বাংলাদেশ জাতীয় নির্বাচনের আর খুব বেশি দেরি নেই। এই নিয়ে কোনওরকম তর্ক-বিতর্কে না গিয়ে সরাসরি বিষয়ে ঢুকে পড়া যাক। আওয়ামী লীগ এবং দলনেত্রী, যিনি এখন ভারতে রয়েছেন, তিনি এবং তাঁর দল কি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন? তদারকি সরকারের তরফ থেকে দলটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণার অর্থ তাদের যাবতীয় রাজনৈতিক কর্মসূচির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা। এর পরবর্তী ধাপ হিসেবে তদারকি সরকার হাসিনার ভোটাধিকার কেড়ে নেয়। এর উদ্দেশ্য একটাই। ভারতে থেকেও যাতে তিনি সংবিধান প্রদত্ত নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করতে না পারেন, তার একটা আপাত চিরস্থায়ী ব্যবস্থা করা। আপাত বলত হচ্ছে এই কারণে যে সবাই প্রায় নিশ্চিত যে হাসিনার দল ক্ষমতায় ফিরতে চলেছেন। এবং অতীতের থেকে আরও বেশি সংখ্যক আসনে জয়ী হয়ে। এবার প্রতিবেদনের মূল প্রশ্ন নিয়ে ময়নাতদন্ত করে দেখা যাক।
বাংলাদেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (চিফ ইলেকশন কমিশনার বা সিইসি) মহম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন,‘যে দলটির কথা বলা হচ্ছে (আওয়ামী লীগ), আইনগতভাবে এখন ওই দলটির কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। স্থগিত থাকলে সব কিছুই স্থগিত। ’ সিইসি আরও বলেন, এই সিদ্ধান্ত তদারকি সরকারের নয়। সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।’ তবে বর্তমানে দলের বেশ কয়েকজন কর্মী, হাসিনা আমলের প্রশাসনের প্রাক্তন বেশ কয়েকজন কর্তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-য়ে (ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল বা আইসিটি) মামলা চলছে। সেই প্রসঙ্গ উত্থাপন করে সিইসি বলেন, ‘ বিচার সম্পন্ন হওয়ার আগে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। তবে নির্বাচনের আগে বিচার প্রক্রিয়া শেষ হয়ে গেল, সে ক্ষেত্রে ওই দলের নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা করা যেতা পারে।’ সম্প্রতি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের সচিব জানিয়েছিলেন, ওপার বাংলার নির্বাচনের ক্ষেত্রে সেই দেশের বাইরে থেকে ভোট দেওয়া যাবে না। পাশাপাশি যাদের এনআইডি (ন্যাশনাল আইডেন্টিটি কার্ড বা জাতীয় নাগরিকপত্র) বন্ধ করা বা বাতিল করা হয়েছিল, তারাও ভোটে অংশ নিতে পারবে না। উল্লেখ করার মতো বিষয় হল কমিশন থেকে যাদের জাতীয় নাগরিক পত্র বাতিল করা হয়েছে, তাদের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠই হয় আওয়ামী লীগ নেতা না বা এই দলের কোনও কোনও শীর্ষপদে আসীন।
তর্কের খাতিরে ধরে নেওয়া গেল আওয়ামী লীগ নির্বাচনে লড়ছে না। এখন সেখানে কী খেলা চলছে? সেনার সঙ্গে, সেনা কর্তা জেনারেল ওয়াকার উজ জামানের সম্পর্ক যে কেমন তা আর নতুন করে বলার দরকার পড়ে না। পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছে বিএনপি। তারা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছে। কিছুদিন আগে দলের তরফে তদারকি সরকার প্রধান ইউনূসকে একপ্রকার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল। বলা হয়, তিনি যেন বাহিনীর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখেন। এর একটাই উদ্দেশ্য। বাহিনীর কর্তা-ব্যক্তিদের মাথা ঠাণ্ডা রাখা। এমনিতে সেনা বলে কথা। রক্ত সব সময় গরম। কোনও কারণে মেজাজ হারালে সবার সব ছক তারা ভেস্তে দেবে। বিএনপি যে পরিকল্পনা করছে, সেই পরিকল্পনা পদ্মার জলের তোরে ভেসে কোথায় গিয়ে পড়বে সেটা কেউ অনুমান করতে পারছে না। কিন্তু তাদের একটা ভয় রয়েছে।
সম্প্রতি ইউনূস জাতিসঙ্ঘে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হতে পারে। আর সেই সাক্ষাৎকার শুনে বিএনপি-র রাতের ঘুম উড়ে গিয়েছে। তাই, তারা এখন সেনাকে মই করেছে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post