এমন করে কেউ পালটি খেতে পারে, সেটা কেউ ঘুনাক্ষরে টের পাননি।
তদারকি সরকারের তরফে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল বা আইসিটি) হাসিনার জন্য আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছিল আমির হোসেনকে। তাঁর দায়িত্ব ছিল বঙ্গবন্ধুর কন্যা, যাঁর বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী নানা অপরাধে লিপ্ত থাকার অভিযোগে মামলার দায়ের হয়েছে, গায়ে সামলা চাপিয়ে আদালতে তাঁর হয়ে ওই মামলার সওয়াল করা। আর তিনিই বলছেন –ধর্মাবতার, হাসিনাকে মুক্তি দিন। উনি কোনও অপরাধ করেননি।
শুনতে কেমন কেমন লাগলেও এটাই হয়েছে। আমির হোসেনের এই চালে বেজায় প্যাঁচে পড়েছে আইসিটি। কারণ, আদালতে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করতে হলে অভিযোগের স্বপক্ষে প্রমাণ পেশ করতে হয়। কিন্তু হাসিনার বিরুদ্ধে যে অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে, সেই অভিযোগ প্রমাণ করার জন্য আইসিটিতে কোনও প্রমাণ পেশ করা যায়নি। সুতরাং, টেকনিক্যালি তাঁর এই দাবি আইনের দৃষ্টিভঙ্গীতে যুক্তিযুক্ত। সেই সঙ্গে এটাও জানিয়ে দেওয়া ভালো যে হাসিনা বা তাঁর দলের তরফ থেকে আদালতে মামলা লড়ার জন্য আমির হোসেনকে নিয়োগ করা হয়নি। তাঁকে নিয়োগ করেছে তদারকি সরকার।
কী বলেছেন আমির হোসেন? গত সোমবার, ২০ অক্টোবর আইসিটি –য়ের ১কে ওই মামলার শুনানি চলছিল। ওই দিন হাসিনা-সহ তিন আসামির বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগের বাদি এবং বিবাদি পক্ষের আইনজীবীর সওয়াল-জবাব চলছিল। শুনানি শেষে এক ব্রিফিংয়ে হাসিনার পক্ষে সরকারি আইনজীবী বলেন,‘শেখ হাসিনা নিরাপরাধ। তাঁর এবং আসাদুজ্জামান খানের মুক্তি চাই।’ কেন তিনি এই দুইয়ের মুক্তি চেয়েছে, সেটাও দ্বর্থ্যহীন ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন। আমির হোসেন বলেন, ‘হাসিনার বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ আনা হয়েছে সেগুলি ঠিক নয়। তাছাড়া ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে যে সব সাক্ষ্য প্রমাণ এসেছে, তা দিয়ে অভিযোগের ওপর সিলমোহর দেওয়া যায় না। যেহেতু অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি, তাই বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা এবং তাঁর প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জমান খান কামালের মুক্তি চাইছি। এই মামলায় সরকারের তরফে ৫৪জনকে সাক্ষী হিসেবে আনা হয়। তদন্তকারীরা ছাড়াও এই মামলায় সাক্ষা দিয়েছেন সে দেশের একটি দৈনিকের সম্পাদক, জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তবে এই মামলার মূল দুই আসামি এখনও পলাতক। তারা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাননি।
এদিকে, আইসিটি তদারকি সরকারকে বলেছে, হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার নোটিশ একটি ইংরেজি জাতীয় দৈনিক এবং একটি বাংলায় জাতীয় দৈনিকে প্রকাশ করতে। এই নির্দেশ দিয়েছে আইসিটির তিন বিচারকের বেঞ্চ। তিন বিচারক হলেন আইসিটির চেয়ারম্যান বিচারক মহম্মদ গোলাম মর্তুজা মজুমদার, বিচারক সাফিউল আলাম মামুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা আদালতের বিচারক মো. মহিতুল হক ইনাম চৌধুরী। এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী ২০ নভেম্বর।
অপরদিকে, মানবতাবিরোধী অপরাধের পৃথক তিন মামলার আসামী ১৫ কর্মকর্তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বুধবার, ২২ অক্টোবর সকাল ১০টার দিকে, ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গনে থাকা কারা কর্তৃপক্ষের একটি প্রিজন ভ্যানে এদের তোলা হয়। তাদের আইনজীবী এম সরোয়ার হোসেন এদিন ট্রাইব্যুনালে শুনানি শেষে বলেন, তাঁর মক্কেলদের সাবজেলে রাখা হবে। গত ১১ অক্টোবর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়, ১৫ জন কর্মকর্তাকে সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন কর্মকর্তা অবসর প্রস্তুতি মূলক ছুটিতে আছেন।












Discussion about this post