বাংলাদেশ সেনানিবাসে গুমোট পরিস্থিতি। বৃহস্পতিবার ৫৬ জন জেনারেল সেনানিবাসে বৈঠক করেছেন। যা নিয়ে শুরু হয়েছে নানান ধরণের গুজব। এই আলোচনা তৈরী হওয়ার কারণ, আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনাল থেকে ৩০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারেই পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। যার মধ্যে অধিকাংশই সেনা কর্মকর্তা। এছাড়াও রয়েছেন বর্তমানে চাকরি করা ১৪ জনের বেশি সেনা অফিসাররাও। তাদের বিরুদ্ধে নানান ধরণের অভিযোগ আনা হয়েছে যেমন গুম, খুন ও আয়নাঘর কাণ্ডের। চাকরিরত অফিসারদের বিরুদ্ধে এই ধরণের অভিযোগের কারণে সেনা উত্তেজনা বাড়তে পারে এবং সেনা অফিসারদের সাথে সরকারের সম্পর্ক খারাপ হতে পারে বলে মনে করছেন বহু মানুষ।
আসল ঘটনাটা কি ? আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল একটি বিশাল সিদ্ধান্ত নিয়েছে অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্তা ও চাকরিরত অফিসারদের বিরুদ্ধে। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করা হয়েছে। চাকরিরত সেনাদের বিরুদ্ধে একশান নিয়েছে সরকার ও আদালত। ৩০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে আদালতের তরফে। এই তালিকায় রয়েছেন, শেখ হাসিনা সহ তার স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, নিরাপত্তা উপদেষ্টা সহ ২৪ জন অবসরপ্রাপ্ত ও চাকরিরত সেনাকর্তারা। অভিযুক্তদের আগামী ২২ শে অক্টোবরের মধ্যে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনালে তাদের বিচারের কার্যক্রম করা হবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজিউল ইসলাম বলেন, অভিযুক্তদের মধ্যে ১৪ জন সেনাকর্মকর্তা বর্তমানে চাকরিরত। এছাড়াও রয়েছেন ১০ জন অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মকতা।
ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে, সামরিক বাহিনীর কোনো কর্মকর্তা ও সদ্যসের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ উঠলে তার বিরুদ্ধে বিচার বা তদন্তের ক্ষেত্রে কোন আইন প্রযোজ্য ? এক্ষেত্রে কী সামরিক বাহিনীর নিজস্ব আইনে সামরিক আদালতে নাকি প্রচলিত ফৌজদারি আইনে বিচার করা হবে ?
অন্যদিকে, ৬ ই অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল আইনে নতুন সংশোধন করা হয়েছে যে এই অপরাধে অভিযুক্ত ব্যাক্তিদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ যেমন – চেয়ারম্যান, সাংসদ, মেম্বার সহ কোনো জনপ্রতিনিধি হিসেবে থাকতে পারবেন ও নির্বাচন করতে পারবেন না। এছাড়াও কোনো প্রকার সরকারি চাকরি তাদের থাকবে না। সংশোধিত আইনে অভিযুক্ত কর্মরত ১৪ জন সেনার চাকরি আর থাকবে না।
আইনজীবী মহলের দাবি, সামরিক বাহিনীর এত সংখ্যক কর্মকর্তা ও সাবেক কর্তাদের অভিযুক্ত হওয়ার ঘটনা বিরল। এর আগেও আওয়ামীলীগের আমলে নারায়ণগঞ্জে সেভেন মার্ডারে যারা RAB এর দায়িত্ব পালন করতেন তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিলেন এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে তাদের ফৌজদারি আদালতে বিচার করা হয়েছিল। প্রথমে সেনাবাহিনী থেকে তাদের অবসরে পাঠানো হয়েছিল তারপর ফৌজদারি অপরাধে সাধারণ আদালতে তাদের বিচার করা হয়েছিল। এই ক্ষেত্রেও এমনটা হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।
এখন দেখার সেনাকর্তাদের বিচার প্রক্রিয়া কোন পদ্ধতিতে হয়। সেনা আইনে নাকি সাধারণ আদালতে তা সম্পূর্ণটাই সময় সাপেক্ষ।












Discussion about this post