ঝড় ওঠার আগে একটি দমবন্ধ করা পরিবেশ তৈরি হয়। জুলাই সনদ স্বাক্ষরের দিন বাংলাদেশে তেমনই একটি আবহাওয়া তৈরি হয়েছিল। দেশের একপ্রান্তে হয়েছে বিক্ষোভ। পুলিশ সেখানে গিয়ে বিক্ষোভ সামাল দিতে গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, কাদের পুলিশ পিটিয়েছে। এরা সকলেই শহিদ পরিবারের সদস্য। সোশ্যাল মিডিয়া ওই বিক্ষোভ সমাবেশকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বেশ কয়েকটি ঘটনার মুহূর্তে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। আন্তর্জাতিক মহল ওই সব দৃশ্য থেকে ইউনূস সরকারকে ছিঃছিঃ করছে। এই হৃদয় বিদারক ঘটনাকে বিএনপির এক নেতা যে ভাষায় সমালোচনা করেছেন তা লজ্জাজনক বললে কম বলা হবে। বিএনপি নেতা সালাহাউদ্দনকে বলতে শোনা যায় এরা হাসিনার দোসর। আসলে বাংলাদেশে শুরু হয়েছে গৃহযুদ্ধ। হাসনাত, নাহিদ, সারজিসরা একে একে তদারকি সরকারের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছেন। এমনকী এনসিপিও মুখ খুলেছে। নাহিদকে সম্প্রতি জামায়াতের বিরুদ্ধেও মুখ খুলতে দেখা যায়। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করেন। সেই পোস্ট নিয়ে শুরু হয় গুঞ্জন। এদিকে, এনসিপি কেন জামায়াতের সমালোচনা করছে, তা নিয়েও কম কৌতুহল তৈরি হয়নি। অনেকেই বলছেন, জুলাই সনদে স্বাক্ষর করা আর না করা নিয়ে দুই দলের মধ্যে প্রবল মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে।
এনসিপির অবস্থান হল, আইনিভিত্তি নিশ্চিত হওয়ার আগে তারা সনদে সই করবে না। তারা এই নিয়ে জামায়াত সহ বিভিন্ন দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনাও করেছে। এনসিপির দাবি ছিল, জামায়াত এবং তাদের সমমনোভাবাপন্ন দলগুলিকে যেন জুলাই সনদে অংশগ্রহণ করতে না দেওয়া হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ছবি ভাইরাল হয়েছে। সেখানে দেখা গিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লা এবং সারজিস। পোস্টে সারজিস জানিয়েছেন, ৬ জুন সকাল থেকে একসঙ্গে আমাদের পথ চলা শুরু হয়েছিল। সেটা খুনি হাসিনার পতন পর্যন্ত পৌছেছিল। কারণ আমরা ফ্যাসিবাদী শক্তির বিপক্ষে ছিলাম। এটাই আমাদের বড় শক্তি মতপার্থক্য হবে। পক্ষে-বিপক্ষে কথা হবে। যুক্তি-তর্ক হবে। ভুল হবে আবার ভুল থেকে সংশোধন হবে। কিন্তু খুনি হাসিনার বিরুদ্ধে আমরা ঐক্যবদ্ধ। ২৪-য়ের গণহত্যার বিচারের দাবিতে আমরা ঐকবদ্ধ। যে কোনও বহিঃশক্তির বিরুদ্ধে আমরা ঐক্যবদ্ধ।
কিছুদিন আগে নাহিদ তার ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট করেন। সেখানে তিনি লেখেন, গণঅভ্যুত্থানের আলোকে সংবিধান ও রাষ্ট্র পুনর্গঠনের প্রকৃত প্রশ্ন থেকে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংস্কার প্রক্রিয়া এবং জাতীয় সংলাপকে ভিন্ন দিকে সরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্য পরিকল্পিতভাবে পিআর পদ্ধতিটি সামনে আনা হয়েছিল। জাতীয় নির্বাচনে পিআর পদ্ধতিতে ভোট করার যে আন্দোলন জামায়াত করেছে, সেটিকে কথিত আন্দোলন বলেও উল্লেখ করেন এই নেতা। তিনি লিখেছেন, জুলাই অভ্যুত্থানের আগে ও পরে কখনই সংস্কার আলোচনায় যু্ক্ত হয়নি জামায়াত। তারা কোনও কার্যকর প্রস্তাব দেয়নি। কোনো সাংবিধানিক দৃষ্টিভঙ্গি তারা উপস্থাপন করেনি। তারা গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের প্রতি কোনও অঙ্গীকার করেনি।
নাহিদ আরও লেখেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের অধীনে সংস্কারের বিষয়টি জামায়াত যে আকস্মিক অনুমোদন দিয়েছে, সেটা সংস্কার আকাঙ্খার ফল নয়। বরং একটি কৌশলগত অনুপ্রবেশ। সংস্কারবাদের ছদ্মবেশে এটি একটি রাজনৈতিক অন্তর্ঘাত। তিনি আরও লেখেন, আমরা মৌলিক সংস্কার ও বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে জুলাই সনদের আইনি কাঠামো তৈরির জন্য একটি আন্দোলন গড়ে তুলতে চেয়েছিলাম।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post