দিনে দিনে তীব্র হচ্ছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদষ্টার সঙ্গে সে দেশের সেনাপ্রধানের দ্বন্দ্ব। যদিও এই দ্বন্দ্বের প্রসঙ্গ নতুন নয়। গত কয়েকমাস ধরে বারে বারে তা উঠে এসেছে চর্চায়। শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর থেকে এক বছর পার হয়ে গেল, অন্তবর্তী সরকার নির্বাচনের প্রসঙ্গে গড়িমসি দেখাচ্ছে। যা নিয়ে বেশ কয়েকবার প্রকাশ্যেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। একসময় সেনাপ্রধানের অনুপস্থিতিতেই জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে মার্কিন নাগরিক খলিলুর রহমানকে নিয়োগ করে দিয়েছিলেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। তাঁকে কার্যত সেনাবাহিনীর মাথার উপরেই বসিয়ে দেওয়া হয়। এটা করে তিনি সেনা বাহিনীতে বিভেদ তৈরি করতে চাইছেন সুকৌশলে। যা নিয়ে পদ্মাপারে এমন জল্পনাও তীব্র। এবার বিভেদ এমন পর্যায়ে চলে এসেছে, তা কার্যত ময়দানে অবতীর্ণ হওয়ার মতো অবস্থা।
জুলাই আন্দোলণ দমনে শেখ হাসিনা-সহ তাঁর সরকারের বহু মন্ত্রী, আমলা, পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে মামলা চালাচ্ছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী প্রশাসন। সেই তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৬ জন কর্মকর্তাও। জানা যাচ্ছে, ইউনূস সরকার চাইছে, এই সেনাকর্তাদেরও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে মামলা চালাতে। যা কোনও রকমে ঠেকিয়ে রেখেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। এর জন্য তিনি নজিরবিহীনভাবে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বাড়িতেও যেমন গিয়েছিলেন, সেই সঙ্গে ইউনূস সাহেবের বাসভবনেও গিয়েছিলেন এই বিষয়ে কথা বলতে। কিন্তু সরকার অনড়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জেনারেল ওয়াকারকে ভারতে আমন্ত্রণের প্রসঙ্গ। অক্টোবরের মাঝামাঝি নয়া দিল্লিতে সামরিক বিষয়ে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন হওয়ার কথা, সেখানেই আমন্ত্রিত জেনারেল ওয়াকার। কিন্তু তাঁকে ভারতে আসার অনুমতি দেবে কিনা ইউনূস সরকার, সেই বিষয়ে রয়েছে সন্দেহ। ফলে এবার সম্মুখ সমরের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, জেনারেল ওয়াকার হেরে গিয়েছেন মুহাম্মদ ইউনূসের কূটনীতির কাছে। কেউ কেউ বলছেন, জেনারেল ওয়াকার এখনও তাঁর তুরুপের তাস বের করেননি। ফলে তিনি সময়মতো বাজিমাত করবেন।
এই আবহেই মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে দুটি দুঃসংবাদ এসেছে। প্রথমটি হল, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের সভ্য সমর্থকদের উপর দমন-পীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। আর দ্বিতীয়টি হল, জর্জ সোরোসের ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশনের বিরুদ্ধে এবার তদন্তের নির্দেশ দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তারা জর্জ সোরেসের সংস্থাকে “হিংসাত্মক প্রতিবাদ” এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কার্যকলাপের জন্য অর্থ খরচের অভিযোগ আনছেন। উল্লেখ্য, মাস কয়েক আগেই জর্জ সোরসের ছেলে অ্যালেক্সি সোরেস ঢাকায় এসে মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করে গিয়েছিলেন। সবমিলিয়ে বাংলাদেশের বর্তমান যা পরিস্থিতি, তাতে যে কোনও সময় খেলা ঘুরে যেতে পারে। ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের প্রতি উৎসাহ হারিয়েছে। যদিও একটি মার্কিন রণতরী এই মুহূর্তে বাংলাদেশের উপকূলে এসে পৌঁছেছে। কিন্তু সেটাও বেশিদিন থাকবে না। কারণ, ট্রাম্প এবার আর ভারতের বিরুদ্ধে যাবেন না। ফলে মুহাম্মদ ইউনূস বেকায়দায় পড়েছেন, এটা বলাই বাহুল্য।












Discussion about this post