তবে কি সর্ষের মধ্যেই ভূত ?
প্রশ্নটা তোলার কারণ ওয়ারেন্ট পাওয়া বাংলাদেশ সেনা অফিসারদের বেশ কয়েকজন দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। সে দেশের বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমের দাবি, তারা পরিবার নিয়ে পালিয়েছেন। রয়েছে ভারত। কেউ রয়েছেন দিল্লি। কোনও কোনও সেনাকর্তা রয়েছে কলকাতায়। তারা বাড়ি ভাড়া করে রয়েছেন। ব্যাপারটা এমন নয় যে এই সেনাকর্তারা, যাদের মধ্যে অনেকে আবার সার্ভিং অফিসার আছে, তারা কোনও দুর্গম গিরিপথ অতিক্রম করে ভারতে চলে গিয়েছেন। আর বাহিনী কিছু জানে না। বাহিনীর তরফ থেকে এই তত্ত্ব তুলে ধরা হলেও তার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। আর সেটাই স্বাভাবিক। তাদের এই য: পলায়তি স: জীবতি,মানে আপনি বাঁচলে বাপের নাম – ব্যাপারটা ভারতীয় সেনা জানে না। সীমান্তে এতটাই কড়া নজরদারি রয়েছে দুই বাহিনীর, তাদের নজর এড়িয়ে কেউ সীমানা অতিক্রম করতে পারে না। অথচ এই সেনাকর্তারা বিনা বাধায় সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢুকে গেলেন আর দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী কিছু জানে না, এটা বিশ্বাস করা বেশ কষ্টকর। বাংলাদেশের একাংশের ধারণা, দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে গোপন একটা বোঝা পড়া হয়েছে। আর সেই গোপন বোঝাপড়ার দৌলতে এরা নিরাপদে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। আর এই আশ্রয় নেওয়ার ক্ষেত্রে সাউথব্লকে মদত রয়েছে।
যে সব সেনাকর্তাদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে নয় জন লেফটেন্যান্ট জেনারেল, মেজর জেনারেল। তাদের মধ্যে দুইজন সার্ভিং অফিসার। এরা হলেন মেজর জেনারেল সারোয়ার, কবীর আহমেদ। এরা যাতে সেফ এক্সিট পায়, তার জন্য সরকারিস্তরে উদ্যোগ নেওয়া হয়। সূত্রে পাওয়া খবর অনুসারে, এই দুইজনকে কোনও দেশের রাষ্ট্রদূত পদে নিয়োগ করা যায় কিনা, তা নিয়ে আলোচনাও চলছিল। তার মানে কোনও একটা প্রান্ত থেকে এদের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ করার সবুজ সংকেত এসেছিল।
সেনাবাহিনীর তরফ থেকে সরকারিভাবে বিবৃতি আসে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির তিনদিন বাদে। সেই সাংবাদিক সম্মেলনে বলা হল, এই সব ঘটনাপ্রবাহ তারা জেনেছেন টিভির স্ক্রল দেখে। কি অদ্ভূত কাণ্ড। বাহিনীর এতজন সদস্যের বিরুদ্ধে এত বড়ো একটা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে আর উত্তরপাড়া কিছুই জানে না!
আসল কথা হল, বাহিনী সেই সময় ব্যস্ত ছিল কয়েকজন কর্তার সেফ এক্সিট নিয়ে। বাহিনী এও বলছে, তাদের হাতে এই সব বিষয়ে লিখিতভাবে কিছু আসেনি। বেশ স্ববিরোধী কথাবার্তা। যদি লিখিতভাবে বাহিনী কিছু না পেয়ে থাকে, তাহলে সেনানিবাসের একটি অংশকে সাততাড়াতাড়ি অস্থায়ী কারগার হিসেবে তৈরি করা হল কেন। অথচ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর বলেছেন, এই সেনা সদস্যরা কোথায় থাকবেন, কোথায় তাদের রাখা হবে সে ব্যাপারে বাহিনীর সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনও অধিকার নেই। নেবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সূত্রের খবর কবীর আহমেদ ৮ অক্টোবর বাংলাদেশ ছেড়ে তিনি পরের দিন ভারতে পৌছান। রয়েছেন কলকাতায় সপরিবারে। কলকাতায় যে পাড়ায় তিনি রয়েছেন, সেখানেই রয়েছেন ডিজিএফআইয়ের এক শীর্ষ কর্তা।
কবীর আহমেদের বাড়িত সরকারের তরফে লোক পাঠানো হয়েছিল। পরিবার জানায়, তিনি আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলার জন্য ৮ অক্টোবর বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছেন। এরা একাই নয়, ভারতে বাস করছেন আরও কয়েকজন।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post