মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার আবারও শেখ হাসিনাকে বিপাকে ফেলতে উঠেপড়ে লেগেছে। বিরোধীদলের কর্মী-সমর্থকদের অপহরণ করে নির্যাতনের অভিযোগ করা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগ গ্রহণ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এমনকি গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি হয়েছে। কিন্তু শেখ হাসিনা এখনও ভারতের আশ্রয়ে রয়েছেন বহাল তবিয়তে। খুব সহজে যে তাঁকে হাতে পাবে না ঢাকা, সেটাও বুঝিয়ে দিয়েছে নয়া দিল্লি। হাসিনার প্রত্যর্পণের অনুরোধ প্রসঙ্গে ভারত স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, এই বিষয়ে বাংলাদেশের সরকারের মধ্যে বিস্তর আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। এই বিষয়ের সঙ্গে যে বিচার বিভাগীয় এবং আইনি প্রক্রিয়া জড়িত রয়েছে, তা-ও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতের অবস্থান স্পষ্ট হওয়ার পরই আবারও মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি দলীয় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে এক অডিও বার্তায় সাফ জানিয়ে দিলেন, মুহাম্মদ ইউনূসের শাসনকালে বাংলাদেশের অর্থনীতি ধ্বংস হয়েছে, গণতন্ত্র নেই, মানবাধিকারও লঙ্ঘিত। এই চরম বিপর্যয় থেকে দেশকে উদ্ধার করতে তিনি দেশবাসীকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর শাসনকালে বাংলাদেশের যে ভাবে উন্নতি হয়েছিল সেই খতিয়ানও দিয়েছেন শেখ হাসিনা।
পাশাপাশি তিনি বিগত এক বছরে মুহাম্মদ ইউনূসের আমলে বাংলাদেশের হাল হাকিকতও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতি ধ্বংস, গণতন্ত্র নেই, মানবাধিকারও লঙ্ঘিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এই চরম বিপর্যয় থেকে দেশকে উদ্ধারে সবাইকে রুখে দাঁড়াতে হবে। পাশাপাশি তাঁর প্রশ্ন, কিভাবে বাংলাদেশের মানুষ এই স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির দ্বারা প্রভাবিত হলেন।
বাংলাদেশে আবারও শেখ হাসিনা ফিরে আসবে। এবং তিনি ফিরবেন স্বমহিমায়। এমনটাই মনে করছেন বাংলাদেশের একটা বড় অংশের মানুষ। কেন তাঁদের মনে এই ধারণা তৈরি হচ্ছে, এই প্রসঙ্গে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহল বলছেন শেখ মুজিবরের ঐতিহাসিক ৩২ নম্বর ধানমন্ডির বাড়িটি ভাঙাই মুহাম্মদ ইউনূসদের মস্ত বড় ভুল। কারণ এই বাড়িটি ঘিরে বাংলাদেশের মানুষের আবেগ ও উন্মাদনা ছিল বাঁধভাঙা। কিন্তু যখন মুষ্টিমেয় কয়েকজন জিহাদি রীতিমতো ঘোষণা দিয়ে এই বাড়ি ভেঙে গুঁড়িয়ে দিল, তখন মুহাম্মদ ইউনূস এবং তাঁর উপদেষ্টারা হাত গুটিয়ে বসে ছিলেন। দূরে দাঁড়িয়ে তা দেখেছিল সেনাবাহিনীর সদস্যরা। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার খবর পেয়েও তা রোখার চেষ্টা করেননি। এটা বাংলাদেশের মানুষের মনে ভিষনভাবে দাগ কেটেছে। জুলাই জঙ্গিদের এই ধ্বংসের খেলা আপাতত শেষ। এবার হবে গড়ে ওঠার খেলা। আর তা করবেন বাংলাদেশের মানুষই। তাঁরা বিশ্বাস করেন, শেখ হাসিনা একদিন ফিরে আসবেন। ৩২ নম্বর ধানমণ্ডির বাড়িটি আবারও মাথা তুলে দাঁড়াবে। বাংলাদেশ আবারও মুক্ত হবে এই স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিগুলির হাত থেকে। আবারও বাংলাদেশের অর্থনীতি, শিল্প, কলকারখানা মাথা তুলে দাঁড়াবে।












Discussion about this post