বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধু মুজিবের কন্যা শেখ হাসিনা ঘনিষ্ঠ ১৫ সেনা কর্তাকে গ্রেফতার নিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে তুঙ্গে উঠেছে অসন্তোষ। তার মধ্যেই ঢাকায় এসে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একাধিক শীর্ষ কর্তার সঙ্গে বৈঠক করেছেন ভারতীয় সেনার মিলিটারি ইন্টিলিজেন্সর তিন শীর্ষ আধিকারিক। আর তাতেই ঘুম উড়েছে মুহাম্মদ ইউনূসের।সেনা অভ্যুত্থানের আশঙ্কায় গোপন বৈঠকে বিএনপি ও জামায়াত শীর্ষ নেতাদের থেকেও পরামর্শ নিয়েছেন। বাংলাদেশ সেনায় থাকা দুই দলের সমর্থক আধিকারিক ও জওয়ানরা যাতে সেনা অভ্যুত্থান প্রতিরোধ করতে সচেষ্ট হয় করজোড়ে সেই অনুরোধ করেছেন। একটি বাংলাদেশের সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে গত ১৪ অক্টোবর ঢাকার মাটিতে পা রেখেছিলেন ভারতীয় সেনা গোয়েন্দা সংস্থার তিন আধিকারিক। তার মধ্যে একজন মেজর জেনারেল পদমর্যাদার। বাকি দুজনের একজন ব্রিগেডিয়ার ও একজন কর্নেল। মেজর জেনারেল পদমর্যাদার আধিকারিক কুন্দন কুমার সিংহ আবার ভারতীয় সেনা গোয়েন্দা সংস্থার অতিরিক্ত মহাপরিচালকের দায়িত্বে।ঢাকায় তিনদিন থাকার কথা থাকলেও কে কে ছিলেন চার দিন।গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকা ত্যাগ করে দিল্লির উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।’এখানেই যত ঘোঁট বাঁধছে তবে কি তলে তলে সেনাপ্রধান ভারতের উপরে ভরসা করে আছেন, কারণ জেনারেল ওয়াকার ভালোভাবেই জানেন হাসিনা ভারতের বন্ধু আর এখন তাঁর যা পরিস্থিতি তাতে নিজে এবং সেনাবাহিনীকে বাঁচাতে ভারতের আশ্রয়ের তলায় আসতেই হবে। তবে ঢাকায় অবস্থানকালীন ভারতীয় তিন সেনা গোয়েন্দা আধিকারিক ডিজিএফআই, অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল, কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল, সশস্ত্র বাহিনীর অপারেশন, পরিকল্পনা ও গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। দেশে ফেরার আগে বারিধারা কমপ্লেক্সে ভারতীয় দূতাবাসের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গেও মধ্যাহ্নভোজ-বৈঠকে অংশ নেন। ওই বৈঠকে হাজির ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা, ডেপুটিহাইকমিশনার পবন কুমার বাধে সহ মিশনের পদস্থ কর্তারা।কিছু সূত্র জানাচ্ছে সেখানে স্বমহিমায় প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। কিছু জন আবার গোপন বার্তায় জানাচ্ছেন এই বৈঠক লিড করেছিলেন সেনাপ্রধান ওয়াকার নিজেই।বাংলাদেশ সেনার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘গত বছর ৫ অগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরে দেশে ভারত বিরোধী বিদ্বেষ চূড়ান্ত জায়গায় পৌঁছেছে। তাই ভারতীয সেনা গোয়েন্দাদের সফরের বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছিল। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কিসের এত গোপনীয়তা তা নিয়েই রহস্যের দানা বাঁধছে তবে কি নিশ্চুপ ক্যান্টনমেন্টের ভিতরেই যত প্ল্যানিং এর ব্লু প্রিন্ট তৈরি করছেন সেনাবাহিনীকে নিয়ে সেনাপ্রধান? এবং আতঙ্কিত সেনা প্রধান ওয়াকারের বাহিনী এও জানায় যে-আগ বাড়িয়ে জানালে পাকিস্তানপ্রেমী জামায়াত ইসলামী ও তাদের দোসররা শোরগোল পাকাতে পারত ও ভারতীয় দূতাবাসেও হামলা চালাতে পারত।’
প্রসঙ্গত, দেশত্যাগী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচারের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তরফে গত ৮ অক্টোবর মুক্তিযুদ্ধ অনুসারী ২৫ প্রাক্তন সেনা আধিকারিকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। যাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতার পরোয়ানা জারি হয়েছে তাঁরা হলেন ডিজিএফআই-এর প্রাক্তন মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল, আকবর হোসেন, ডিজিএফআই-এর প্রাক্তন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল, সাইফুল আবেদিন,ডিজিএফআই-এর প্রাক্তন মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেলসাইফুল আলম, ডিজিএফআই-এর প্রাক্তন মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল, আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী, ডিজিএফআই-এর প্রাক্তন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল, হামিদুল হক, ডিজিএফআই-এর সিটিআইবির প্রাক্তন পরিচালক মেজর জেনারেল,মোহাম্মদ তৌহিদুল উল ইসলাম, ডিজিএফআই-এর সিটিআইবির প্রাক্তন পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ সরওয়ার হোসেন, ডিজিএফআই-এর সিটিআইবির প্রাক্তন পরিচালক মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ, ডিজিএফআই-এর সিটিআইবির প্রাক্তন পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী, ডিজিএফআই-এর সিটিআইবির প্রাক্তন পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল মখছুরুল হক। ওই গ্রেফতারি পরোয়ানার পরেই তবে কি সেনাপ্রধান উঠে পড়ে লেগেছেন ইউনূসকে শিক্ষা দিতে ভারতকে পাশে পেতেই হবে! এবং ক্যান্টনমেন্টে দাঁড়িয়ে সেনাপ্রধান ভারতের শক্তির কাছেই ভরসা পেয়ে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী কে রক্ষা করতে এই লড়াইয়ে নেমেছেন?
সেনাবাহিনীর অ্যাডজুটেন্ট জেনারেল মেজর জেনারেল এমএইচ হাকিমুজ্জামান গত ১১ অক্টোবর ঢাকা সেনানিবাস ক্যান্টনমেন্টে এক সংবাদ সম্মেলনে ১৪ কর্মরত আধিকারিক সহ ১৫ জনকে গ্রেফতারের কথা জানান। আর তার পরেই অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে সেনা জওয়ান ও আধিকারিকদের মধ্যে। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, দেশ ছাড়লে পদ হারাতে হতে পারে এমন আশঙ্কায় সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান দিল্লি ও সৌদি আরব সফর বাতিল করে দিয়েছিলেন। ১২-১৪ অক্টোবর ভারত সফরে যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। দিল্লি থেকেই সৌদি আরবে যাওয়ার কথা ছিল। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একাধিক সূত্র জানিয়েছে, প্রাণ বাঁচাতে কুমিল্লায় ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি জেনারেল নাজিমউদ্দৌলার শরণাপন্ন হয়েছিলেন ওয়াকার। ঢাকার সেনা সদর দফতর ছেড়ে কুমিল্লা সেনা ঘাঁটিতে আশ্রয় নিয়েছেন। তবে কি সেখান থেকেই সেনাপ্রধানের এই গোপন কৌশলে হাসিনার পরামর্শে ভারতের সাথে এই গোপন বৈঠক যাতে সাপও মরে লাঠিও না ভাঙ্গে। অর্থাৎ বাংলাদেশে যে এখন গৃহযুদ্ধ লেগে গেছে তা সহজেই অনুমেয়। ইউনুস এবং ওয়াকার দ্বন্দ্ব আগে থেকেই ছিল তা সবারই বোধগম্য এখন এটাই দেখার বাংলাদেশের সেনাপ্রধান ভারতের সেনাবাহিনীর কর্তাদের সাথে বৈঠকের পর আরো কত শক্তি সঞ্চয় করে ইউনূসের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে।












Discussion about this post