আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা পরিচালনার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের সমমর্যাদায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলামকে চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল সরকার। যিনি কার্যত একা হাতেই আওয়ামী লীগ এবং শেখ হাসিনাকে শেষ করতে উঠে পড়ে লেগেছেন। সেই তাজুল ইসলামের নিয়োগ নিয়েও কিন্তু বিতর্ক রয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, তাজুল ইসলাম কোন পক্ষের আইনজীবী, বাদি নাকি বিবাদি পক্ষের? উল্লেখ্য, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া জামায়াতে ইসলামীর নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলামের করা রিভিউ আবেদনের শুনানিতে অংশ নিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। অর্থাৎ তিনি এখন রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী। এই তাজুল ইসলামই আবার মুক্তিযুদ্ধের সময় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আজহারুলের হয়েই মামলা লড়েছিলেন। সেই সময় তাঁর বিরুদ্ধে ‘স্বার্থের সংঘাত’ তৈরি হওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। কিন্তু তিনি তাজুল ইসলাম, এর আগে একাধিকবার যিনি জামাত ও সন্ত্রাসীদের হয়ে আদালতে সাওয়াল করেছেন। তাঁদের মুক্তির ব্যবস্থাও করেছেন অ্যাডভোকেট তাজুল। ফলে তিনি যে শেখ হাসিনাকে ফাঁসিকাঠে ঝোলানোর জন্য সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তি, সেটাই মনে করেন জামাতের শীর্ষ নেতারা। আর এটাই তাঁর সার্টিফিকেট বাংলাদেশের চিফ প্রসিকিউটর হওয়ার জন্য।
তাজুল ইসলামের জন্ম ১৯৭৩ সালের ২৫ মার্চ জামালপুর জেলায়। ১৯৯৫ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যাল থেকে এলএলবি এবং ১৯৯৬ সালে এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৯৮ সালে তিনি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সদস্য হন এবং আইনজীবী হিসেবে তাঁর কেরিয়ার শুরু করেন। ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। তাজুল ইসলাম আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত একাধিক শীর্ষ নেতার হয়ে সাওয়াল করেছেন। এরমধ্যে ২০১৩ সালে জামায়তে ইসলামী বাংলাদেশের সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লা, যার মৃত্যুদণ্ড হয়েছিল। আবার বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ বা মুক্তিযুদ্ধের সময়কার যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত আলী আহসান মোহম্মদ মুজাহিদের পক্ষেও আইনজীবী ছিলেন। ২০১৫ সালে তাজুল ইসলাম গ্রেফতারও হয়েছিলেন। তাঁকেই ২০২৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর হিসেবে নিযুক্ত করে ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার। তার আগে তিনি আমার বাংলাদেশ বা এবি পার্টির যুগ্ম আহ্বায়কের পদে ছিলেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের যে মামলাগুলিতে তাজুল ইসলাম বিবাদীপক্ষের আইনজীবী ছিলেন। আবার বাংলাদেশের চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর তিনি হয়ে গেছেন বাদীপক্ষের প্রধান আইনজীবী। বিশেষ করে জামাত নেতা আজহারুলের মামলায় তাজুল ইসলামের যোগদান একটি ‘অভূতপূর্ব’ পরিস্থিতি তৈরি করেছিল। তা বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের পেশাগত আচরণ ও শিষ্টাচারবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের একাধিক আইনজীবী। কিন্তু এত বিতর্ক থাকলেও তাজুলকেই দায়িত্বে রেখে দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। কারণ, তিনিই মূলত হাসিনার বিরুদ্ধে পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য প্রমান জোগার করছেন। বিশেষ করে হাসিনার কল রেকর্ড, ফরেন্সিক প্রমান জোগার করছেন তিনি। পাশাপাশি তাজুল ইসলাম আদালতে একের পর এক যুক্তি সাজিয়ে আওয়ামী আমলের মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীকে দোষী সাব্যস্থ করতে মরিয়া। কিন্তু তাজুল এবার ফেঁসেছেন। ২৫ জন বর্তমান ও সাবেক সেনাকর্তাকে মামলায় যুক্ত করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল। এর পিছনেও তাজুলের মস্তিষ্ক। কিন্তু এটা করতে গিয়ে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর লেজে পা দিয়ে দিয়েছেন। যা নিয়ে এই মুহূর্তে সরগরম বাংলাদেশ। সেনাবাহিনী কার্যত অপরাধ ট্রাইবুনালকেই অস্বীকার করতে চাইছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক তিনদিন আগেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের শুল্ক চুক্তি স্বাক্ষর নিয়ে আজও আলোচনা হচ্ছে। বাংলাদেশে গত...
Read more












Discussion about this post