আমরা ইতোমধ্যে জেনে গিয়েছি, ভারতীয় সেনার গোয়েন্দা শাখার এক প্রতিনিধিদল গিয়েছিল বাংলাদেশে। প্রাথমিকভাবে এই সফরের খবর গোপন রাখা হয়। এই সফরের খবর প্রথম প্রকাশ করে ভারতের একটি গণমাধ্যম। যদিও সেই খবর নিয়ে পরবর্তীকালে খুব একটা চর্চা হয়নি। ধরে নেওয়া হয়েছিল, সেনা গোয়েন্দারা তাদের সফর বাতিল করেছে। পরে বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম তাদের প্রথম পাতায় ভারতীয় সেনা গোয়েন্দাদের সে দেশ সফরের খবর প্রকাশ করে। এখন প্রশ্ন হল, কী কারণে আচমকাই আমাদের দেশের সেনাবাহিনীর গোয়েন্দারা বাংলাদেশ যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল?
প্রথমই জানিয়ে রাখা ভালো, এই সফর কোনওভাবেই আচমকা বলা যাবে না। কারণ, কোনও দেশের সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা শাখা কোনও দেশে হঠাৎ করে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় না। তারা পরিস্থিতির দিকে নজর রাখে। এক কথায় জল মাপা। বিভিন্ন সূত্রে তারা গন্তব্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে তথ্য জোগাড় করে। তারপর তারা সফরের দিন তারিখ চূড়ান্ত করে।
বাংলাদেশের অস্থির পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর ছিল ভারতীয় সেনা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের। ভারতীয় সেনার গোয়েন্দা শাখার কাছে নির্ভরযোগ্য সূত্রে খবর আসে, লালমনির হাটে গড়ে উঠেছে জঙ্গি শিবির। সম্প্রতি তারা খবর পায়, বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান লালমনির হাট গিয়েছিলেন। সেখানে একটি বায়ুসেনা ছাউনি তৈরি হচ্ছে। মাটির তলায় তৈরি হবে হ্যাঙার। যেখানে থাকবে যুদ্ধবিমান। বাংলাদেশ সেনার এই গোপন অভিসন্ধির খবর যেমন সেনা গোয়েন্দারা পেয়েছে, পেয়েছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদেশ মন্ত্রকের এক মুখপাত্র ভারতের একটি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বাংলাদেশ সেনার এই কার্যক্রম আমাদের দেশের পক্ষে ঝুঁকি হয়ে উঠছে। লালমনির হাট রয়েছে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের খুব কাছে। আর সেখান থেকে চিকেন নেক-য়ের দূরত্ব খুব বেশি নয়। ভারতীয় সেনা গোয়েন্দারা এটাও জেনে যায় যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই সব কার্যকলাপের পিছনে পাকিস্তানের আইএসআই রয়েছে। তাই, ঢাকা এবং উত্তরপাড়ার ওপর চাপ করতে আমাদের দেশের সেনাগোয়েন্দারা বাংলাদেশ গিয়েছিলেন। এই সফরে আরও একটি দিক বিশেষ উল্লেখযোগ্য। গিয়েছিলেন ১৪ অক্টোবর। ১৬ অক্টোবর তাদের ফিরে আসার কথা থাকলেও সফরের মেয়াদ আরও একদিন বাড়িয়ে দেন। ঢাকা থেকে দিল্লির উদ্দেশ্যে তাঁরা রওনা দেন ১৭ অক্টোবর। সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে ভারতের একটি গণমাধ্যম জানিয়েছে, তাদের এইসফরের আরও একটি উদ্দেশ্য রয়েছে। সেটা হল বাংলাদেশের তৈরি হওয়া রাজনৈতিক অস্থিরতা পারদ কতটা উঠেছে, সেটা দেখতে তারা সে দেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। নানা প্রান্ত থেকে তাদের কাছের খবর আসছিল। সেই খবরের সত্যতা কত, সেটা সরেজমিনে দেখতে তারা ঢাকা যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কোনও কোনও সংবাদমাধ্য বলছে, সফররত সেনা গোয়েন্দারা জেনারেল ওয়াকার- উজ জামানের সঙ্গেও দেখা করেন। তাঁর হাতে তুলে দেন বেশ কিছু প্রমাণ। সেটা হল বাংলাদেশের লালমনির হাটে যে জঙ্গি শিবির তৈরি হয়েছে এবং সে দেশের সেনাবাহিনী সব কিছু জেনে হাত গুটিয়ে বসে রয়েছে, সেটা জেনারেল ওয়াকারকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিতেই তারা ঢাকা গিয়েছিলেন। ঘুরে দেখেন লালমনির হাট এবং ঠাকুরগাঁও।
ভারতীয় সেনার তরফ থেকে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়ে সেনাপ্রধান ওয়াকারের ঘুম উধাও হয়ে যায়। ভারতীয় সেনা গোয়েন্দারা যেদিন দিল্লি ফেরেন, সেদিন জেনারে ওয়াকার গিয়েছিলেন ওই দুই জায়গায়। উদ্দশ্যে তাঁর হাতে আমাদের দেশের তরফ থেকে যে তথ্যপ্রমাণ, দলিল, দস্তাবেজ তুলে দেওয়া হয়েছে সেটা আসল না নকল।












Discussion about this post