গত বছর জুলাই-অগাস্টের কথা মনে আছে নিশ্চই? একের পর এক সরকারিভবন দাউ দাউ করে জ্বলছে। তারপর আর বাংলাদেশে নতুন করে আগুন লাগেনি, এটা বলা যাবে না। সেই আগুন চোখে দেখা যায় না, অনুভব করা যায়। অনেকে বলছেন, গত বছর সেতুভবন, মেট্রোরেলভবন, বিটিবিভবনের অগ্নিকাণ্ড কোনও দুর্ঘটনা থেকে নয়। ইচ্ছাকৃতভাবেই আগুন লাগানো হয়েছিল। সর্বশেষ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা সোমবারের। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো কমপ্লেক্সে আগুন লাগে। এই কার্গো কমপ্লেক্সের কোনও বিমা ছিল না। সাধারণ বিমা কর্পোরেশেনের নথি অনুযায়ী, দেশের ৫৮৭টি কি পয়েন্ট ইন্সটলেশনের (কেপিআই) মধ্যে মাত্র ৮৬টি সরকারি সংস্থার বিমা করা আছে। দেশের অধিকাংশ সংস্থার কোনও বিমা নেই। তার মধ্যে রয়েছে বঙ্গভবন, গণভবন, জাতীয় সংসদ ভবন, সচিবালয়, বিটিবি ভবন, বিমানবন্দর ও কারাগার। বিমানবন্দরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এক বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। এর অবসম্ভাবি প্রভাব পড়বে রপ্তানিমুখী পোশাক ও ওষুধ শিল্পে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাজারের ব্যবসাগুলোর ওপরেও পড়বে।
এই প্রথম রাষ্ট্রের উদাসীনতা প্রকাশ্যে এল এমন নয়। গত বছর কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের কারণ ঢাকা মেট্রোরেলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অগ্নিকাণ্ড ছাড়াও গত এক বছরে বাংলাদেশে একাধিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুন লাগে আশুলিয়া, মীরপুর, চট্টগ্রাম এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন, ইনসেপ্টা ফারমাসিউটিক্যালসেও। বাংলাদেশের তথ্যভিজ্ঞ মহল বলছে, প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও উদাসীনতার কারণেই এক বছরের মধ্যে এত জায়গায় আগুন লেগেছে। আর ‘দ্য এক্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-য়ের’ (ইএবি) সভাপতি মহম্মদ হাতেম স্পষ্টভাবে সরকারকে দায়ী করেছেন। তিনি বলছেন, সরকার এই সব ঘটনার দায় কাঁধ থেকে ঝেড়ে ফেলতে পারে না।
এই সব ইস্যুতে বাংলাদেশের অনেকে গত জুলাই অগাস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে আনছেন। তাঁদের মতে, গণঅভ্যুত্থান বলতে সাদা চোখে যা বুঝি বা বিশ্ব যে সব ঘটনার সাক্ষী থেকেছে, সেই সব ঘটনার সঙ্গে বাংলাদেশের ঘটনার কোনও মিল নেই। যে কোনও দেশে সরকারের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান মানে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে জনগর্জন। স্বৈরাচারী শাসনের অবসান চেয়ে মানুষ মাঠে নামে। আর বাংলাদেশে যেটা হয়েছে, সেটা স্বৈরাচারী শাসকের বিরুদ্ধে কোনও গণআন্দোলন নয়। এটা আসলে বাংলাদেশের পতনে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন। বাংলাদেশের সুশীল সমাজের একাংশ মনে করছে, তাদের দেখার ভুল ছিল। সময় যত গড়িয়েছে দৃশ্যপটের বদল ঘটেছে। আর হীরের মতো স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে কী উদ্দেশ্যে একটি নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতা থেকে সমূলে পতন ঘটানো হয়েছিল। তাই, ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক কার্গো কমপ্লেক্সে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে কোনওভাবেই বিচ্ছিন্ন একটি ঘটনা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। এটা করা হয়েছে যাতে আন্তর্জাতিকমহলে বাংলাদেশ সম্পর্কে একটি নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়। ইএবি সভাপদতি মহম্মদ হাতেম তো সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘আগুনে শুধু পণ্য পুড়ে ছাই হয়নি – আগুনে পুড়ে গিয়েছে একটা বিশ্বাস। ’
আর বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলাম তো সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘মেট্রোরেলে আগুন, পুলিশকে হত্যা না করা হলে এত সহজে বিপ্লব অর্জন করা যেত না। আমরা এটাকে বিপ্লব বা গণঅভ্যুত্থান যাই বলি না কেন, এটা কোনও সাংবিধানিক নিয়ম মেনে হয়নি। আইন মেনে করতে গেলে বিপ্লব কোনওভাবেই সংঘটিত হত না। ’
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post