হাতে গোনা কয়েকটি দিন বাকি আছে এটা জানার জন্য যে, ইউনূসের সরকার যে সেনাবাহীনিকে পুলিশের মত করে ব্যবহার করেছে, যারা বিভিন্ন সময়ে পুলিশের পাহারাদার হিসাবে কাজ করেছে, সেই পুলিশই কি সেনাকর্তাদের গ্রেফতার করে নাকি তার আগেই বিক্ষুব্ধ সেনাবাহীনি কিছু একটা ঘটিয়ে দেয়। এর পরও যদি সেনাবাহীনি চুপ করে বসে থাকে তবে তা দেশের জন্য মারাত্মক হতে পারে। যদি গুম খুনে সত্যিই কেউ অভিযুক্ত হন তাহলে তার বিচার হওয়া অবশ্যই জরুরি। কিন্তু সেনাবাহীনি একটি দেশের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা সেটি সবাই বোঝেন, তাই তাদের বিচার সিভিল কোর্টে হওয়া উচিৎ কিনা তা ভেবে দেখা উচিৎ ছিল ইউনূস সাহেবের। সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান বার বার চেষ্টা করেছেন যে সেনাঅফিসারদের বিচার যেন ট্রাইব্যুনাল কোর্টে না করে ১৯৫২ সালের আইন অনুযায়ী বিচার করা হোক। আর এই নিয়ে সেনাক্যান্টনমেন্টে একটা টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে। আর এই নিয়ে ক্যান্টনমেন্ট তোলপাড় যে কিভাবে বিচার হওয়া উচিৎ। যেখানে ৫৬ জন জেনারেলই সিভিল কোর্টে বিচারের বিরুদ্ধে। এবং সেনাপ্রধান বার বার নিজেদের মধ্যে আলাপ আলোচনা চালাচ্ছেন। তিনি একদিকে বলছেন তার ভাই সম সেনাদের প্রিজনভ্যানে করে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়া তিনি দেখতে পারবেন না। আবার অন্যদিকে সেনাদফতর কিছু একটা ঘটিয়ে দিতে পারে, এই আশঙ্কা করছে পিনাকী বাবুও।
এখন দেখার পিনাকী বাবুরা কেন এই আশঙ্কা করছেন। আসলে ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের আগে যখন ছাত্রনেতাদের সঙ্গে আগস্টের তিন তারিখের মিটিং এর পর ওয়াকার উজ জামান ঠিক করেছিলেন যে সেনারা আর সরকারের কথা মেনে আন্দোলোনকে দমন পীড়নের মাধ্যমে থামাবে না। তখন সেনার মধ্যেই দুটি ভাগ হয়ে গিয়েছিল, অনেকেই সরকারের পক্ষ্যে থাকতে চাইছিল। তখন ডিজিএফআই প্রধান হামিদুল হক সকলকে বুঝিয়ে ঠিক করেছিল যে তারা আর সরকারের পক্ষ্যে গিয়ে কোন কাজ করবে না। এবং তখন এই হামিদুল হকের সঙ্গে জামাতের তীব্র ঘনিষ্ঠতা দেখা গিয়েছিল। এখন সরকার এই হামিদুল হক এবং সেনাপ্রধানের বিরুদ্ধে কাজ করছেন। ফলে তারা নিজেদের প্রতারিত বোধ করছেন এবং এই প্রতারণার প্রতিশোধ চাইছেন। ফলে ২২ তারিখের আগে যদি সেনা শাসন নেমে আসে তাহলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। আর এই ভেবে পিনাকী ভট্টাচার্য্য ফেসবুক পোটি দিয়ে মহম্মদ ইউনূস সাহেবকে সাবধান করেছেন যে। প্রিয় দেশবাসী সতর্ক থাকুন, সশস্ত্র বাহীনির শীর্ষ নেতৃত্ব বিপজ্জনক আচরণ করছেন। গতবুধ বার আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী শাসনআমলে সরকার বিরোধী মানুষদের খুন গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় ডিজিএফআইয়ের সাবেক পাঁচ ডিজির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে তা আমলে নেওয়ার এবং আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করা হয়েছে। জেনারেল পর্যায়ের শীর্ষ অফিসারদের বিরুদ্ধে মামলা করায় এতে সশস্ত্র বাহীনির জেনারেলরা খুবই গোসসা করেছে। আজ সেনা বাহীনির টপ অফিসারদের জরুরি সম্মেলন বসেছে। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানসহ ৫৬ জন জেনারেলই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক জারি করা আদেশের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। পরিস্থিতি দ্রুত ভিন্ন দিকে মোড় নিচ্ছে। প্রাক্তন সেনাপ্রধানদের আর্মি হেড কোয়ার্টারে ডাকা হবে বলে জানানো হয়েছে। আসন্ন বিপদ সম্পর্কে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহম্মদ ইউনূসের উচিত জরুরিভিত্তিতে দেশবাসীকে অবহিত করা।












Discussion about this post