একদিকে এসআইআর অন্যদিকে শিয়রে বিধানসভা নির্বাচন। এই আবহেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়ির সামনে থেকে এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ। যার ব্যাগে বন্দুক ছিল। কিন্তু রহস্যজনকভাবে তাঁকে আটক করেও ছেড়ে দেওয়া হয়। যা নিয়ে কৌতুহলের সৃষ্টি হয়েছে সমাজমাধ্যমে। কেনই বা ওই ব্যক্তি এয়ারগান নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, আবার কেনই বা তাঁকে গ্রেফতার করা হল না! এই প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজছে সোশ্যাল মিডিয়া। ছড়িয়ে পড়ছে নানা ধরণের মিম।
অদূরেই মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি, কালীঘাট থানা। সদাব্যস্ত হাজরা মোড়ের কাছে মুখ্যমন্ত্রী মতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির গলির সামনে ঘোরাঘুরি করছিলেন মাঝ বয়সী এক ব্যক্তি। দেখেই সন্দেহ হয় সেখানে উপস্থিত থাকা পুলিশকর্মীদের। তাঁকে ধরে ব্যাগ তল্লাশি করতেই চক্ষু চড়কগাছ তাঁদের। ব্যাগে রয়েছে একটি বন্দুক। সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় কালীঘাট থানায়। এরপর দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ পর্ব চলে। তবে রাতের দিকে তাঁকে ছেড়েও দেয় পুলিশ। জানা গিয়েছে, ওই বন্দুকটি আসলে একটি এয়ারগান, যার লাইসেন্সও ছিল ওই ব্যক্তির কাছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ওই ব্যক্তির নাম দেবাঞ্জন চট্টোপাধ্যায়। তিনি সল্টলেকের সিএ ব্লকের বাসিন্দা, পেশায় এক বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক। তিনি নাকি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন এক বিশেষ কারণে। সেই কারণ কি সেটা অবশ্য পুলিশ খোলসা করেনি। তবে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর সবদিক থেকে সন্তুষ্ট পুলিশ কর্তারা তাঁকে থানা থেকেই ছেড়ে দেন। জানা যাচ্ছে, দেবাঞ্জন শ্রীরামপুর রাইফেল ক্লাবের সদস্য, তাই সঙ্গে এয়ারগান ও কার্তুজ রাখতে পারেন সঙ্গে। উল্লেখ্য কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির গলি রীতিমতো ‘হাইসিকিউরিটি জোন’। সেখানে যেমন পুলিশ মোতায়েন থাকে, তেমনই গোয়েন্দা বিভাগের আধিকারিকরাও সাদা পোশাকে নজর রাখেন সর্বদা। এমন এক এলাকায় একজন ব্যাগে করে এয়ারগান নিয়ে ঢুকে পড়া মানে নিরাপত্তার গাফিলতি। এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
এর আগে ২০২২ সালের ৩ জুলাই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে লুকিয়ে ঢুকে পড়েছিলেন এক আগন্তক। প্রথমে কেউ বুঝতে না পারলেও পরে বিষয়টা জানাজানি হয়। মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তারক্ষীরা পরদিন সকালে দেখতে পেয়ে ওই ব্যক্তিকে পাকড়াও করে কালীঘাট থানার পুলিশের হাতে তুলে দেন। সেবারও খুব হইচই হয়েছিল। তবে এবার আর সেই রকম কিছু হয়নি। উল্লেথ্য, রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান মুখ্যমন্ত্রীর জন্য জেড ক্যাটাগরির সুরক্ষা থাকে। মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির চারিদিকেই থাকেন নিরাপত্তা রক্ষীরা। সাদা পোশাকেও নজরদারি চালানো হয়। ওই এলাকায় অনেক সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। সেই কঠোর সুরক্ষাবলয় ভেদ করে বছর তিন আগে একজন ব্যক্তি ৩৪বি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির অন্দরেই ঢুকে পড়েছিলেন। এবার যদিও বাড়ি অবধি পৌঁছতে পারেননি স্কুল শিক্ষক দেবাঞ্জন চট্টোপাধ্যায়। তার আগেই তাঁকে পাকড়াও করে পুলিশ। তবে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে বন্দুক হাতে এক ব্যক্তি পৌঁছে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তে একটা চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছিল। কিন্তু পরে যখন জানা যায়, তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, তখন সোশ্যাল মিডিয়ায় এটা নিয়ে নানান মিম ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। কেউ কেউ কটাক্ষ করে বলেন, এটাও এক জুমলা। যেমনটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিপদে পড়লেই করে থাকেন। ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনের আগে যেমন তাঁর পা ভেঙেছিল এবং সেই ভাঙা পা নিয়েও গোটা রাজ্য চষে বড়িয়েছিলেন। এবারও বিধানসভা নির্বাচনের আগে সেরকই একটা কিছু করতে চেয়েছিল কি তৃণমূল কংগ্রেস?












Discussion about this post