ভাবা যায় দেশের একজন সেনাপ্রধানকে হুমকি হজম করতে হচ্ছে?
ভাবনা না গেলেও বাস্তবে সেটাই হচ্ছে। ১৬ অক্টোবর শুনানি শেষে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল ট্রাইব্যুনাল বা আসিটি) চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। হেফাজতে নেওয়া ১৫ সেনা কর্মকর্তার স্ট্যাটাস কী হবে, সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, তাঁদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ বলেনি যে সেনাকর্মকর্তাদের আটক করা হয়েছে। এই নিয়ে সংবাদমাধ্যমে যা এসেছে, সেটিকে তার আমল দিতে নারাজ। যদি বলা হয় আটক করা হয়েছে, তাহলে অবশ্যই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতের সামনে পেশ করতে হবে। এটাই দস্তুর। যেহেতু তারা এই সব বিষয়ে কিছু জানেন না, তাই এই ব্যাপারে তাঁরা কোনও মন্তব্য করতে চাইছেন না। তাজুল ইসলাম এও বলেন, এটা আইসিটির বিধান নয়। সংবিধানেও একই কথা বলা হয়েছে। গ্রেফতার করার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে পেশ করতে হবে।
তাজুল ইসলামের এই মন্তব্যের প্রেক্ষাপটে রয়েছে অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামানের একটি মন্তব্য। গত ১২ অক্টোবর সাংবাদিক সম্মেলনে মেজর জেনারেল বলেন, ‘অভিযুক্ত কর্মরত সেনাকর্মকর্তাদের পরিবার থেকে আলাদা করে একটি নিরাপদ জায়গায় রাখা হয়েছে। আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিষয়ে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নেবে।’
এই সব জেলে নিয়ে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বরিষ্ঠ আইনজীবী ও গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুব্রত চৌধুরী সে দেশের একটি পত্রিকাকে জানিয়েছেন, ‘আটকদের পুলিশের হাতে তুলে দিতে হবে বা আদালতে পেশ করতে হবে। অতীতেও দেখেছি, বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে যেমন হুসেইন মহম্মদ এরশাদ, বেগম খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনাকে গেজেট করে সাব জেল ঘোষণা করা হয়েছিল। নিরাপত্তার স্বার্থে এটা করা যেতে পারে। কিন্তু বাহিনী এটা করতে পারে না। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের হ্যান্ডওভার করতে হবে। বিচারকাজের ক্ষেত্রে তাদের হস্তান্তর করতে হবে। ওই সব আর্মি অফিসার পুলিশের মাধ্যমে আদালতে হাজির করতে হবে। সেটি এখনও হয়নি। এখানে আইনের ব্যতয় ঘটেছে। ’
এই প্রসঙ্গে টিআইবির (ট্রান্সপেরেন্সি ইন্টারন্যাশনাল ট্রাইব্যুনাল) নির্বাহি পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “ মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্তদের বিচার প্রক্রিয়ায় ব্যক্তির পেশাগত পরিচয় বা পদমর্যাদার বিবেচনা করার কোনও সুযোগ নেই। এভাবে কাউকে বিশেষ সুযোগ-সুবিধা প্রদান বা মূল্যায়ন, ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।” তাঁর প্রশ্ন, একই অভিযোগে অভিযুক্ত বাকিরা যদি বেসামরিক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায় জেলে থাকতে পারেন, তাহলে অভিযুক্ত সেনাকর্তাদের সাব জেলে কেন রাখা হবে। ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “সরকারের এই বৈষম্যমূলক আচরণ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে। ঘুরিয়ে তাঁর ভুক্তভোগী এবং তাদের পরিবার সহ জনমনে সরকারের উদ্দেশ্য নিয়ে বিভ্রান্তি ও ঝুঁকি তৈরি করবে।”
যদিও সুপ্রিম কোর্টের অপর বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার এম সরোয়ার হোসেন বলেন, “আমার মনে হয় বিষয়টি নিয়ে সবার মাঝে ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে। যদিও সবার সব আইন বোঝার কথা নয়। সেনা আইন অনুসারে সেনাবাহিনী চাইলে তাদের কোনও কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে কোথাও অ্যাটাচ করতে পারে। তাই বলে এটা কিন্তু গ্রেফতার নয়। এটা আইনগতভাবেই হয়। বাহিনীর এই সব সদস্য বাংলাদেশে দ্য আর্মি অ্যাক্ট ১৯৫২ এবং অল আদার সিভিল ল্য দ্বারা পরিচালিত। সুতরাং, আর্মি আইন অধীনেই তাদের আটকে রাখা হয়েছে। ”












Discussion about this post