একটা ঘটনায় সেনাপ্রধান ওয়াকারের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। ঢাকায় কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, উত্তরপাড়া জুড়ে গুমোট আবহাওয়া। পারিপার্শ্বিক পরিবেশ বলছে, যে কোনও সময় বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার মধ্যে পড়তে পারেন সেনাপ্রধান ওয়াকার। তাঁর বাহিনীর সদস্যেরা বিদ্রোহ ঘোষণা করলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। কারণ, এক ধাক্কায় বাহিনীর এতজন সদস্যের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগে মামলা দায়ের বিশ্বের অন্য কোনও দেশে কোনওদিন ঘটেছে কি না, কেউ বলতে পারছে না। যে পাকিস্তান কোনও না কোনও ঘটনায় সমালোচিত হয়, সেই পাকিস্তানেও কোনওদিন এই ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করতে পারছে না।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনা এবং অবসরপ্রাপ্ত ও কর্মরত সেনা অফিসারদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর বাহিনীর মধ্যে অস্থিরতা তৈরি হয়। হাওয়া খারাপ বুঝতে পারে, সেনাপ্রধান ওয়াকার সেনা নিবাসে জরুরী বৈঠক করেন। বাহিনীর একাংশের মতে, এভাবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সেনাসদস্যদের বিচার করা যায় না। যদিও সুপ্রিম কোর্টের বরিষ্ঠ আইনজীবী জ্যোতির্ময় ব়ড়ুয়া বলেন, ‘সেনাবাহিনীর কোনও সদস্য পেশাগত কাজ করতে গিয়ে যদি কোনও অপরাধ করেন, তাহলে সে ক্ষেত্রে তাঁর সামরিক আইনে বিচার হতে কোনও বাধা নেই। কিন্তু যদি জনগণের বিরুদ্ধে কোনও অপরাধ করে থাকেন, তখন তাঁর বিচার সাধারণ আদালতে হতেই পারে। ইতোপূর্বে এই ধরনের বিচারের নজির রয়েছে।’ সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ কয়েকজন আইনজীবী এবং সাবেক সেনা কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বাংলাদেশের বিচারিক ব্যবস্থায় এ ধরনের মামলার আরও উদাহরণ আছে।
তারা জানান, এর আগে ২০১৪ সালে নারায়ণগঞ্জের সাত খুন মামলায় তৎকালীন তিনজন সেনা কর্মকর্তা, যারা র্যাবের অধীনস্ত ছিলেন তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। সে সময় তাদের সেনা বাহিনী থেকে অবসরে পাঠানো হয়েছিলো। পরে সাবেক ওই তিন কর্মকর্তার বিচার প্রচলিত ফৌজদারি আইনেই হয়।
আইন তো আইনের কথা বলবে। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি বলছে অন্যকথা।
সেনাপ্রধানের ভূমিকায় অখুশি তার সিপাহীরা। তারা মনে করছেন, ওয়াকার চাইলে এই রকম অস্বস্তিকর পরিস্থিতি এ়ডাতে পারতেন। তার হাতে সেই ক্ষমতা ছিল। যে অপরাধে আজ বাহিনীর এতজন সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হচ্ছে, সেটা হাসিনা আমলেও হতে পারত। চাইলে সেনাপ্রধান উদ্যোগ নিতে পারতেন। কিন্তু তিনি হাত গুটিয়ে বসে রইলেন। আর এমন একটি সরকারের শাসনামলে এতজন সেনাকর্তার বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে বিচার প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হচ্ছে, যে সরকারের সাংবিধানিক কোনও বৈধতা নেই। এই সরকারকে আন্তর্জাতিক মহল স্বীকৃতি দেয়নি। তারা এই সরকারকে মানে না। অথচ সেই সরকারে আমলে একসঙ্গে এতজন সেনাসদস্যকে বিচার প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এটা বাহিনীর কাছে অসম্মান ছাড়া আর কিছুই নয়। সেনাপ্রধান জেনেশুনে এই কাজটি করেছেন। তিনি চেয়েছেন বাহিনী মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়ে তাদের মনবলে আঘাত হানতে। কিন্তু এতে হীতে বিপরীত হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। বাহিনীর বাকি সদস্যরা যে কোনও সময় তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে তাঁর আশ্রয়হীন হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। সমর বিশেষজ্ঞদের অনেকে বলেছেন, সেই সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সেটা সেনাপ্রধান ওয়াকারও বুঝতে পেরেছেন। সে কারণে তিনি তাঁর কোর কমিটির সদস্যদের নিয়ে বৈঠক করেছেন।












Discussion about this post