপে উঠল ভূস্বর্গ। জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের স্পেশ্যাল অপারেশন গ্রুপের একটি টহলদারি দলকে লক্ষ্য করে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিদের একটি দল এলোপাথারি গুলি চালাতে শুরু করে। মঙ্গলবারের ঘটনা জম্মু-কাশ্মীরের রাজৌরি জেলার কান্দি থানার বীরানথুব। জম্মু-কাশ্মীর মিডিয়া সেন্টার সূত্রের খবর, এসওজি ও সন্ত্রাসবাদীদের গুলির লড়াই চলছে মঙ্গলবার থেকে। জঙ্গিদের নিকেশ করতে ঘটনাস্থলে পৌঁছে গিয়েছে পুলিশ সেনা এবং সিআরপিএফ। গোটা এলাকা ঘিরে ফেলা হয়েছে। পাহাড়ি জঙ্গলে যাতে জঙ্গিরা গা ঢাকা দিতে না পারে, যাতে ফাঁকি দিয়ে পালাতে না পারে, তার জন্য জোরদার তল্লাশি শুরু হয়েছে। সূত্রের খবর, জঙ্গলে লুকিয়ে রয়েছে তিন থেকে চার জন জঙ্গি।
গোয়েন্দা সূত্রে খবর, আগাম খবর পেয়ে জঙ্গল ঘিরে ফেলে নিরাপত্তারক্ষীরা। খবর এখানে জঙ্গিরা আত্মগোপন করে রয়েছে। তবে এই খবর লেখা পর্যন্ত কোনও জঙ্গি ধরা পড়েছে না কি তাদের নিকেশ করা সম্ভব হয়েছে, তা জানা যায়নি। কালাকোট অঞ্চলের ব্রাভি লিঙ্ক রোডের কাছে এই জায়গাটি নিয়ন্ত্রণ রেখা থেকে প্রায় ৯৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। আত্মগোপন করে থাকা জঙ্গিদের কাছে অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত রয়েছে। মনে করা হচ্ছে, তাদের স্থানীয় লোকজনের সাহায্য নিয়ে সেখানে তারা পৌঁছে গিয়েছে। সন্ত্রাসবাদীরা ঠিক কোথায় লুকিয়ে রয়েছে, তা ইতিমধ্যে চিহ্নিত করে ফেলেছে সেনাবাহিনী। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত বাহিনী পাঠানো হয়েছে।
ওই এলাকায় ভারি তুষারপাত হয়েছে। পুরো রাস্তাই পিচ্ছিল। তাই, পাহাড়ি ঢাল বেয়ে ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনীকে পৌঁছতে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। সে কারণে অতিরিক্ত বাহিনীকে সেখানে পাঠানো হয়েছে। নজর রাখতে ব্যবহার করা হচ্ছে ড্রোন এবং থার্মাল ইমেজিং ডিভাইস।
এই গুলি চালানোর ঘটনা থেকে স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে যে পাকিস্তান ভারত ফের নিশানা করেছে। চাইছে, দেশে অস্থিরতা তৈরি করতে। কিছুদিন আগে কাশ্মীর থেকে এক শিক্ষককে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতের নাম মহম্মদ ইউসুফ কাটারিয়া। পহেলগাও হত্যাকাণ্ডের কয়েক মাস আগে ওই তরুণ জঙ্গিদের সংস্পর্শে আসে। পেশায় শিক্ষক হওয়ায় তার কোনও আচরণ কারও কাছে সন্দেহজনক বলে মনে হয়নি। অপারেশন মহাদেব সব জালজোচ্চুরি ফাঁস করে দেয়। জেরায় কাটারিয়া স্বীকার করে নিয়েছে, ২২ এপ্রিল পহেলগাঁও হামলার নেপথ্যে থাকি তিন লেট জঙ্গি সুলেমান ওরফে আসিফ, জিবরান এবং হামজা আফগানির সঙ্গে দেখা করে। একবার নয়, চারবার। তাদের লজিস্টিক সাপোর্ট দিয়ে আসছিল এই কাটারিয়া।
দুটি ঘটনা থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট যে পাকিস্তান দীর্ঘমেয়াদে কাশ্মীরকে উত্তাল করার পরিকল্পনা নিয়েছে। পাক জঙ্গিরা যে হামলার জন্য রেইকি করেছিল, সেটা পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে। কারণ, যে সময়ে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিরা হামলা চালিয়েছে, সেই সময় ভূস্বর্গে শুরু হয়েছে ভারী তুষারপাত।
এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় গোয়েন্দাদের হাতে এসেছে একটি চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট। সেই রিপোর্ট পেয়েছে টাইমস নাও। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ইসলামিক স্টেট খোরাসান প্রভিন্স-য়ের (আইএসকেপি) সাহায্যে পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে ছায়াযুদ্ধ চালানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। আইএসকেপির নিজস্ব মুখপত্র ‘ইয়ালগার’-য়ে এই নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাশ্মীরকে আন্তর্জাতিক মহলের নজর আনার জন্য পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই সাহায্য নিতে চলেছে আইএসকেপির। পত্রিকায় প্রচ্ছদে লেট কম্যান্ডার রানা মহম্মদ আসিফের একটি ছবি প্রকাশিত হয়েছে। ছবিতে দেখা যাচ্ছে আসিফের হাতে রয়েছে একটি পিস্তল। আইএসকেপির লক্ষ্য হবে কাশ্মীরকে যে কোনও উপায়ে উত্তাল করে তোলা। আর সেই সুযোগে লেট জঙ্গিরা হামলা চালাবে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post