চাপের উপর চাপ, তার উপর চাপ। চাপের বোঝায় ইউনূস এখন চিড়ে চ্যাপ্টা।
এখনও পর্যন্ত কি কি চাপের স্রোতের মুখে পড়তে হয়েছে সেই তালিকায় না গিয়ে নতুন যে চাপের জন্য ইউনূসের পাগল পাগল দশা তা হল জাতীয় নাগরিক পার্টির দুই নেতার বক্তব্য। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে সেফ এগজিট নিয়ে প্রথম মুখ খোলেন নাহিদ ইসলাম। তিনি একটি টেলিভিশন চ্যানেলেক দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, কোন কোন নেতা সেফ এগজিট চাইছে তার একটি তালিকা তিনি সময় হলে প্রকাশ করবেন।
তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই বক্তব্য রাখেন দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। তাঁরা এটাও বলেছেন, জানিয়েছেন, এই বক্তব্য তাঁদের নিজস্ব বক্তব্য নয়, দলের বক্তব্য। আর এই নিয়ে সামাজিক মাধ্যম তোলপাড়। নাহিদ ইসলাম একধাপ এগিয়ে গিয়ে বলেন, তদারকি সরকারকে বিশ্বাস করে চরম ভূল করেছেন। এই সরকার তাঁদের বিশ্বা নিয়ে ছেলেখেলা করেছে। গত বছর সরকার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের সময় অন্তর্বর্তী সরকার গঠন সংক্রান্ত আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্ররাও। সেই সরকারের নাহিদ ইসলাম সহ তিনজন ছাত্র প্রতিনিধিও ছিলেন। এনসিপি সদস্য আখতার হোসেন জানিয়েছেন, গণঅভ্যুত্থানের মূল উদ্দেশ্য ছিল আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বিচার ও সংস্কার। কিন্তু তদারকি সরকারের বেশ কয়েকজন উপদেষ্টা তাদের ওপর ওর্পিত দায়িত্ব পালন না করে পালিয়ে যেতে চাইছেন। নাহিদ এবং সারজিস সেই কথাটাই তুলে ধরেছেন। তবে কারা সেফ এগজিট চাইছেন, সে বিষয়ে দুই নেতা কোনও মন্তব্য করেননি।
এই প্রসঙ্গে তদারকি সরকারের উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘সব রাজনৈতিক দলের মতো নতুন রাজনৈতিক দলের সঙ্গেও সরকারের ভালো একটা কাজের সম্পর্ক আছে। এটা উনি অভিমান থেকে বলেছেন নাকি সরকারের কোনও ভূমিকায় তিনি দুঃখ পেয়েছেন বা তাঁকে আঘাত দিয়েছে, সেটা ওনাকেই বলতে হবে। তারপর সরকার তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করবে। তারা কোনও বক্তব্য বা প্রতিক্রিয়া না দিলে সরকার আগ বাড়িয়ে কোনও কথা বলতে পারে না। ’
রিজওয়ানা হাসানকে প্রশ্ন করা হয়, তিনি নিজে সেফ এগজিট খুঁজছেন কি না? জবাবে বলেন, আমি একদম কোনও কোনও এগজিট খুঁজছি না। দেশেই ছিলাম। এর আগেও বহু ঝড়ঝঞ্জা গিয়েছে। সেসব প্রতিহত করে দেশেই থেকেছি। বাকি জীবন বাংলাদেশেই কাটাব।
এখন প্রশ্ন হল, এটা কি নিছক গুজব নাকি উপদেষ্টাদের অনেকেই সেফ এগজিট খুঁজছেন? যদি তারা সেটা করে থাকেন, তার উদ্দেশ্য রয়েছে। আসলে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরতে চলেছে তা নিয়ে এখন আর কারও দ্বিমত নেই। ইউনূস একটি সরকারের প্রধান হওয়ায় তিনি কোনও না কোনও দেশে আশ্রয় পেলেও পেতে পারেন। কিন্তু তার এতোদিন যারা তবলা-বায়া ধরে ছিলেন, তাদের কী হবে। তদারকি সরকারে এমন অনেক মন্ত্রী আছেন, যাদের খুব একটা পরিচিতি নেই। তাই, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার আগে ইউনূস তাঁর বাঁচার রাস্তা তৈরি করে নেবেন। কিন্তু যাদের হাত ধরে সরকার গঠন করেছিলেন ইউনূস তাদের কথা এখন আর ভাবার তাঁর প্রয়োজন নেই।
আওয়ামী লীগের এক শীর্ষনেতার সঙ্গে তিন দেশের রাষ্ট্রদূত বৈঠক করেছেন। সেই বৈঠকের খবর কানে গিয়েছে যমুনার বাসিন্দার। তার ওপর সেফ এগজিট। ঘরে-বাইরে বিপদের মধ্য দিয়ে দিন কাটছে ইউনূসের।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post