২০২৫ কি নতুন মোড়কে মুক্তিযুদ্ধের পুনরাবৃত্তি দেখবে? প্রশ্নটা উঠছে সে দেশের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের নিরিখে ভারতীয় সেনার গোয়েন্দা শাখার চার সদস্যের এক প্রতিনিধিদলের ঢাকা সফর। প্রথমত, এই সফরের খবর যাতে পাঁচকান না হয়, তার জন্য দুই বাহিনীর তরফে চেষ্টা চলে। ভারতের একটি গণমাধ্যম প্রথম এই খবর তাদের প্রতিবেদনে প্রকাশ করে। গত বছর অগাস্টে সে দেশে ঘটেছে গণঅভ্যুত্থান। তার পর থেকে একের পর এক ঘটনা ঘটে গিয়েছে। যে সব ক্ষেত্রে ঢাকা থেকে দিল্লিকে কাঠগড়ায় তোলার চেষ্টা হয়েছে, দিল্লি কড়া ভাষায় সমুচিত জবাব দিয়েছে। যেমন পার্বত্যচট্টগ্রামের ঘটনার কথাই ধরা যাক। তদারকি সরকার এবং তাদের দুই উপদেষ্টা এই ঘটনার জন্য দিল্লিকে দায়ী করে। বলা হয় খাগড়াছড়িতে গোষ্ঠী সংঘর্ষের নেপথ্যে রয়েছে ভারতের ইন্ধন। সাউথব্লক অভিযোগ নস্যাৎ করে। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল ঢাকার অভিযোগকে ‘ভুয়ো’ এবং ‘ভিত্তিহীন’ বলে খারিজ করে দিয়েছেন। বিষয়টা এতদিন পর্যন্ত বিবৃতি এবং পাল্টা বিবৃতির মধ্যে ছিল। ভারত প্রথম সামরিক পদক্ষেপ করে গত ১৪ অক্টোবর। ওই দিন ভারতীয় সেনার গোয়েন্দা শাখার এক প্রতিনিধিদল, যার নেতৃত্বে ছিলেন মেজর জেনারেল কুন্দন কুমার সিং। প্রাথমিকভাবে তাদের থাকার কথা ছিল ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত। সূত্রের খবর, তারা তাদের সফরের মেয়াদ আরও একদিন বাড়িয়ে দেয়।
তাদের এই সফরের মেয়াদ বৃদ্ধির কারণ চিন, আমেরিকা, পাকিস্তান এমনকী তুরস্ক থেকে তাদের সেনাপ্রতিনিধিরা ঢাকা সফর করেন। এই সব সফরের উদ্দেশ্যই ছিল সাউথব্লককে চাপে রাখা। সাউথব্লকের দরকার ছিল একটা পাল্টা চাপ দেওয়ার। সেই পালটা চাপ হল ভারতীয় সেনাগোয়েন্দাদের ঢাকার সফর। এই প্রসঙ্গে আরও একটি বিষয় স্পষ্ট করা দরকার। ১৯৭১-য়ের মুক্তিযুদ্ধে ভারত কিন্তু প্রথম দিকে পাকিস্তানের হার্মাদদের বিরুদ্ধে সেনা অভিযান চালায়নি। সেনা অভিযানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার ১০ মাস বাদে। এই প্রসঙ্গে আরও একটা বিষয় উঠে আসছে। কোনও কোনও সমরবিশেষজ্ঞের মতে, পাকিস্তান সেনা শিয়ালকোটে হামলা না চালালে হয়ত দিল্লি সেনা অভিযানে যেত না।
মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গে তোলা হচ্ছে একটাই কারণে। এবারেও কি সাউথ ব্লক তেমন কোনও পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে? যদিও নাই করে থাকে তাহলে কেন সাউথব্লক থেকে আচমকা সেনা গোয়েন্দাদের এক প্রতিনিধিদলকে ঢাকা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হল? মূল কারণ রয়েছে অন্য জায়গায়। ভারতীয় সেনা গোয়েন্দাদের কাছে খবর এসেছেন বাংলাদেশ সীমান্তের চিকেন নেক লাগোয়া অঞ্চলে কিছু জঙ্গি আশ্রয় নিয়েছে। তাদের কাজ সেখান থেকে ভারত বিরোধী কার্যকলাপ চালিয়ে যাওয়া। সেটা ভারতীয় সেনা গোয়েন্দারা আগাম টের পেয়ে গিয়েছে। তাই, বাংলাদেশকে পালটা চাপে রাখতে সাউথব্লক সে দেশে চার সেনাসদস্যের এক প্রতিনিধিদলকে ঢাকা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এটাকে অনেকে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ভারতের সামরিক পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছে। অনেকে মনে করছেন, সাউথব্লক হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর তোরজোর করছে। তাই, সে দেশের পরিস্থিতি কেমন, তা সরেজমিনে খতিয়ে দেখার জন্য সাউথব্লক সেনাগোয়েন্দাদের ঢাকা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
এদিকে, ইউনূস যাদের নিয়ে এতদিন ধরে ঘর সংসার করছিলেন, তারা এখন চাইছে পুরনো সংসার থেকে বেরিয়ে নতুন সংসার গঠন করতে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post